ঢাবির মধুর ক্যানটিনের সামনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলন © টিডিসি
জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘অদম্য জুলাই’ শিরোনামে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করে গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকরের দাবি জানান।
সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এক লিখিত বক্তব্যে বিএনপি সরকারের সমালোচনা ও সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এবং মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে অশোভনীয় আচরণ করা হয়েছে, আমাদের ভাইদের আহত করা হয়েছে, পা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। কিন্তু তার কোনো প্রতিকার, মামলাও গ্রহণ বা কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং আমাদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে,বিশেষ করে তিতুমীর কলেজ, বাঙলা কলেজ, ঢাকায়—এরপর গতকাল দেখলেন সিদ্ধেশ্বরী কলেজের মধ্যে কোনো উসকানি ছাড়াই আমাদের ভাইদের আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শহীদুল্লাহ হল একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সেখানে রাতের বেলায় বাম ছাত্র সংগঠন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে আবার মহড়া দিয়েছে।’
তিনি বলেন, “ছাত্রদলের ডাকসু নির্বাচন করেছিল এজিএস পদে, তার একটা ফেসবুকের স্ক্রিনশট প্রকাশিত হয়েছে। তিনি লিখেছেন ‘উলঙ্গ করে টাঙিয়ে রাখতে হবে গেটের সামনে’। তার মানে কোন সংস্কৃতির দিকে যাচ্ছে? রাতের বেলায় গভীর অন্ধকারে কারও রুমে যাওয়া, তাকে প্রহার করার উদ্দেশ্যে দলবল নিয়ে যাওয়া, থ্রেট দেওয়া, মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দেওয়া—এই সংস্কৃতি তো আমরা দেখেছি আবরার ফাহাদকে হত্যার পূর্বে এই ঘটনাগুলো ছাত্রলীগ ঘটিয়েছিল। সেই একই চরিত্র তাদের মধ্যেও আমরা দেখতে পাচ্ছি। এর মাধ্যমে তারা ক্যাম্পাসগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।”
আরও পড়ুন: পুলিশ ক্যাডারে অষ্টম, পেয়েছেন প্রশাসনও—এবার ফরেন ক্যাডারে দ্বিতীয় হলেন কুয়েটের সাদিক
ছাত্রশিবিরে কর্মসূচিসগুলো হলো গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী ‘অদম্য জুলাই’ শিরোনামে মাসব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন; রক্তাক্ত জুলাইয়ের সস্মৃতি নিয়ে গল্প, উপন্যাস, গবেষণা প্রবন্ধ ও সাময়িকী প্রকাশ; রাজধানীতে ‘শিশুদের চোখে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন; ‘জুলাই জাগরণ’ ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী আয়োজন; সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, রিসার্চ কনফারেন্স, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন; সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন।
এ ছাড়া জুলাইয়ের স্মৃতি বলা, স্মৃতিলিখন, বক্তব্য, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রভৃতি আয়োজন; নিজ নিজ জেলায় শহীদদের নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা; ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন; শহীদ পরিবার, আহত ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী গাজীদের নিয়ে ‘লাল জুলাই’ শীর্ষক সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও পডকাস্টের আয়োজন; শহীদদের কবর জিয়ারত, শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময়; জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন এবং ‘Echoes of July’ শিরোনামে ৩৬ দিনব্যাপী অনলাইন ক্যাম্পেইন পরিচালনা।