ঢাবি ভিসির সঙ্গে ‘উত্তপ্ত’ বাক্য বিনিময় ডাকসু জিএসের © সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৫-২০২৬ সেশনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সিট সমস্যার সমাধান না করেই তাদের ক্লাস শুরু করার প্রতিবাদে ঢাবি উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেছেন ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ। আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) পূর্বঘোষিত ঢাবির রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও কর্মসূচী শেষে ভিসি কার্যালয়ে যান ডাকসুর জিএস, এজিএসসহ বেশ কয়েকজন সম্পাদক।
সদ্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সিট নিশ্চিতে রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাতে ঢাবির রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করার ঘোষণা দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। পরে আজ দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাওয়ে যান ডাকসু নেতারা। সেখান থেকে সিট সংকট সমাধানে ভিসির বক্তব্য জানতে ভিসি কার্যালয়ে যান তারা।
পরে ‘সদ্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদেরকে সিট না দিয়ে তাদের ক্লাস শুরু করার বিষয়টি ঢাবি ভিসির কাছে জানতে চান ডাকসু জিএস। ভিসিকে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবে আপনি কী ভাবছেন? এই পরিস্থিতিতে আমাদের দাবি হচ্ছে, হয় তাদেরকে আবাসনের ব্যবস্থা করে দেন অথবা তাদেরকে আবাসন ভাতার আওতায় নিয়ে আসেন। সেটাও যদি দিতে না পারেন তাহলে ক্লাস স্থগিত করেন।’
ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি আবারও হলে হলে আদুভাই কালচার চালু হচ্ছে। অনেকেই ইয়ার ড্রপ দিয়ে আজীবন হলে থাকার বন্দোবস্ত করছে। যেটা ছাত্রলীগ আমলে আমরা দেখেছি....। জুলাইয়ের পরে আমরা দেখতে পেয়েছিলাম নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ে সিট পেয়েছিল। কারণ তখন আদুভাই ছিল না। তখন সিট বণ্টনের যেই নীতিমালা ছিল সেটাকে সিন্ডিকেট মিটিং, না প্রভোস্ট মিটিংয়ে নানান কিসিমের আলাপ করে এগুলোকে স্থগিত করা হয়েছে।’
স্থগিত নীতিমালা নিয়ে উপাচার্যকে ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘ইন্টেরিম আমলে যেই নীতিমালা ছিল সেটা বেশ স্বচ্ছ ছিল। সেখানে শিক্ষার্থীরা দেখতে পারত কে হলে আছে, কীভাবে আছে। আর সেটা বহাল থাকলে আমরা জানতে পারব, কোন জায়গায় ব্যত্যয় হচ্ছে। তবে ঠিক কোন বায়বীয় কারণে সেটা স্থগিত হয়ে গেল সেটা আমরা জানি না, স্যার।’
এসময় ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি এখন অনেকেই ইচ্ছে করেই রিঅ্যাড নিচ্ছে এবং আজীবন হলে থাকছে। যেটা আগে ছাত্রলীগের সাদ্দাম, ইনান এরা করত। তাই আমরা চাই নির্দিষ্ট সেশন বাইন্ডিংস হবে। সেশন ধরে আসবে সেশন ধরে বের হয়ে যাবে।’
সম্প্রতি শিক্ষাজীবন শেষ করতে না পারায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে বিশেষ বিবেচনায় হলে সিট দেওয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের ঊষ্মা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে মোসাদ্দেক বলেন, ‘আমার জন্ম সালের সেশনধারী কয়েকজনকে হলে সিট দেওয়া হয়েছে। হল প্রভোস্টদের দাবি এরা নির্যাতিত, তাই তাদের সিট দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা খোঁজখবর নিয়ে জানলাম এদের একজন ২০০৮ সালে ক্যান্টিনে ফাও খেতে গিয়ে সৃষ্ট ঝামেলার কারণে বহিষ্কার হয়েছেন। তিনি ছাত্রদলের ৯নং সহ-সভাপতি।’
ডাকসু নেতাদের দাবির প্রেক্ষিতে ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘ আমি তোমাদের দাবির সঙ্গে আমি একমত। তোমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য আগামী প্রভোস্ট মিটিংয়ে এটা নিয়ে আমরা কথা বলব।’
শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা দেওয়ার জবাবে উপাচার্য বলেন,‘ আগের প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করেছে আমরা সেটাকে সাধুবাদ জানাই। তবে এবার আমাদের সক্ষমতার দিকেও থাকাতে হবে। কেননা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু শতভাগ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় না। তাই আবাসিক সুবিধা আমাদের শতভাগ দেওয়া সম্ভব নয়। সে জায়গা থেকে সিট দেওয়ার পরে ক্লাস শুরু করবো সেটা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। না হয় আমাদের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে আপনার দায়িত্ব কিনা ক্লাস শুরু করার আগে সিট দেওয়া- ডাকসু জিএসের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি তোমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল, কিন্তু তোমরা যেভাবে ঘোষণা দিতে বলছো সেটাতে আমি একমত হতে পারব না।’
ডাকসু নেতাদের আবাসন ভাতার দেওয়ার দাবির প্রেক্ষিতে তিনি জানান, ‘ আবাসন বৃত্তি চালুর বিষয়টা সময় সাপেক্ষ। এই মুহূর্তে আমার হাতে টাকা নেই। তোমরা সরকারকে বল এটাকে শতভাগ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করতে।’