তূর্য কীর্তনীয়া ও জি এম রায়হান কবীর © সংগৃহীত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা-বিষয়ক সম্পাদক কর্তৃক খাবারে মাছি পাওয়া এবং হোটেল কর্মচারীকে হালিম ছুড়ে মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী তূর্য কীর্তনীয়ার নেতৃত্বে কিছু শিক্ষার্থী বটতলার দোকানগুলো জোরপূর্বক বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে কামালউদ্দিন হল সংসদের ভিপি জি এম রায়হান কবীরের নির্দেশনা আছে বলে অভিযোগও উঠেছে। যদিও তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একদল শিক্ষার্থী বটতলায় গিয়ে দোকানদারদের দোকান বন্ধ করতে বলেন। প্রথমে দোকানদাররা রাজি না হলেও পরে চাপ ও হুমকির মুখে তারা দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হন।
জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার রাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা-বিষয়ক সম্পাদক হুসনে মোবারকের বিরুদ্ধে এক দোকান কর্মচারীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, খাবারে মাছি পাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে খাবারের বাটি ছুড়ে মারেন, যার কিছু অংশ ওই কর্মচারীর শরীরে পড়ে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরদিন সন্ধ্যায় তূর্য কীর্তনীয়ার নেতৃত্বে কিছু শিক্ষার্থী বটতলার দোকানগুলো বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবি দোকানদাররা স্বেচ্ছায় দোকান বন্ধ করেছেন। ভুক্তভোগী কর্মচারীর শরীরে বাটি লাগার কারণে তারা প্রতিবাদস্বরূপ এমনটি করেছেন বলে জানান তারা।
তবে সিসিটিভি ফুটেজ ও দোকান মালিক-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তূর্য কীর্তনীয়াসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ভাসানী হল-সংলগ্ন দোকানগুলো বন্ধের নির্দেশ দেন। দোকানদাররা জানান, তাদের এক ঘণ্টার জন্য দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয় এবং প্রথমে অস্বীকৃতি জানালে পরে হুমকি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ইতিহাস ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী তুর্য কীর্তনীয়া বলেন, ‘আমার কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে প্রথমে ভুক্তভুগী সাহাবুদ্দিনের কাছে গিয়ে পুরো ঘটনা শুনেছি। পরে ভুক্তভোগীকে আমরা পরামর্শ দিই যে যদি পারো বটের সব দোকান মালিককে নিয়ে প্রতিবাদ সরূপ এক ঘণ্টা শাটডাউন করতে পারো।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভুক্তভোগী এই পরামর্শে রাজি হয় এবং প্রত্যেকটা দোকান মালিককে আমরাসহ ভুক্তভোগী অনুরোধ করে শাটডাউনের জন্য। এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বটের সব দোকান মালিক সন্ধ্যা ৭-৮টা পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কামালউদ্দিন হল-সংলগ্ন এক দোকান কর্মচারী বলেন, ‘হলের সিকবয় এসে জানায়, হল সংসদের ভিপির নির্দেশে দোকান বন্ধ রাখতে হবে। তাই আমরা দোকান বন্ধ করি।’
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে হল সংসদের ভিপি জি এম রায়হান কবীর বলেন, দোকান বন্ধে তার কোনো নির্দেশনা ছিল না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে এ ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে বলেন জানান তিনি ।
ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দোকান বন্ধের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী। তিনি জোরপূর্বক দোকান বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়ে দোকান খোলার কথা বলেন দোকানদারদের। এ সময় তূর্য কীর্তনীয়াসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। সেখানে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী তানজির হিমেল, রিশিকেশ কানু ও ফুয়াদসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে রাত নয়টার দিকে দোকানগুলো আবার খুলে দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে উভয় পক্ষকে শান্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল (আজ) তিনটায় সিনেট হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রক্টর এবং উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।