ঢাবিতে সংবাদ সম্মেলন © টিডিসি ফটো
ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং সার্বভৌমত্বগত ঝুঁকি এড়াতে সেন্টমার্টিন দ্বীপে আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে 'স্টুডেন্টস ফর সেন্টি' নামের একটি সংগঠন।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক বলেন, পরিবেশ রক্ষার দোহাই দিয়ে বিগত প্রায় দুই বছর যাবৎ সেন্টমার্টিনবাসীকে অমানবিক কায়দায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এর ফলে দ্বীপের মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার অধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, পরিবেশবাদের ছদ্মাবরণে তৎকালীন নীতিনির্ধারকরা বৈদেশিক ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের এনজিওর পকেট ভারী করলেও দ্বীপবাসীকে মৃত্যুর কিনারায় ঠেলে দিয়েছেন। বর্তমানে দ্বীপের মানুষ চরম খাদ্যসংকটে রয়েছেন এবং শত শত শিশুর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে, যা মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
আরো বলেন, দ্বীপের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দার আয়ের একমাত্র উৎস হলো শীতকালের কয়েক মাসের পর্যটন শিল্প। পর্যটন বন্ধ করে দেওয়ায় জীবন-জীবিকার তাগিদে মানুষ এখন দ্বীপ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে দ্বীপটি দিন দিন জনশূন্য হয়ে পড়ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। তিনি জানান, দ্বীপটি জনশূন্য হওয়ার সুযোগে পার্শ্ববর্তী দেশের জেলে ও বিভিন্ন অপশক্তির আনাগোনা বাড়ছে। ২০১৯ সালেও মিয়ানমার তাদের মানচিত্রে এই দ্বীপকে নিজেদের অংশ হিসেবে দেখিয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্বীপে যাতায়াতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা সেন্টমার্টিনের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই দ্বীপ ও দ্বীপবাসীকে বাঁচাতে পর্যটন ও যাতায়াত দ্রুত উন্মুক্ত করে দেওয়া বর্তমান নির্বাচিত সরকারের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সেন্টমার্টিনকে রক্ষায় অনতিবিলম্বে সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।