অধ্যাপক কাবেরী গায়েন © ফাইল ফটো
আমি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী। ‘ক’ এবং ‘ঘ’ দুই ইউনিটেই উত্তীর্ণ হয়েছিলাম। আটমাস গণিতে ক্লাস করে জার্নালিজমে ফিরে এসেছিলাম ‘ঘ’ ইউনিটে উত্তীর্ণ হবার সুবাদে। আমার জীবনের একমাত্র ভালো সিদ্ধান্ত বলে মনে করি। গণিতে আমার এসএসসি, এইচএসসি-তে খুব ভালো নম্বর এবং ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় গণিতে পূর্ণমান পেলেও আমি জানতাম গণিতে আমার স্বতঃস্ফূর্ত ঝোঁক নেই, ভাষা, সাহিত্য বা সামাজিক চিন্তনে যেমন আছে।
তাই বাসাকে না জানিয়েই যথেষ্ট ঝুঁকি নিয়ে বছরের একেবারে শেষে জার্নালিজমে ফিরে এসেছি। সেটা সম্ভব হয়েছিলো ‘ঘ’ ইউনিটে পরীক্ষা দেবার সুযোগ ছিলো বলেই। এই ইউনিট থাকা মানে শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয়বারের মত পরীক্ষায় বসার সুযোগ। কলা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য- মোটাদাগে এই তিন অনুষদের বাইরেও অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র, যোগাযোগ, উন্নয়ন, জনপ্রশাসন অর্থাৎ সমাজ ও রাষ্ট্রপরিচালনার নানা স্তরের পাঠ ও অনুধ্যানের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারা।
সারা পৃথিবীতে যখন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্গত বিষয়গুলোকে অধিকতর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে, এমনকি বিজ্ঞানের অনেক বিষয়কে সামাজিক বিজ্ঞানের সাথে সংযুক্ত করে পড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছি। ‘ঘ’ ইউনিটে পরীক্ষা অত্যন্ত পুরনো। হঠাত এমন কী ঘটলো যে এক মিটিং-এ ডিনস কমিটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল! বিভাগগুলোর সাথে আলোচনা না করেই এক মিটিং-এ এমন সিদ্ধান্ত নেয়া যায়! আশ্চর্য!
১৬টি বিভাগ সম্বলিত সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, যার বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে নানা বৈচিত্র ধারণ করে দীর্ঘকাল, যেমন অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বয়স বিশ্ববিদ্যালয়ের সমান অর্থাৎ শতবর্ষী, সমাজবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বহু পুরানো বিভাগ, এসব বিভাগ নিজেদের মত করে শিক্ষার্থী নিতে পারবে না? যুক্তি কী?
এই ঘোষণা অদ্ভূত! অনুষদের শিক্ষকদের সাথে ন্যূনতম আলোচনা না করেই এমন সিদ্ধান্তে বিস্মিত। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ কলা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য সব অনুষদের শিক্ষার্থীদের ধারন করে এক স্বতন্ত্র অনুষদ। তাই তার নিজস্ব শিক্ষার্থী বেছে নেবার রয়েছে পূর্ণ অধিকার। সেদিক থেকে ‘ঘ’ ইউনিটে পরীক্ষা বাতিল করার ডিনস কমিটির সিদ্ধান্ত বিবেচনাপ্রসূত বলা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চয়ই ডিনস কমিটির এমন অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত বহাল রাখবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর ভরসা রাখতে চাই। ভরসা রাখি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ্ভূক্ত স্বাধীন শিক্ষকদের যৌক্তিক সিদ্ধান্তের প্রতি। বিশ্বাস করি এমন সিদ্ধান্ত কখনোই কার্যকর হবে না।
লেখক: চেয়ারপারসন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
(ফেসবুক থেকে নেয়া)