ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আইডি কার্ডের ছবি © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা ও দ্রুত তথ্য যাচাইয়ের সুবিধার্থে প্রথম বর্ষের সকল শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে কিউআর কোডযুক্ত বিশেষ ‘স্মার্ট আইডি কার্ড’। এই কিউআর কোডভিত্তিক ভেরিফিকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এখন থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সুবিধা পাবেন।
আজ সোমবার (২৯ জুন) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই তথ্য জানিয়েছেন।
উপাচার্য তার অভিভাষণে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল সুবিধার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি স্মার্ট আইডি কার্ডে একটি অনন্য কিউআর কোড সংযুক্ত করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের পরিচয় এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে শতভাগ নির্ভুল ও দ্রুত করবে।
উপাচার্য জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ঘরে বসেই সার্টিফিকেট, মার্কশিট এবং ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলনের কার্যক্রম আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য একটি বিশেষ ‘গ্র্যাজুয়েট পোর্টাল’ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন, ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য হালনাগাদের মতো প্রশাসনিক কাজগুলো অনলাইনেই সম্পন্ন করা যাবে।
বর্তমান সময়ে শিক্ষাদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে আউটকাম-বেজড এডুকেশন বা ওবিই-ভিত্তিক ‘লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (এলএমএস) এবং ‘এক্সাম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (ইএমএস) উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এটি পুরোপুরি চালু হলে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা, কোর্স ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া আরও আধুনিক হবে। এছাড়া আইসিটি সেলের তৈরি কেন্দ্রীয় সাপোর্ট ও টিকিটিং সিস্টেমের মাধ্যমে যেকোনো ব্যবহারকারী অনলাইনে তাদের সমস্যা বা অভিযোগের দ্রুত সমাধান পাচ্ছেন।
প্রযুক্তিগত এই উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের গুণগত মানোন্নয়নেও কঠোর হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জানিয়েছেন, তরুণ শিক্ষকদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) তত্ত্বাবধানে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষক-প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক থেকে পরবর্তী ধাপে পদোন্নতি পাওয়ার জন্য এই প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক বা আবশ্যক করা হবে।