প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতায় কলেজ পার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর নতুন পরিবেশ, স্বাধীনতা ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মিশতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী কিছু সাধারণ ভুল করে বসে। অনার্স জীবনের শুরুতে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনাচরণ একাডেমিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম বর্ষে করা এসব ভুল ভবিষ্যৎ একাডেমিক ও ব্যক্তিগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুরু থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সাধারণ ভুলগুলো নিয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মুহাম্মদ মনিনুর রশিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আফজাল হোসেন।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মনিনুর রশিদ শিক্ষার্থীদের করা সবচেয়ে বড় ভুল প্রসঙ্গে বলেন, অনেকে মনে করে, ‘ক্লাস না করলেও চলে পরীক্ষার আগে পড়লেই হবে’। যা মোটেও ঠিক নয়। ভালো ছাত্র হওয়ার প্রথম শর্ত হলো—স্যার আগামীকাল কী পড়াবেন সেটা আগে থেকে একটু দেখে আসা। পড়া জমিয়ে রাখা যাবে না। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটা গবেষণায় দেখেছি, অনেক শিক্ষার্থী দিনে এক ঘন্টাও পড়ে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অসৎ সঙ্গ ত্যাগের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের একটা প্রভাব থাকে, সেটা থেকে দূরে থাকতে হবে। সিগারেট থেকেও দূরে থাকা উচিত। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে এগুলো শুরু হয়। এছাড়া রাত জাগা যাবে না, এটা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। সময়কে কাজে লাগাতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সচেতনতা থাকা ভালো, তবে দলীয় রাজনীতির ভেতরে গিয়ে নিজের পড়াশোনা বা ক্যারিয়ারের ক্ষতি করা ঠিক হবে না। রাজনৈতিক সচেতনতা এবং পড়াশোনার মধ্যে একটা ব্যালেন্স রাখা খুব কঠিন কিন্তু জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের আত্মউন্নয়নমূলক দক্ষতা অর্জনের দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। আধুনিক প্রযুক্তি, কম্পিউটার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা থাকলে তা একাডেমিক ও পেশাগত জীবনে সহায়ক হয়। পাশাপাশি বাংলা মাধ্যম থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা উন্নয়নের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
আজকের এই প্রতিবেদনে প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থীদের করা দশটি ভুল তুলে ধরা হয়েছে। ভুল গুলো হলো:
১. নিয়মিত ক্লাসে না যাওয়া:
অনেক শিক্ষার্থী মনে করে পরীক্ষার আগে পড়লেই ভালো ফল করা সম্ভব। কিন্তু নিয়মিত ক্লাসে অংশ না নিলে বিষয়বস্তু ভালোভাবে বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
২. পড়া জমিয়ে রাখা:
প্রতিদিন অল্প অল্প করে না পড়ে সব পড়া পরীক্ষার আগে জমিয়ে রাখার প্রবণতা অনেকের মধ্যে দেখা যায়। এতে মানসিক চাপ বাড়ে এবং শেখার কার্যকারিতা কমে যায়।
৩. আগে থেকে প্রস্তুতি না নেওয়া:
পরদিন ক্লাসে কী পড়ানো হবে তা আগে থেকে দেখে না আসা শিক্ষার্থীদের বড় একটি দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আগে থেকে ধারণা নিয়ে ক্লাসে গেলে শেখা সহজ হয়।
৪. সময় অপচয় করা:
বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে অনেকেই দীর্ঘ সময় মোবাইল, আড্ডা বা অলসতায় কাটিয়ে দেয়। কিন্তু সময়ের সঠিক ব্যবহার না করলে পরে আফসোস করতে হয়।
৫. অসৎ সঙ্গ গ্রহণ করা:
বন্ধু নির্বাচনে অসতর্কতা একজন শিক্ষার্থীর জীবনে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এমন সঙ্গ এড়িয়ে চলতে হবে।
৬. মাদক ও ধূমপানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া:
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুবান্ধবের প্রভাবে অনেকেই ধূমপান বা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এটি শারীরিক, মানসিক ও একাডেমিক জীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
৭. অতিরিক্ত রাত জাগা:
রাত জেগে অনিয়মিত জীবনযাপন স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এবং মনোযোগ কমিয়ে দেয়। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন।
৮. শুধুই রাজনীতিতে ডুবে যাওয়া:
রাজনৈতিক সচেতনতা ভালো হলেও দলীয় রাজনীতিতে অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়লে অনেক সময় পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
৯. আত্মউন্নয়নমূলক দক্ষতা অর্জনে উদাসীন থাকা:
প্রযুক্তি, যোগাযোগ দক্ষতা ও ভাষাগত সক্ষমতা উন্নয়নে গুরুত্ব না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
১০. ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ছাড়া এগোনো:
অনেক শিক্ষার্থী মাস্টার্স শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেই না। কিন্তু শুরু থেকেই অন্তত কয়েকটি সম্ভাব্য ক্যারিয়ার লক্ষ্য ঠিক করে রাখা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সুসংগঠিত হয়।