ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় সেকেন্ড টাইম চেয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন © টিডিসি সম্পাদিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) স্নাতক প্রথম বর্ষে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা পুনর্বহালের দাবিতে এবং মেধার ন্যায্য মূল্যায়ন, সুযোগের সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতকরণ চেয়ে স্মারকলিপি দিচ্ছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলািই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর এ স্মারকলিপি দেবেন তারা। এতে নিজেদের দাবির যৌক্তিকতাসহ বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরবেন বলে তারা জানিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রত্যাশী এইচএসসি ও আলিম-২০২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এ স্মারকলিপি দিচ্ছেন। তারা বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা পুনর্বহাল; সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মেধা পাচার রোধে নীতিগত প্রস্তাবনা এবং স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।
এতে বলা হয়েছে, ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ঐতিহাসিক চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত এই ভূখণ্ডের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যহীনতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ দুর্গ ও বাতিঘর হিসেবে কাজ করেছে। এ দেশের শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ললাটে সবসময়ই ছিল মুক্তির অগ্রদূতের তিলক।
তারা বলছেন, অত্যন্ত দুঃখ, গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ রুদ্ধ করার যে হঠকারী, একগুঁয়ে এবং সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা আজ অবধি বলবৎ রয়েছে। এই একটিমাত্র প্রশাসনিক কালো আইন দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে এক নিষ্ঠুর মেধা-নিধন প্রকল্পে রূপান্তরিত করেছে।
আরও পড়ুন: সিট ভাগাভাগি করল ছাত্রদল-ছাত্রশক্তি-ইশা-ছাত্র অধিকার, বাড়তি ছাত্রদের ৩৯ লাখ টাকা কার পকেটে?
এটি কেবল লাখো শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করছে না, বরং একটি ত্রুটিপূর্ণ ও বৈষম্যমূলক পদ্ধতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদকে সুপরিকল্পিত পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাত্র এক ঘণ্টার একটি যান্ত্রিক পরীক্ষা কোনোভাবেই একজন শিক্ষার্থীর ১২ বছরের তিল তিল করে গড়ে তোলা মেধার চূড়ান্ত বিচারদণ্ড হতে পারে না।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, চব্বিশের রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী স্বাধীন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশে কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক হঠকারিতা, আমলাতান্ত্রিক জেদ বা মেধার অপমৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। যে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি রচিত হয়েছে সাম্য ও মানবিক মর্যাদার ওপর, সেখানে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের দরজা দেশের আমজনতার সন্তানদের জন্য চিরতরে রুদ্ধ থাকবে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মেধার যথাযথ পুনর্মূল্যায়ন, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সুযোগের সমতা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় মেধার অপচয় রোধ করার সাপেক্ষে বিশদ যৌক্তিকতা ও নীতিনির্ধারণী প্রস্তাবনাসমূহ আপনার সদয় বিবেচনা, একাডেমিক কাউন্সিলের দ্রুততম সময়ে জরুরি সভা আহবান জানিয়ে তারা একটি নির্বাহী আদেশ জারিরও দাবি জানিয়েছেন। এতে তাদের দাবির পক্ষে বেশ কিছু যুক্তি ও অভিযোগও তুলে ধরেছেন শিক্ষার্থীরা।