পাঁচলাইশ থানা © সংগৃহীত
চট্টগ্রাম নগরীতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড হারিয়েছেন এক পরীক্ষার্থী। এ কারণে সোমবারের জীববিজ্ঞান প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তিনি।
ভুক্তভোগী নাজিয়াত শওকত তারিমের বয়স ২০ বছর। ঘটনার সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকাও নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে নগরের শহীদ ওয়াসিম ফ্লাইওভারের মুরাদপুর অংশে এ ঘটনা ঘটে। নাজিয়াতের বড় ভাই তাহমীম শওকত তাহিমের করা লিখিত অভিযোগে বিষয়টি জানা গেছে।
অভিযোগে বলা হয়, জীববিজ্ঞান প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে শুলকবহর এলাকা থেকে এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ কেন্দ্রের উদ্দেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন নাজিয়াত।
অটোরিকশাটি শহীদ ওয়াসিম ফ্লাইওভারের ওপর উঠলে মুরাদপুর এলাকায় ইশারা দিয়ে থামান দুই ব্যক্তি। তারা নিজেদের ব্যাংকের চাকরিজীবী বলে পরিচয় দেন। দ্রুত কর্মস্থলে যাওয়ার কথা বলে চালককে তাদের গাড়িতে তুলে নিতে বলেন। পরে ওই দুই ব্যক্তি নাজিয়াতের নাক-মুখে রুমাল চেপে ধরেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অচেতন হওয়ার পর তার কাছে থাকা ফাইল থেকে এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড নিয়ে যায় তারা। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন এবং মানিব্যাগে থাকা ৫০০ টাকাও নিয়ে নেয়।
পরে নাজিয়াতকে অচেতন অবস্থায় কালুরঘাট সেতু এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
জ্ঞান ফেরার পর নাজিয়াত কাপ্তাই রাস্তার মাথা পুলিশ বক্সে গিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে বিষয়টি জানান। পরে খবর পেয়ে তার বড় ভাই সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
নাজিয়াত নগরের বহদ্দারহাট আল আমিন হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা শওকত আলীর ছেলে। ঘটনার কারণে তিনি সোমবারের জীববিজ্ঞান প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
পরীক্ষা দিতে না পারায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সোমবার রাতে ওসির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।