© টিডিসি ফটো
আবাসন ব্যবস্থা না করে কোনো পরীক্ষা হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রগতিশীল ছাত্র জোট নেতারা। এ সময় তারা স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করে আবাসিক হল খুলে দেওয়াসহ সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন। আজ শুক্রবার (১৮ই ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের ছাত্র সমাবেশে নেতাকর্মীরা এসব দাবি উত্থাপন করেন।
সমাবেশে আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে পরীক্ষা নেওয়া, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেতন ফি মওকুফ, অছাত্র ও সন্ত্রাসীদের বিতাড়ন করে গণরুম প্রথা বন্ধ, স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন ব্যবস্থা করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার রোড ম্যাপ ঘোষণা, সব বাণিজ্যিক কোর্স বন্ধ, সভা সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন তারা।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা স্মারকলিপি দিয়ে টিউশন ফি কমানোর দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা দায়সারা হয়ে কোনো বাস্তবিক উদ্যোগ নেয়নি। স্কুল থেকে এসাইনমেন্ট ফি'র নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার বিপর্যয়কর অবস্থা বিবেচনা না করে কাজ করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুধু মাসে মাসে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ছুটি বাড়ায়। আমরা দেখতে পাই, হলে হলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা রুম ভাড়া দেয়।
প্রগতিশীল ছাত্র জোটের এই নেতা বলেন, হল না খুলে পরীক্ষার ঘোষণা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা মানবেন না। হল না খুলে কোনো পরীক্ষা হতে দেওয়া হবে না।
নাসির উদ্দিন প্রিন্স বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে আসতে পারছেন না কিন্তু ক্যাম্পাসে আসছেন সেশন চার্জ দেওয়ার জন্য, কোর্স ফি দেওয়ার জন্য, হলে টাকা দেওয়ার জন্য। টাকা দিতে না পারলে জরিমানা ঘোষণা করা হচ্ছে। সবকিছু বন্ধ, ডাকসু নির্বাচন বন্ধ, সিনেট বন্ধ, একাডেমিক কাজ বন্ধ। কিন্তু শিক্ষক সমিতির নির্বাচন বন্ধ নেই। এভাবে তারা লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করছে।'
জোটের নেতাকর্মীরা টিএসসি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন সড়ক ও শাহবাগ থেকে ঘুরে এসে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ করেন। এতে বক্তব্য সভাপতিত্ব করেন প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ফয়জুল্লাহ।