জাকসুতে নির্বাচিতদের শপথ
বৃহস্পতিবার জাকসুর নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। © টিডিসি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নবনির্বাচিত নেতারা শপথ গ্রহণ করেছেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র শক্তিশালী করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে নির্বাচিত ছাত্রনেতাদের শপথবাক্য পাঠ করান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। এ সময় ডিন, প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জাকসুর নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৩ বছর জাবি শিক্ষার্থীরা অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। শিক্ষক সমিতির নির্বাচন হয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু জাকসুর নির্বাচন হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলার কেউ ছিল না। এখন থেকে আমরা সবাই মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করব।’
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘শপথ অনুষ্ঠান আমাদের দায়িত্ব পালনের সূচনা মাত্র। আমরা শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সব শিক্ষার্থীর সহযোগিতা নিয়ে আগামী এক বছর আমরা অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের উৎসর্গ করব।’
নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রশিদুল আলম জাকসু নির্বাচনকে জাবির ইতিহাসে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো অনিয়মের প্রমাণ নেই। ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে। কারো ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়া এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ নেই।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘জাকসুই শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্রকৃত প্ল্যাটফর্ম। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে শিক্ষার্থীদের যে অধিকার আছে, তা জাকসুর মাধ্যমেই বজায় থাকবে।’
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ দিনটিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘৩৩ বছর পর শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলার নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়েছে। এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান নবনির্বাচিত নেতাদের শিক্ষার্থীদের আস্থা ও প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আপনাদের আশা ও বিশ্বাস করে নির্বাচিত করেছে। আমি আশা করি সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে।’
উপাচার্য অধ্যাপক মো. কামরুল আহসান জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণ করে বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। বাংলাদেশে গণতন্ত্র হারিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের সংসদ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর সীমিত পরিসরে হলেও জাতীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় অবদান রাখবে।’
উচ্ছ্বাস ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ শপথ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাকসুর নির্বাচন কেবল শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়নের পথ উন্মুক্ত করেনি, বরং দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকাকেও সুদৃঢ় করেছে।