শিক্ষার্থীদের কেউ জোর করে মিছিলে নিয়ে যাচ্ছে না, এটা বড় পরিবর্তন: ইউজিসি চেয়ারম্যান

০৪ আগস্ট ২০২৫, ১০:১৯ AM , আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৪৯ PM
ঢাবিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষ্যে আন্তঃহল মুক্ত গদ্য রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীরা

ঢাবিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষ্যে আন্তঃহল মুক্ত গদ্য রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীরা © সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ বলেছেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের ফলে আমরা একটি নতুন সুযোগ পেয়েছি। এখন শিক্ষার্থীরা মেধার ভিত্তিতে হলের সিট পাচ্ছেন। পড়াশোনার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কেউ আর জোর করে কাউকে মিছিলে নিয়ে যাচ্ছে না। এটা একটা বড় পরিবর্তন।’

রবিবার (৩ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: আন্তঃহল মুক্ত গদ্য রচনা প্রতিযোগিতা’ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিযোগিতায় হলভিত্তিক ৩৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সেখান থেকে ছাত্র ও ছাত্রী দুই ক্যাটাগরিতে ছয়জন বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সবাইকে সনদ দেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ বলেন, ‘গত বছর এই সময়টায় একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটেছে। আর সেই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে আমাদের শিক্ষার্থীদের অসাধারণ আত্মত্যাগ। কতটা ত্যাগ তারা স্বীকার করেছে, তা ভাবলেও হৃদয় ভারী হয়ে আসে।’

তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা অনেক। তারা মাত্র এক মাসের ব্যবধানে একটি সরকার বদলে দিতে পেরেছে। এটি বিরল ইতিহাস। আমি বিশ্বাস করি, তারাই একদিন এই দেশকে একটি ভালো জায়গায় পৌঁছে দেবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। উপস্থিত ছিলেন ডিন, হল প্রভোস্ট ও ওয়ার্ডেনবৃন্দ, প্রক্টর, জুরি বোর্ডের সদস্য, শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার। সঞ্চালনা করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের জন্য দোয়া পরিচালনা করেন আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম।  

রচনা প্রতিযোগিতায় ছাত্রী ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মধ্যে  প্রথম হয়েছে সংস্কৃত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের সোনিয়া পারভীন। দ্বিতীয় হয়েছেন ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের অঙ্গনা রাণী পাল ঊর্মি। দুজনই শামসুন নাহার হলের শিক্ষার্থী। আর তৃতীয় হয়েছেন উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের আয়েশা আখতার। তিনি শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থী।

ছাত্র ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মাহমুদ-উল-হক। তিনি বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় হয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের মো. মাহমুদুল হাসান মাসুম। তিনি শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী। তৃতীয় হয়েছেন সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মো. ছালেহ আহমেদ নাসিম। তিনি মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী।

বিজয়ীদের সার্টিফিকেট, ক্রেস্ট ও আর্থিক পুরস্কার দেয়া হয়। প্রথম পুরস্কার বিজয়ীকে ১০ হাজার, দ্বিতীয়কে ৭ হাজার এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে ৫ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কার দেয়া হয়।

আরও পড়ুন: স্ক্রিনশট পলিটিক্স শুরু হলে এনসিপি-বাগছাসের অনেকেরই রাজনীতি নাই হয়ে যেতে পারে

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ‘জুলাই এক অর্থে আমাদের ঋণ স্বীকারের উপলক্ষ্য। ঐতিহাসিক এ গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জাতির সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে এই রক্তের ঋণ অন্তত কিছুটা হলেও শোধ করা সম্ভব।’

জুলাইকে অ্যাকাডেমিকভাবে তুলে ধরার প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ‘আমরা জুলাই বিষয়ে গবেষণা ও চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমরা আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

প্রতিযোগিতার কেন্দ্রীয় জুরি বোর্ডের সদস্যরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মুনিরা বেগম, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।

এসএসসি পাসেই চাকরি ইবনে সিনায়, আবেদন শেষ ৩১ মার্চ
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
নারীদের নামাজঘরের পাশে মাদক-জুয়া, প্রতিবাদ করায় কৃষকদল নেতা…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
সরকারি ছুটিতেও বাসভবনে থেকে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
বন্ধ বাকৃবি ক্যাম্পাসে চুরির চেষ্টা, তরুণ আটক
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ইসলামী ব্যাংক কোনো দলের অনুগত হতে পারবে না, বাংলাদেশ ব্যাংক…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ঈদে ঘরমুখো যাত্রী নিয়ে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, হতাহতের…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence