ঢাবির সেরা শিক্ষকরা হয় বিদেশে যাচ্ছেন নয়তো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে, কারণ জানালেন অধ্যাপক কামরুল

৩১ মে ২০২৬, ০৯:৩০ AM
অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন

অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেছেন, আকৃষ্ট করার আকর্ষণ বলের মান দিন দিন কমার কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা শিক্ষকরা হয় দেশ ছেড়ে বিদেশে যাচ্ছে না হয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে। রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

পোস্টে তিনি লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, গবেষণা ও গবেষণার মান, শিক্ষকতা ও শিক্ষকতার মান, শিক্ষক নিয়োগ ও এর নানা গলদ, শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি ইত্যাদি নিয়ে আমার চেয়ে বেশি কি কেউ সমালোচনা করেছে? আমি সমালোচনা করেছি, পরামর্শ দিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান যে নিম্নগামী সেটা আমি অকপটে অনেকবার বলেছি। বলেছি ১০০ বছর আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোয়ান্টাম স্টাটিস্টিক্সের জন্ম হয়েছে। সেই সময় শিক্ষক নিয়োগে মান বিবেচনা করা হতো, রাজনীতি নয়। সেই সময়ের ভিসি জানতেন কীভাবে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করা যায়।

এ অধ্যাপক লেখেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন যাচ্ছে? কারণ বেতন। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের বেতনের ৩ থেকে ৪ গুণ বেতন বেশি। সেই ১৯২১ সালে সত্যেন বোস, জ্ঞান চন্দ্র ঘোষ, রমেশ চন্দ্র মজুমদারদের মত মেধাবী শিক্ষকরা কলকাতা ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন? কারণ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ৪০০ রুপি বেশি ছিল। শুধু বেতন না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবীরা মূল্যায়িত হচ্ছে না। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষকরা চলে যাচ্ছে বলেই শিক্ষা ও গবেষণার মান দিন দিন কমছে। তাই কেউ যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কড়া সমালোচনা করে আমি কখনো তার সাথে দ্বিমত করে প্রতিবাদ করিনি এবং করবোও না যদি status quo না বদলায়। 

তিনি আরও লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা বাংলাদেশের অন্য যেকোন একটি বিশ্ববিদ্যালয় যদি সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মানের হতো তাহলে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি হতো। দেশের রাজনীতি, আমলাতন্ত্র, শিক্ষকদের মান ইত্যাদি দিন দিন যে কমছে এটিই প্রমাণ করে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান বাড়ছে না। পৃথিবীর এমন একটি বিশ্বমানের ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বলুনতো যেখানে ভিসি হওয়ার সিঁড়ি হলো সরকারি দল করা, যেখানে শিক্ষক নিয়োগে সকল নিয়োগ বোর্ড গঠিত ভিসিকে প্রধান করে, যেখানে শিক্ষকদের বিশাল একটি অংশ একাধিক পার্ট-টাইম চাকরি করে। 

কামরুল হাসান মামুন লেখেন, তেমনি বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও আমি অনেক সমালোচনা করেছি কারণ এই দেশ আমার এবং এই দেশের যেকোন সমস্যা নিয়ে লেখার দায় আমার আছে। আমি শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার কারণে আমার এক ধরনের ইমিউনিটি আছে। যেই কথা এই দেশের সাধারণ মানুষ বললে হয়ত নানারকম হয়রানির শিকার হবে সেই কথা আমি বললে আমার তেমন কিছুই হবে না। এই যে ইমিউনিটি এইটা আমাকে রেসপনসিবিলিটি দেয়। সমাজের ভালোর জন্য এই রেসপনসিবিলিটির দায় মেটানো আমার কর্তব্য। এর এই জন্যই আমি লিখি। তার চেয়ে বড় কর্তব্য হলো সমাজের জন্য কিছু করা। সেই চেষ্টাই আমি সততার সাথে করে আসছি। আমার কোন রাজনৈতিক দল নাই। আমি অত্যন্ত সচেতনভাবে নিজেকে দলমুক্ত রেখে স্বাধীন মতামত দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কোন চাওয়া পাওয়ার লোভ আমার কখনো ছিল না এবং এখনো নাই। অনেকে দেখি বলে আমি ভিসি হতে চাই। তাই যদি চাইতাম তাহলে আমি চুটিয়ে রাজনীতি করতাম। শিক্ষক রাজনীতি ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেউ হয়েছে?

এ অধ্যাপক আরও লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমার এত সমালোচনা সত্ত্বেও যখন শুনি একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী পাবলিক এবং প্রাইভেট বিতর্ককে উস্কে দিয়েছে আমার রাগ সেখানে। আমি এর আগে অনেকবার লিখেছি এই বিতর্ক একটা কুৎসিত বিতর্ক। এই দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেমন এখনো বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠেনি তেমনি এই দেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এখনো সত্যিকারের বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠেনি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকার মালিকের ন্যায় আচরণ করে আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ট্রাস্টি বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকের ন্যায় আচরণ করে এমনকি সেখান থেকে শিল্প কারখানার মত কোন না কোন তরিকায় আর্থিক মুনাফা নেয়।

কামরুল হাসান মামুন আরও লেখেন, আমার এই কথাগুলো থেকে কিছু কিছু মানুষ একটি দুইটি লাইন নিয়ে ফোটকার্ড বানিয়ে গণমাধ্যমে ছেড়েছে। আউট অফ কনটেক্সট এই লাইন মোটেও আমার কথাকে তুলে ধরে না। তাতেও আমার কিছু যায় আসে না। যারা আমার পুরো লেখা পড়েছে, যারা আমার লেখা অনেক দিন ধরে পড়ে এসেছে তারা আমাকে চিনে। পরিশেষে বলতে চাই একটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মানই নির্ধারণ করে সেই দেশটি কেমন হবে। আমাদের দেশের সর্বত্র তাকালেই বোঝা যায় এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মান কেমন আর এর জন্য দায়ী সেই রাজনৈতিক দলগুলো যারা পালাক্রমে দেশ শাসন করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিএম কলেজের ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকার উন্নয়…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
পে স্কেল পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ আইএমএফের, উদ্বেগ আরও ৩ ইস্যু…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে এবার ক্রীড়া জ্যোতিষীর ভবিষ…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
এআই বদলে দিতে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতি, কর্মসংস্থানেও বড় ধাক্ক…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপে ভ্রমণের দিক দিয়ে চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিন…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence