নদ-নদীতে পাওয়া গেছে ২ হাজার ৩০৭টি ডলফিন © সংগৃহীত
দূষণ এবং নির্বিচারে মাছ ধরার জালের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে দেশের নদ-নদীতে ডলফিনের আবাসস্থল প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। সাম্প্রতিক এক যৌথ জরিপে জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশের নদ-নদীতে মাত্র ২ হাজার ৩০৭টি গাঙ্গেয় ডলফিন টিকে আছে।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক মিঠাপানির ডলফিন দিবস উপলক্ষে বন বিভাগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই তথ্য প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বন বিভাগ ও ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি (ডব্লিউসিএস) যৌথভাবে ৪৫টি নদীর ৪ হাজার ৮৯৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে দেখা যায়, দেশের বেশিরভাগ নদীতে ডলফিনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, বিশেষ করে ঢাকার চারপাশে প্রবাহিত নদীগুলিতে তীব্র দূষণের কারণে ডলফিন প্রায় বিলুপ্তির মুখে।
জরিপের নেতৃত্বে থাকা ডব্লিউসিএসের কান্ট্রি ডিরেক্টর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এই নদীগুলোতে ডলফিনরা মূলত খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। তারা সাকার ফিশ খেয়ে বেঁচে আছে।’
তিনি আরও জানান, জরিপে মোট ২৫টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি এলাকায় তাৎক্ষণিক সংরক্ষণ কার্যক্রম নেওয়া জরুরি।
জরিপে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বংশী, সুরমা ও কালনী নদীর ৩০৫ কিলোমিটার এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়, যেখানে ভারী দূষণের মধ্যেও মোট ২৭টি গাঙ্গেয় ডলফিন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বংশী নদীতে সাতটি, তুরাগে পাঁচটি, কালনী ও বুড়িগঙ্গায় তিনটি করে এবং সুরমা নদীতে নয়টি ডলফিন পাওয়া গেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘ডলফিন নদীর স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাদের টিকে থাকা নদী ও মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। যখন নদীর পানি দূষিত হয়, তখন তা ডলফিন ও মানুষের জন্য সমানভাবে হুমকিস্বরূপ। উভয়ের বেঁচে থাকার জন্য নদীকে পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি বলেন, বন বিভাগকে সহায়তা করার জন্য প্রতিটি জেলায় স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গঠন করা হবে, যাতে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়। ‘বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য কেবল আইন নয়, মানুষের মানসিকতা ও আচরণের পরিবর্তনও অপরিহার্য,’ যোগ করেন তিনি।