সদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন ও শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন © সংগৃহীত
রাজধানী ঢাকার বিমানবন্দর, উত্তরা, খিলক্ষেত, আশকোনা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগ এলাকা নিয়ে ঢাকা-১৮ আসন গঠিত। সেখানকার স্থানীয় সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একটি বর্ধিত ক্যাম্পাস ওই আসনের পূর্বাচলে দেওয়া যায় কি-না। সেই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে বিবেচনা করার কথা বলেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি এ বিবেচনা করার কথা জানান। পরে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস করলে ট্রাফিক জ্যাম বা অন্যান্য বিষয়গুলো বিবেচনা আনতে হবে। সেটি অদূরভবিষ্যতে বিবেচনা আনা যায় কি-না, সেই ব্যাপারে আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখবো।
অধিবেশনে সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৮ একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও দ্রুত বর্ধনশীল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী বসবাস করছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই।
‘‘মাননীয় স্পিকার, এখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আছেন। আমি বলতে চাই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বর্ধিত ক্যাম্পাস পূর্বাচলের দেওয়া যায় কি-না? মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বিবেচনা করে দেখবেন।’’
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পূর্বাচলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা রয়েছে। আমি মাননীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম সাহেব যে প্রস্তাবটি করেছেন অন্যান্য উন্নত বিশ্বে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রকম ক্যাম্পাস থেকে থাকে। তিনি একটি সুন্দর দাবি করেছেন যে, পূর্বাচলে সরকারের জায়গা রয়েছে। সেখানে জায়গা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-টু করা যায় কিনা, সেই ব্যাপারে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। সেই বিষয়টি আমরা আগামী দিনে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আমরা আলোচনা করব।
‘‘তবে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস করলে ট্রাফিক জ্যাম বা অন্যান্য বিষয়গুলো বিবেচনা আনতে হবে। সেটি অদূরভবিষ্যতে বিবেচনা আনা যায় কি-না, সেই ব্যাপারে আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখবো।’’
প্রসঙ্গত, ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে পূর্বাচলে ৫২ একর জমি বরাদ্দ পেয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কর্তৃপক্ষ। এ জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২০১৮ সালের জুনে। বছর চারেক পর এই জমিতে ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন ক্যাম্পাস’ তৈরির জন্য ধারণাপত্র তৈরি ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমানে থমকে আছে সেটি।