এক হাজার টাকা দিয়ে ঢাবির দুই ছাত্রীর উদ্যোক্তার পথচলা

০৬ নভেম্বর ২০২০, ১২:২৬ PM , আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৪ AM
এক হাজার টাকা দিয়ে ঢাবির দুই ছাত্রীর উদ্যোক্তার পথচলা

এক হাজার টাকা দিয়ে ঢাবির দুই ছাত্রীর উদ্যোক্তার পথচলা © টিডিসি ফটো

দু’জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী। মধ্যবিত্ত পরিবারের হওয়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে নিজেরাই সাবলম্বী হওয়ায় স্বপ্ন দেখতো। প্রথম বর্ষে টিউশনের জন্য হাজার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হচ্ছিল না। দিন দিন তাদের হতাশা বাড়তে থাকে। অবশেষে একদিন দুই বান্ধবী মিলে ফেসবুক পেজ থেকে শুরু করেন ই-কমার্স প্লাটফর্ম। মাত্র এক হাজার টাকার স্বল্প পুঁজিতে সেখান থেকে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে পথচলা।

হুমায়রা আনজীর ও নুসরাত জাহান মৌ। দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের কারুশিল্প বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী। উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ কিভাবে তৈরি হলো— এই প্রশ্নের জবাবে হুমায়রা জানান, মধ্যবিত্ত পরিবারের হওয়ায় সবসময় এটা মাথায় ঘুরত যে নিজে কিছু করতে হবে, নিজেকে সাবলম্বী করতে হবে। তাতে পরিবারের উপর থেকে কিছুটা হলেও চাপ কমাতে পারব।মৌও সাবলম্বী হওয়ায় স্বপ্ন দেখতে। তারও ইচ্ছে ছিল অন্তত নিজের পড়াশোনার খরচ যেন সে নিজে বহন করতে পারে, কারো কাছে হাত পাততে না হয়।

জানা গেছে, ব্যাসার্ধ-Beshardho নামক ফেসবুক পেজ থেকে দুই বান্ধবী শুরু করেন ই-কমার্স প্লাটফর্ম। এখান থেকে হাতে তৈরি দেশীয় গয়না ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে মেটালের গয়না। এখানে কাঠের তৈরি বাহারি আয়নাও মিলছে। শৌখিন ডায়েরিও রয়েছে।

মাত্র এক হাজার টাকার পুঁজি দিয়ে ব্যবসা শুরু করা দুই ছাত্রী এখন প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকার বেশি পণ্য বিক্রি করেন। তাদের এই ছোট্ট উদ্যোগকে একদিন বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চান। তারা জানান, নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আরও অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চাই। স্বপ্ন দেখি ব্যাসার্ধ একদিন একটি বড় ব্র্যান্ডে পরিণত হবে।

কখন, কিভাবে উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা— এই প্রশ্নের জবাবে হুমায়রা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ, ঢাকায় একদমই নতুন, টিউশনের জন্য হাজার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হচ্ছিল না। দিন দিন হতাশা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন পার্টটাইম চাকরি করার চিন্তা করলেও জবের ধরাবাধা সময়, ক্লাস টাইম মেইনটেইন করাটা অসম্ভব মনে হয়েছে। ঠিক ওই সময়টায় আমার কিছু সহপাঠীকে অনলাইন ব্যবসায় শুরু করতে দেখলাম। তখন অনলাইন ব্যবসায় সম্পর্কে কিছুই জানতাম না, ফেসবুক পেজ কি তাও জানতামনা। চিন্তা করতে থাকি আমরাও ব্যবসায় শুরু করব। কিন্তুু কি নিয়ে ব্যবসা করব? যে বিষয়টাতে আমার আগ্রহ বেশী, যেটা করতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে, তা হচ্ছে গয়না বানানো। তাই গয়না দিয়েই আমাদের ব্যবসায় শুরু করলাম। এখন অবশ্য সাথে আরোও অনেক প্রোডাক্ট যুক্ত করার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, আমরা মূলত কাঠের হ্যান্ডপেইন্টেড গহনা দিয়েই আমাদের ব্যবসায় শুরু করি। এরপর মেটালের গয়না যুক্ত করি,গয়নার মধ্যে মালা, দুল, চুড়ি, পায়েল, চোকার, খোপার কাটা, আংটি, টিপ সব ধরনের কালেকশন আছে আমাদের। কাঠের তৈরি বাহারি আয়নাও মিলবে ব্যাসার্ধতে।

তিনি আরও বলেন, শৌখিন ডায়েরি আমাদের মূল আকর্ষণ। দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে হাতে তৈরি এই ডায়েরিগুলো।প্রিয়জনদের উপহার হিসেবে বা বিশেষ মূহুর্তগুলো ডায়েরির পাতায় আটকে রাখার জন্য অনেকেই ডায়েরিগুলোকে নিজেদের মতো করে কাস্টমাইজ করিয়ে নেন।

তবে ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছেন তারা। হুমায়রা জানান, আমার মত শিক্ষার্থীদের মূলধন যোগাড় করাটা বড় একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়। আমরা দুজনে মিলে খুব কম মূলধন নিয়ে আমাদের ব্যবসায় শুরু করেছিলাম। আমাদের ব্যবসায়ের সকল সকল কার্যক্রম (পণ্য তৈরি, প্রচারনা করা,অর্ডার নেওয়া, প্যাকেজিং করা,ডেলিভারি দেওয়া) আমারা নিজ হাতেই সম্পন্ন করে থাকি।পড়াশোনার পাশাপাশি সবকিছু সমানতালে চালিয়ে নিতে প্রথমে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, প্রোডাক্টের ছবি তোলা নিয়েও সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি সম্পর্কে তেমন কিছু জানা ছিলো না। প্যাকেজিং নিয়েও সমস্যায় ভুগতে হয়েছে। তবে বর্তমানে সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করেছি।

পণ্য ডেলিভারি দিতে গিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। হুমায়রা আনজীর ও নুসরাত জাহান মৌ-এর বেলাও সেটি ব্যতিক্রম নয়। তারা জানান, শুরু থেকেই ডেলভারি নিয়ে সমস্যায় ভুগতে হয়েছে। যেমন পণ্য অনেক সময় ডেলিভারি কোম্পানি নষ্ট করে ফেলে। সে ক্ষেত্রে প্যাকেজিংটা আরও উন্নত করার চেষ্টা করেছি। অনেক সময় পণ্য ডেলিভারি দিতে অনেক দেরি হয়, এজন্য কাস্টমার থেকে আগে থেকেই সময় চেয়ে নেওয়া হয়। ডেলিভারি দিতে গিয়ে অনেকে পণ্য হারিয়ে ফেলে। সেক্ষেত্রে পণ্যটি আবার পাঠানোর ব্যবস্থা করি। এভাবেই নানান ঝামেলার কথা জানান তারা।

নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ভূমিকায় নিজেদের দাঁড় করিয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। তাদের উদ্দেশ্যে হুমায়রা বলেন, অনেকেই মনে করেন উদ্যোক্তা হওয়া খুবই সহজ একটা বিষয়। আসলেই ব্যাপারটা মোটেও সহজ নয়। উদ্যোক্তা হতে হলে প্রথমত আপনি যে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন সে বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে জানুন, স্টাডি করুন। হুজুগে উদ্যোক্তা হওয়া যাবেনা। তাহলে অচিরেই ঝরে পড়তে হবে। উদ্যোক্তা হিসেবে টিকে থাকতে হলে হতে হবে প্রচন্ড ধৈর্যশীল। একজন আদর্শ উদ্যোক্তার সকল গুণাবলী আত্নস্থ করতে হবে।

নতুন কেনা বাড়িতে ফেরা হল না ড্যাফোডিলের সাবেক ছাত্রের, নিউই…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
পুরো একটি সভ্যতা আজ রাতে ধ্বংস হয়ে যাবে: ট্রাম্প
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
মালয়েশিয়ায় ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাচ্ছেন রাবিপ্রবির শিক্ষার্থ…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
চুপিসারে বিসিবি ছাড়লেন বুলবুল
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
হাসপাতালে স্বাস্থ্যবিধি, ওষুধে উপাদানের ঘাটতির অভিযোগ খোদ স…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
রামগঞ্জে চেক জালিয়াতির মামলায় ছাত্রদল নেতা আটক
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
close