ঢাবি শিক্ষার্থী মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৪ PM , আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৭ PM
অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধনে মুনিরা মাহজাবিন মিমোর সহপাঠীরা

অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধনে মুনিরা মাহজাবিন মিমোর সহপাঠীরা © টিডিসি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সহপাঠীরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকরা সংহতি জানান। 

মানববন্ধনে বিভাগের শিক্ষার্থী আনিয়া আক্তার বলেন, বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও মানসিকভাবে নিপীড়ন করার যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, মরহুমা মিমোর অকাল মৃত্যু তারই এক মর্মান্তিক পরিণতি। এ সময় তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা বলেন, প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে, অনুষদে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেল থাকার কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক অভিযোগ দাখিল করা পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরবর্তী সময়ে দেখা যায় এই সেলগুলো কোনো কাজ করে না।  যদি কোনো ফলোআপ না থাকে, তাহলে এই ধরনের সেলের কোনো দরকার নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ছাত্র প্রতিনিধিরা যেন এই সেলে থাকতে পারে এবং যখনই কোনো অভিযোগ আসে, যখন কোনো তদন্ত হয়, তার সুষ্ঠু বিচার শিক্ষার্থীরা দেখতে পারে। আমাদের আপু যে জীবন দিয়ে একটা সিস্টেমের দিকে আঙুল তুলে দিয়ে গেছে তার সুষ্ঠু বিচার করা হয় এবং যে অপরাধীকে সুইসাইড নোটের মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছে উনার শাস্তি দেখতে চাই এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।’

বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি আমাদেরও দাবি। এই ঘটনায় বিভাগ থেকে যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, আমরা তা নিয়েছি। বিষয়টি ভিসি ও প্রো-ভিসিকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে বিভাগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সকল দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি।’

মানববন্ধনে মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টারের রাফিউল রকি শিক্ষার্থীদের পক্ষে কিছু দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- অভিযুক্ত শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী এবং উম্মে হানী'র বিষয়ে বিভাগকে দ্রুত স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত থাকবে; নৈতিক স্খলন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে সুদীপ চক্রবর্তীকে স্থায়ীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করতে হবে; শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, ফলাফল ও চাকরির প্রলোভন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে অনতিবিলম্বে চাকরিচ্যুত বিধান সংযুক্ত করতে হবে; মিমোর পরিবারকে পরিচালনার দায়িত্বে রেখে আইনি প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ আর্থিক ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে গ্রহণ করতে হবে এবং মামলা প্রত্যাহারের কোনো চাপ যেন না আসে তা নিশ্চিত করতে হবে; তদন্ত সাপেক্ষে উম্মে হানীসহ দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; একাডেমিক কাজের বাইরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উভয়পক্ষ থেকে অযাচিত যোগাযোগ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ এবং শিক্ষক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং চূড়ান্ত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিদেশ গমনের অনাপত্তিপত্র (NOC) প্রদান বন্ধ রাখতে হবে।

মানববন্ধন শেষে কলা ভবনের গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে প্রথমে উপাচার্য ও পরে প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি জমা দিতে যায়।  

ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি, আবেদন অভিজ্ঞতা ছাড়াই
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের স্ত্রীকে ‘সম্ভাব্য বিধবা’ বলায় বিপাকে মার্কিন কমে…
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং উদ্ব…
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
বৃষ্টি কতদিন থাকবে, জানাল আবহাওয়া অফিস
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
হাবিপ্রবির সহকারী প্রক্টর পদে নতুন চার মুখ
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ডাম্প ট্রাক-সিএনজির সংঘর্ষে ৫ এসএসসি পরীক্ষার্থী আহত
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬