মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতন দিবস’ পালিত হয় © টিডিসি ফটো
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতন দিবস’ পালিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে এ দিবসটি পালন করেন প্রশাসন।
উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রুটিন দায়িত্বে নিযুক্ত উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য প্রফেসর মো. সুলতান-উল-ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান আল-আরিফ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো. আবদুস সালাম আলোচনা সভাটি সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নির্যাতিত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর মলয় ভৌমিক, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রফেসর দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, প্রফেসর সেলিম রেজা নিউটন ও প্রফেসর আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন, উপ-প্রধান তথ্য অফিসার মো. সাদেকুল ইসলাম ও প্রকৌশল দপ্তরের মো. আতাউর রহমান স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য প্রদান করেন।
এ ছাড়া আলোচনা সভার শুরুতে নির্যাতিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান উপাচার্য প্রফেসর সুলতান-উল ইসলাম।
আরও পড়ুন: ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খোলার তথ্যটি সঠিক নয়: ভিসি
আলোচকেরা তাঁদের বক্তব্যে সেদিনের সেই নিপীড়ন ও হয়রানির নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দিবসটি যাতে নিয়মিত পালন করা হয়, সেজন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বন জানান এবং ২০০৭ সালের আগস্টে সেই সময়ের সরকার কর্তৃক শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন-নির্যাতনের ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বন জানান।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে কয়েকজন সেনাসদস্যের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হন কয়েক ছাত্র। একপর্যায়ে সৈন্যরা ছাত্র-শিক্ষকদের ওপর চড়াও হয় এবং এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন । ওই ঘটনার রেশ ধরে ছাত্রদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সেই ধারাবাহিকতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষক ও ৫ ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং ২২ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-পুলিশ সংঘাতের সময় গুলিতে আনোয়ার নামের একজন রিকশাচালক নিহত হন।