খামেনি হত্যা

‘হাই ফিডেলিটি’ তথ্যের দায়িত্বে ছিল সিআইএ, ‘রোরিং লায়ন’ হামলা চালায় কে?

০১ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৫ PM , আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৮ PM
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি © সংগৃহীত

ইরানে হামলার ঠিক আগে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অবস্থান সম্পর্কে ইসরায়েলকে ‘হাই ফিডেলিটি’ বা অত্যন্ত নির্ভুল তথ্য দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)—এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই হামলার সময় পরিবর্তন করে ইসরায়েল ‘রোরিং লায়ন’ নামে অভিযান পরিচালনা করে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক মাস ধরেই খামেনির অবস্থান ও চলাচলের ওপর নজর রাখছিল সিআইএ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানের একটি সরকারি কম্পাউন্ডে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে এবং সেখানে খামেনিও উপস্থিত থাকবেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর হামলার পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়। সরকারি ওই কমপাউন্ডে আছে ইরানের প্রেসিডেন্সি অফিস, সর্বোচ্চ নেতা এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দপ্তর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাতের অন্ধকারে হামলা চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও, শনিবার সকালে তেহরানের সরকারি কম্পাউন্ডে বৈঠকের খবরের সুবিধা নিতে তারা সময় পরিবর্তন করে। ইসরায়েল নিশ্চিত হয়েছিল, এই সমাবেশে ইরানের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা থাকবেন। তাদের মধ্যে ছিলেন- আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, সামরিক পরিষদের প্রধান অ্যাডমিরাল আলী শামখানি, আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সৈয়দ মজিদ মুসাভি, গোয়েন্দা উপমন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজিসহ আরও অনেকে।

ইসরায়েলের স্থানীয় সময় অনুযায়ী শনিবার সকাল ৬টার দিকে অভিযান শুরু হয়। ওই সময় যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। হামলায় তুলনামূলক কম বিমান ব্যবহার হয়। কিন্তু যেগুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলো ছিল দূরপাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল অস্ত্রে সজ্জিত।যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর, তেহরানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। হামলার সময় জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কম্পাউন্ডের একটি ভবনে ছিলেন এবং খামেনি পার্শ্ববর্তী অন্য একটি ভবনে ছিলেন।

হামলার সময় জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একটি ভবনে অবস্থান করছিলেন এবং খামেনি পাশের আরেকটি ভবনে ছিলেন বলে দাবি করা হয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার এক বার্তায় বলা হয়েছে, তেহরানের বিভিন্ন স্থানে একযোগে হামলা চালিয়ে কৌশলগত চমক সৃষ্টি করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, হামলায় দুজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি ও আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতের পর থেকেই মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরালো করে। শনিবারের হামলা তাদের লক্ষ্য যেমন পূরণ করেছে, তেমনি ইরানের ব্যর্থতাও তুলে ধরেছে। কারণ, প্রতিনিয়ত যুদ্ধ ও হত্যার হুমকি পাওয়ার পরও ইরানি কর্মকর্তারা যথেষ্ট নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে পারেননি। 

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার লেখা একটি বার্তা দেখার সুযোগ পেয়েছে। সেখানে লেখা, ‘আজ (শনিবার) সকালের হামলাটি তেহরানের বেশ কয়েকটি স্থানে একই সঙ্গে চালানো হয়েছে। এর একটিতে ইরানের রাজনীতি ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ ব্যক্তিরা একত্রিত হয়েছিলেন।’ বার্তায় ওই কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধের জন্য ইরানের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল এই হামলায় কৌশলগত চমক দেখাতে সক্ষম হয়েছে।

অভিযানটির বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউস এবং সিআইএয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল টাইমস। তবে তাদের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। 

রবিবার (১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ দুজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েল যে গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিল, সেখানেও এই দুজনের নাম ছিল- রিয়ার অ্যাডমিরাল শামখানি এবং মেজর জেনারেল পাকপুর।

গত জুনে ইরানের পারমাণবিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র জানে খামেনি কোথায় লুকিয়ে আছেন। চাইলে তাকে হত্যা করা সম্ভব।’ একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, শনিবারের অভিযানেও সেই একই নেটওয়ার্কের (তথ্য প্রাপ্তির) ওপর নির্ভর করা হয়। 

সরকারি কম্পাউন্ডে হামলার পর ইরানের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অবস্থানগুলোও লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়। এতে ইরানের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, ঊর্ধ্বতনদের বড় একটি অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

বড় চমক দেখাল ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, দুইদিনে ফলোয়ার ছাড়…
  • ২১ মে ২০২৬
পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির, ভোক…
  • ২১ মে ২০২৬
দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলো রামিসা
  • ২১ মে ২০২৬
নির্মাণ শ্রমিক কর্তৃক নারী শিক্ষার্থী হেনস্তা, নোবিপ্রবিতে …
  • ২১ মে ২০২৬
পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে বন্ধ ইজারা কার…
  • ২১ মে ২০২৬
আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসের বৈশ্বিক ঝুঁকি কতখানি?
  • ২১ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081