বন্ধ হরমুজ প্রণালী, প্রথম দিনে কত শতাংশ বাড়ল তেলের দাম?

০১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩২ PM
হরমুজ প্রণালী

হরমুজ প্রণালী © সংগৃহীত

অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালী বন্ধের কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতি ব্যারেলের দাম ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বাজারের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আইসিআইএস-এর এনার্জি ও রিফাইনিং ডিরেক্টর অজয় পারমার বলেন, সামরিক হামলাগুলো তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখলেও আসল কারণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া।

বাণিজ্যিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর বেশিরভাগ ট্যাঙ্কার মালিক, বড় তেল কোম্পানি এবং ট্রেডিং হাউসগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি এবং এলএনজি পরিবহন স্থগিত করেছে। বিশ্বের ২০ শতাংশের বেশি তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

পারমার আরও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে সপ্তাহের শুরুতে বাজার চালুর পর তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকবে। প্রণালীটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তা ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা ওয়াশিংটনকে আগেই সতর্ক করেছিলেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে নিয়ে যেতে পারে। এদিকে ওপেক প্লাস গ্রুপ রোববার জানিয়েছে, তারা এপ্রিল থেকে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়াবে। যা বৈশ্বিক চাহিদার ০.২ শতাংশেরও কম।

জ্বালানি গবেষণার সংস্থা রাইস্ট্যাড এনার্জির অর্থনীতিবিদ জর্জ লিওন জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প পথ (যেমন সৌদি আরব বা আবুধাবির পাইপলাইন) ব্যবহার করলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি দেখা দেবে। রাইস্ট্যাডের মতে, বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে দাম ২০ ডলার বেড়ে প্রায় ৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

ইরান সংকটের ফলে এশীয় দেশগুলোর সরকার এবং শোধনাগারগুলো এখন তাদের তেলের মজুত খতিয়ে দেখছে। তারা বিকল্প শিপিং রুট ও সরবরাহের পথ খুঁজছে।

দ্বিতীয় দিনে পাল্টাপাল্টি হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানের দ্বিতীয় দিনেও ইরানে হামলা অব্যাহত আছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা নতুন করে হামলা শুরু করেছে। এবারের অভিযানের লক্ষ্য তেহরানের অন্য শীর্ষ নেতারা। পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরানও।

তেহরানের হামলা মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মর্কিন মিত্র দেশগুলোকেন্দ্রিক। প্রকাশিত কিছু ছবির বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, বাহরাইনের রাজধানী মানামা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের জাবেল আলি বন্দরে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। আর আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের রিয়াদেও নতুন করে হামলা হয়েছে।

ওমানে রোববার দেশটির একটি বন্দরে ড্রোন হামলায় এক কর্মী আহত হয়েছেন। পৃথক একটি হামলায় তেলবাহী ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে থাকা চারজন ক্রু আহত হয়েছেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, পাইলটরা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি এবং ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে সফলভাবে হামলা করেছেন। এই অঞ্চলের সমস্ত ‘শত্রু সামরিক ঘাঁটি’ এখন ইরানি বিমান বাহিনীর আওতার মধ্যে আছে।

দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেছেন, ‘ইরান আজ শোকাহত। কিন্তু এই শোক নিষ্ক্রিয়তার শোক নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভেবেছিল সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করে একটি জাতির আত্মাকে কাঁপিয়ে দেবে। কিন্তু ইসলামি বিপ্লব শাহাদাতের মাধ্যমে আরও বেশি সুদৃঢ় হয়।’ বর্তমান কৌশল নিয়ে রেজা আরেফ বলেন, এখন জাতীয় স্থিতিশীলতা ও অভ্যন্তরীণ সংহতি রক্ষা করা মূল কাজ।

ইসলামী ব্যাংক বনানী শাখার স্থানান্তর
  • ০১ মার্চ ২০২৬
ক্লাস নিতে চাওয়ায় শিক্ষকের ক্লাস বর্জন ইবি শিক্ষার্থীদের
  • ০১ মার্চ ২০২৬
ইরানে সামরিক আগ্রাসন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের, ৬ দাবি জানাল …
  • ০১ মার্চ ২০২৬
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, এক ক্লিকেই…
  • ০১ মার্চ ২০২৬
জাবিতে মশার উৎপাত, প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগের পরামর্শ বিশেষজ্…
  • ০১ মার্চ ২০২৬
অঘোষিত ‘কোয়ার্টার ফাইনালে’ বড় সংগ্রহ উইন্ডিজের
  • ০১ মার্চ ২০২৬