ঝটিকা মিছিল ও সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠনের দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ © টিডিসি
ফেনীতে ঝটিকা মিছিল ও সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে বয়স ১৮ বছর দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তাদের দুজনেরই বয়স এখনো ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি। অথচ, প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন-দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের মধ্যম কুশুল্ল্যা গ্রামের মজু মিয়ার ছেলে আবদুল্লাহ আল নোমান (১৮), একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আসিফ হাসান এবং ওহিদুর রহমানের ছেলে আমজাদ হোসেন আকাশ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী আসিফ হাসানের জন্ম ২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে তার বয়স ১৭ বছর ২ মাস ২৪ দিন। কারাগারে পাঠানো আমজাদ হোসেন আকাশের জন্ম ২০০৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসেবে তার বয়স ১৭ বছর ৩ মাস ৮ দিন। কিন্তু মামলার নথিতে তাদের প্রত্যেকের বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক রুহুল আমিন বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলাটি করেন। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে ফেনী সরকারি কলেজের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল বের করেন আসামিরা। এ সময় তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন বলে এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালালে কয়েকজন পালিয়ে যান। পরবর্তী বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র ও আসামিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের এ সংক্রান্ত তৎপরতার বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে ‘অপ্রাপ্তবয়স্কদের’ প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, গ্রেপ্তারের পর আসামিরা তাদের বয়স ১৮ বছর বলেছে। সেই অনুযায়ী মামলার এজাহার প্রস্তুত করা হয়েছে। আদালতে পাঠিয়ে দেওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের বয়স কম বলা হচ্ছে। তদন্তে যদি তাদের বয়স কম প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রে শিশু অপরাধী হিসেবে প্রতিবেদন দেওয়া হবে এবং সেটির সুযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আটক তিন ছাত্রলীগকর্মীকে কোন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে সেটি আমার জানা নেই। হয়তো বা বয়সের যথাযথ প্রামাণিক তথ্য না পাওয়ায় তাদেরকে এভাবে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তদন্তকালীন তাদের বয়সের প্রমাণক যাছাই-বাছাই করে বয়স কম হলে শিশু আসামি হিসেবে দেখানো হবে।