‎জাবির ২২ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ৩২ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার: তদন্ত কমিটি গঠন

০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৪ PM , আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৬ PM
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো © সংগৃহীত

‎জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত ৩২টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক গবেষণা ডাটাবেজের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১১টি বিভাগ ও একটি অনুষদের ১৮ জন শিক্ষক এবং চার শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতা থাকা এসব গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের তথ্য প্রকাশের পর এ কমিটি গঠন করা হয়।
‎
‎অফিস আদেশে বলা হয়, জাবির কয়েকজন গবেষকের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র অনিয়মের অভিযোগে প্রত্যাহার হওয়ার বিষয়ে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন, সত্যাসত্য নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্যে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
‎
‎কমিটির সভাপতি করা হয়েছে গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুব কবিরকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সালেকুল ইসলাম এবং বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন অর রশীদ। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ প্রশাসন শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মাহতাব-উজ-জাহিদ। কমিটিকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
‎
এর আগে, ‎আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন গবেষণা সাময়িকী (জার্নাল) থেকে বৈজ্ঞানিক জালিয়াতি, গবেষণায় অনিয়ম ও অসদুপায় অবলম্বনসহ বিভিন্ন অভিযোগে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের ৩২৫টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১১টি বিভাগ ও একটি অনুষদের ১৮ জন শিক্ষক এবং চার শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতা থাকা মোট ৩২টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের তথ্য পাওয়া গেছে।
‎
‎প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাবির পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের একক ও যৌথভাবে করা মোট ১০টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কবির উদ্দিনের যৌথভাবে করা দুটি গবেষণাপত্রও প্রত্যাহার হয়েছে।
‎
‎গণিত বিভাগের চার শিক্ষকের গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলমের তিনটি এবং সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের দুটি গবেষণাপত্র রয়েছে। এ ছাড়া অধ্যাপক ড. আবেদা সুলতানা ও অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় কুমার পণ্ডিতের যৌথভাবে করা একটি গবেষণা নিবন্ধ ‘Journal of Intelligent and Fuzzy Systems’ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
‎
‎পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সভাপতি ড. মো. সাখাওয়াত হোসেনের দুটি, অধ্যাপক ড. মাহফুজা মোবারকের একটি এবং অধ্যাপক ড. মো. তাজউদ্দিন সিকদারের একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে। বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সোহেল এবং সহকারী অধ্যাপক নাফিসা নাওয়াল ইসলামের একটি করে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে।
‎
‎কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুশফিক আনোয়ারের একটি গবেষণাপত্র স্প্রিঞ্জার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এ মামুনের একটি গবেষণাপত্রও স্প্রিঞ্জারের সাময়িকী থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামের একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের তথ্যও রয়েছে।
‎
‎এ ছাড়া রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এনামুল হকের একটি গবেষণাপত্র আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরিসংখ্যান ও ডেটা সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের একটি এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শওকত হোসেনের একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের অধ্যাপক ড. কে এম জাহিদুল ইসলামের একটি গবেষণাপত্র এলসেভিয়ার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
‎
‎প্রকাশিত ডাটাবেজের তথ্য অনুযায়ী, জাবির বায়োটেকনোলজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. নাজমুল ইসলাম প্রত্যয়, পাবলিক হেলথ বিভাগের মো. ইস্তিয়াক রহমান, ফার্মেসি বিভাগের মিনহাজ আবদুল্লাহ আল মুইদ এবং প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের জাহিদুর রহিমের নামযুক্ত কয়েকটি গবেষণাপত্রও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
‎
‎আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রকাশকারী সংস্থা ‘রিট্র্যাকশন ওয়াচ’-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্প্রিঞ্জার, এলসেভিয়ার, ওয়াইলি, প্লস ওয়ান ও আইইইই-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও সাময়িকী থেকে জাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট এসব গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভুয়া বা অনিয়মিত পিয়ার রিভিউ, সাইটেশন অনিয়ম, তথ্যের অসঙ্গতি ও বিকৃতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কম্পিউটার-জেনারেটেড কনটেন্টের ব্যবহার এবং ‘পেপার মিল’ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মানহীন গবেষণাপত্র তৈরির অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।
‎
‎অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের মাইক্রোপ্লাস্টিক, চা-পাতা ও কোভিডের ইকোটক্সিকোলজি-সংক্রান্ত একাধিক গবেষণাপত্রে তথ্য ও পিয়ার রিভিউ-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক প্রকাশকেরা সেগুলো প্রত্যাহার করেছে বলে জানা গেছে। 

কুতুবদিয়া-মগনামা ঘাটে জিয়ারতকারীদের ওপর হামলা, নিরাপত্তাহ…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
শরণার্থী আইন ও সুরক্ষা নিয়ে এসইউবিতে দিনব্যাপী বুটক্যাম্প অ…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
কর অঞ্চল-দিনাজপুরে জনবল নিয়োগ, আবেদন  অনলাইনে
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
নতুন তিন সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
রাজুকে ব্লেইম দিয়ে অপদস্থ করা হয়েছে, আমরা তার সাথে আছি: রাশ…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
দুই দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির আভাস দিল আবহাওয়া অধিদ…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950