ল্যাটিন আমেরিকায় চীনকে ঠেকাতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র 

০৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩১ PM
 চীনকে ঠেকাতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র

চীনকে ঠেকাতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র © সংগৃহীত

ক্ষমতার পালাবদল ও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার দাবিতে ইরানে আকস্মিক হামলা করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে মার্কিনীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ইসরায়েলও। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলটিতে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই এবার ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর দিকে নজর দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে এবং নিজেদের বলয় শক্তিশালী করতে আজ ফ্লোরিডায় ল্যাটিন আমেরিকান নেতাদের নিয়ে একটি বিশেষ কূটনৈতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চের শেষে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা রয়েছে। তার আগেই ল্যাটিন আমেরিকাকে ওয়াশিংটনের আরও কাছে টেনে আনতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলে চীনের বাণিজ্য, বিশাল অঙ্কের ঋণ এবং অবকাঠামো বিনিয়োগ ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ল্যাতিন নেতাদের সঙ্গে এ বিশেষ বৈঠকের নাম দেওয়া হয়েছে ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’। এর মাধ্যমে ট্রাম্প ঘরের কাছের অঞ্চলে নিজের শক্তি ও কর্তৃত্ব জাহির করার সুযোগ পাচ্ছেন, বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এই প্রকল্পের বিশেষ দূত হিসেবে ক্রিস্টি নোমকে নিয়োগ দিয়েছেন ট্রাম্প। নোম এর আগে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ছিলেন, কিন্তু কংগ্রেসের ব্যাপক সমালোচনার মুখে চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প তাকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেন।


এই সম্মেলনে মূলত ট্রাম্পের আদর্শের অনুসারী রক্ষণশীল নেতারাই অংশ নিচ্ছেন। যা ল্যাটিন আমেরিকার একটি বড় অংশের ডানপন্থী রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রতিফলন। আমন্ত্রিতদের মধ্যে রয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই, চিলির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত এবং এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে।

এ ছাড়া সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট নাসরি আসফুরা, যিনি ট্রাম্পের সমর্থনে একটি বিতর্কিত নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন এবং ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া, যিনি সম্প্রতি মাদক পাচার দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের আমেরিকা প্রোগ্রামের প্রধান রায়ান বার্গ রয়টার্সকে বলেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটিই প্রথম এ ধরনের বড় সম্মেলন। আলোচনার মূল বিষয় হবে নিরাপত্তা, মাদক পাচার, অর্থ পাচার এবং বন্দর ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোতে চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা।


পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ৫১৮ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ছুঁয়েছে এবং বেইজিং এই অঞ্চলের সরকারগুলোকে ১২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ দিয়েছে। আর্জেন্টিনায় স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং স্টেশন স্থাপন থেকে শুরু করে পেরুতে বিশাল বন্দর নির্মাণ এবং ভেনেজুয়েলায় অর্থনৈতিক সমর্থন—সব মিলিয়ে চীনের এই বিশাল পদচারণা ওয়াশিংটনের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাই ওয়াশিংটন এখন এই অঞ্চলের সরকারগুলোকে বন্দর ও জ্বালানি খাতের মতো কৌশলগত সম্পদ থেকে চীনকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। সম্প্রতি পানামা খালসংলগ্ন কার্যক্রমে যুক্ত হংকংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পানামা কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপ সেই চাপেরই একটি বড় উদাহরণ।

ইরানের ৪২ টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প
  • ০৭ মার্চ ২০২৬
কোনো অবস্থাতেই আত্মসমর্পণ করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান
  • ০৭ মার্চ ২০২৬
নেপালের থেকে বাংলাদেশের নির্বাচনে অভ্যুত্থানের প্রভাব বেশি …
  • ০৭ মার্চ ২০২৬
বাকৃবিতে বাঁধনের নতুন কমিটি ঘোষণা
  • ০৭ মার্চ ২০২৬
দায়সারা কার্যক্রমের অভিযোগ ইবির শিক্ষক সংগঠনের বিরুদ্ধে, শি…
  • ০৭ মার্চ ২০২৬
পাম্পে তেলের সংকটের কারণ জানাল মালিক সমিতি
  • ০৭ মার্চ ২০২৬