ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মোজতবা খামেনি © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের নিবিড় আলোচনার মধ্যে ৪৫ দিনের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রচেষ্টা এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাময়িক এই যুদ্ধবিরতি ভবিষ্যতে স্থায়ী সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস একাধিক মার্কিন, ইসরায়েলি ও আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা চলছে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে পাঠানো খুদে বার্তার মাধ্যমেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আংশিক কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই ‘ক্ষীণ’।
ইরানের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারা গাজা বা লেবাননের মতো পরিস্থিতিতে যেতে চান না, যেখানে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও যেকোনো সময় হামলার সুযোগ থেকে যায়।
প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিরতি দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৪৫ দিনের জন্য ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একে অপরের ওপর হামলা থেকে বিরত থাকবে। একই সময় মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে তিন পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সময়সীমার আলোচনাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া এবং সমঝোতা চুক্তিতে আসার জন্য একাধিক ডেডলাইন দিয়েছেন। সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাড়া না পেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘একটি ভালো সুযোগ ইরানের সামনে আছে, কিন্তু যদি তারা কোনো সমঝোতা চুক্তিতে না পৌঁছায়— আমি ইরানের সবকিছু উড়িয়ে দেবো’।
তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সূত্র মনে করছে, ট্রাম্পের এসব আল্টিমেটাম ইরান মেনে নেবে— এমন সম্ভাবনা কম। বরং চলমান আলোচনায় প্রস্তাবিত ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতিই এই সংঘাতের উত্তেজনা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।