নিখোঁজ জাহিদ হাসান রাজু © টিডিসি ফটো
এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) রসায়ন বিভাগের ছাত্র জাহিদ হাসান রাজু (২৭)। তিনি স্নাতকোত্তরের পরীক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলায়।
বুধবার (৩০শে জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন গ্যালারীতে জাহিদের পরিবারের সদস্য ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষকগণ অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জাহিদের মা আকলিমা আক্তার, স্ত্রী হাফসা আক্তার, বড় শ্যালক হাসিবুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মাহবুব কবির, সহযোগী অধ্যাপক সুবর্ণা কর্মকার ও সহকারী অধ্যাপক আওলাদ হোসেন এবং রসায়ন সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি আল আমিন।
জানা যায়, জাহিদ চাকুরির প্রস্তুতি নিতে মিরপুরের একটি মেসে থাকতেন। তিনি ছাত্রাবস্থায় বিয়ে করেন। বর্তমানে একটি কন্যা শিশু রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাহিদের মা আকলিমা বেগম।লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জাহিদ গত ২৪ শে জুন আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টার দিকে মেস থেকে মাগরিবের নামাজ পড়তে বের হন। আর ফিরে আসেননি তিনি। তারপর থেকে তার ব্যবহৃত দুটি ফোন নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুজি করে না পাওয়ায় ২৬শে জুন পল্লবী থানায় একটি জিডি করা হয।যার নম্বর-২৩৯২।
জাহিদের মা বক্তব্য পাঠ করার এক পর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে মা সম্বোধন করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমার সন্তানকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন অথবা আমার সন্তানের কাছে আমাকে নিয়ে যান।আমার ছেলের বউ ও ছোট্ট শিশুকে নিয়ে আমি আর দৌঁড়াতে পারছি না।
তবে গত ২৬ তারিখ একটি অপরিচিত নম্বর থেকে তার কাছে কল করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে পল্লবী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন জাহিদের দুলাভাই কামাল হোসেন। অভিযোগে বলা হয়, 'গত ২৬ তারিখ একটি অপরিচিত নম্বর থেকে জাহিদ হাসানের মা আকলিমা আক্তারকে বলা হয়, রাজু ভাই আমাদের কাছে আছেন। যদি আপনারা এক লাখ টাকা দেন তাহলে আপনার ছেলেকে পাবেন। যদি আপনারা ঝামেলা করেন আমরাও ঝামেলা করবো।'
অভিযোগে আরো বলা হয়- পরবর্তীতে জাহিদের ব্যবহৃত একটি নম্বর থেকে ৫০ কল করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তা না দেওয়া হলে পুনরায় ত্রিশ হাজার টাকা দাবি করে একটি নগদ নম্বর মেসেজ করা হয়।পরে ওই নম্বরে ১৩ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার পরই সবগুলো নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
তদন্তের অগ্রগতি কতদূর এবং চাঁদা দাবিকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে পেরেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক জহির হোসেন বলেন, 'আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সকল শাখা এ ব্যাপারে কাজ করতেছি।আমাদের কাজ করতে দেন।'