ডিসি মাসুদকে প্রত্যাহারসহ ক্যাম্পাস এলাকায় সব ধরনের পুলিশিং বন্ধের দাবি ঢাবি শিক্ষার্থীদের

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৪ PM
শাহবাগ থানার সামনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

শাহবাগ থানার সামনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ © টিডিসি ফটো

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিন, বাংলানিউজ২৪-এর মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ সহ দুই দর্শনার্থীর ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে শাহবাগ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে প্রত্যাহারসহ ক্যাম্পাস এলাকায় সব ধরনের পুলিশিং বন্ধের দাবি জানান তারা।

আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘হারুন গেছে যে পথে, মাসুদ যাবে সে পথে’, ‘আমার ভাইকে মারল কেন, প্রশাসন চাই’, ‘শাহবাগ থানা জবাব চাই, আমার ভাইকে মারল কেন’, ‘মাসুদের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’-সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।

বিক্ষোভে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাফিরা জাহান বলেন, পুলিশসহ যেকোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশ্ন করতে পারা নাগরিক অধিকার। অনেক লম্বা সময় ধরে আমাদের এ নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। গতকাল নাইমের ওপর হামলা পুলিশের সব সময় করা ইগোভিত্তিক ভায়োলেন্সের অংশ।

তিনি বলেন, ‘গতকাল নাইম উদ্দানে হাটছিল, ওরে প্রশ্ন করা হয়ছে। নাইম দেখাইছে ওর কাছে কিছু নাই। নাইম কেন প্রশ্ন করছে পুলিশের কাছে, এজন্য ওরে মারা হয়েছে। এটা কোন জায়গার ন্যায়? এর জবাবদিহিতা কে করবে? আমরা কোনও জবাবদিহিতা চাই না। আমরা ডিসি মাসুদ ও তার বাহিনীর বিচার চাই।’

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘সরকারকে আঙুল চোষার জন্য ক্ষমতায় আনিনি। আপনারা ক্ষমতায় এসে এখন রাষ্ট্র সরস্কারে নামেন। আমাদের মারার জন্য পুলিশ নামালে; তার ফল কী হতে পারে- তা আপনাদের জানার কথা।’

থিয়েটার বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন করার জন্য রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো উঠে পড়ে লেগেছে। পুলিশ যখন এ ধরনের নিপীড়নমূলক কর্মকান্ড করে, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ফেসবুকে ঠিক-বেঠিক লিখছে। কিন্তু আপনাদের মনে রাখতে হবে, আজকে এটা আমার সাথে ঘটছে। কালকে এটা আপনাদের সাথে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আপনি মনে করছেন, একজন মাদকসেবী-এই সন্দেহে তাকে হ্যারাজ করা যায়। কালকে আপনাকে ছাত্রদল সন্দেহে, ছাত্রশিবির সন্দেহে, ছাত্রলীগ সন্দেহে- যেকোন সন্দেহে পুলিশ হ্যারাজ করতে পারে। পুলিশের এই হ্যারাজমেন্টের বিরুদ্ধে আমাদের কথা বলতে হবে। পুলিশের এ ধরনের হ্যারাজমেন্টে চলতে থাকলে আমি-আপনি কেউ নিরাপদ না।’

বিক্ষোভ শেষে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের আবদুল্লাহ হেল বুবুন। দাবিগুলো হলো- ডিসি মাসুদসহ হামলায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া; ক্যাম্পাস এরিয়ার ভেতরে ও বাইরে সব ধরনের পুলিশিং বন্ধ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা।

এছাড়া এদিন বেলা ১২টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ বিক্ষোভ করেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। এ সময় তারা পুলিশের হামলার প্রতিবাদ ও তাদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। গতকাল রাতে পুলিশের মাধকবিরোধী অভিযানে দুই সাংবাদিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিনসহ কয়েকজন দর্শনার্থী পুলিশের মারধরের শিকার হন। 

আরও পড়ুন: ঢাবি ছাত্রের ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান শিক্ষার্থীদের

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন— বাংলানিউজ২৪.কম-এর তোফায়েল আহমেদ (২৫) এবং আজকের পত্রিকার কাউসার আহমেদ রিপন (২৭)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল পুলিশ সদস্য তোফায়েলকে লাঠি দিয়ে নির্বিচারে পেটাচ্ছেন। পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

এদিকে অভিযান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকেও আটক করা হয়। তাদের মধ্যে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের ঢাকা মহানগর ইউনিটের আহবায়ক নাঈম উদ্দিনকে পুলিশের মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নাঈম ডিসি মাসুদ আলমের সাথে কথা বলার সময় হঠাৎ এক পুলিশ সদস্য তাকে পেছন থেকে টেনে-হিঁচড়ে মাটিতে ফেলে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন।

এ নিয়ে নাঈম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘বহু ভাষার সন্ধ্যা’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করছিলাম এবং ফেরার পথে পুলিশ আমাদের মুখোমুখি হয়। পরে তারা আমাদের কাছে অবৈধ কিছু না পেয়ে অভিযোগ তোলেন যে, আমরা নাকি তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছি। আমার মাথা, হাত ও পায়ে চোট লেগেছে। আমার সঙ্গে থাকা আরও এক বন্ধুকেও তারা মেরেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরাও অনেকবার হেনস্তার শিকার হয়েছেন অর্থাৎ সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয় এবং এর দায়ভার শুধুমাত্র এই পুলিশ প্রশাসনের নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও নিতে হবে। কারণ এই প্রশাসনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যে নিরাপত্তা, সেটা নিশ্চিত করতে তারা ব্যর্থ।’

পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৬, বাড়িতে মিলল আরও ৩ মরদ…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের আলটিমেটাম শেষ আজ, বিকেলে নতু…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
এক রাতে রাজধানীর ৬ স্থানে দফায় দফায় ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়িতে …
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
নেতানিয়াহুকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন আইজেনকোট, পেলেন সরক…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ভবন নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে আপত্তি, মুক…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গোপন আস্তানা ধ্বংস করল যৌথবাহিনী
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950