ইরাকি জাহাজে হামলা © সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকার আগ্রাসন মুলক হামলা শুরুর পর এবার পারস্য উপসাগর অঞ্চলে আরও ৬টি জাহাজে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরাকের জলসীমায় তেলের ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরকবোঝাই ইরানি বোটের হামলায় গতকাল বুধবার এক ক্রু সদস্য নিহত ও ২ টি জাহাজ ভস্মীভূত হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে আরও চারটি জাহাজে প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা) হামলার পরপরই এ ঘটনা ঘটল। খবর রয়টার্সের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর এই হামলা ইরান যুদ্ধের এক বড় ধরনের বিস্তার হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্য) হামলার শিকার হওয়া জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৬টিতে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর থেকে পারস্য উপসাগর ও সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০% এ রুট দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের জন্য ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি তেল রপ্তানি বন্ধের চেষ্টা করে, তবে ওয়াশিংটন আরও কঠোরভাবে দেশটিতে আঘাত হানবে। তিনি তেল কোম্পানিগুলোকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে দাবি করেন, ‘ইরানের নৌবাহিনীর প্রায় সবটাই এখন ধ্বংস হয়ে গেছে।’
এদিকে নিজের জলসীমায় জাহাজে হামলা নিয়ে ইরাকি বন্দর কর্মকর্তাদের দাবি, গতকাল গভীর রাতে হামলার শিকার হওয়া জাহাজ দুটি হলো মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘সেফ সি বিষ্ণু’ ও মাল্টার পতাকাবাহী ‘জেফিরোস’। জাহাজ দুটি ইরাক থেকে জ্বালানি পণ্য বোঝাই করেছিল।
ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন সংস্থা সোমো জানিয়েছে, ‘সেফ সি বিষ্ণু’ জাহাজটি তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ একটি ইরাকি কোম্পানি ভাড়া করেছিল। আর ‘জেফিরোস’ জাহাজ বসরা গ্যাস কোম্পানির জ্বালানি পণ্য নিয়ে যাচ্ছিল।
তারা আরও জানিয়েছে, ইরাকি জলসীমার ভেতর এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের সময় দুটি জাহাজই আক্রান্ত হয়।