ইসলামে সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য এককভাবে একটি পশু কোরবানি করা সবচেয়ে উত্তম হলেও, বড় পশুর ক্ষেত্রে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কোরবানি করার বিধান রয়েছে। গরু, মহিষ ও উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন মিলে কোরবানি করা বৈধ, যা হাদিস ও সাহাবিদের আমল দ্বারা প্রমাণিত। তবে ভাগে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে, যা মেনে না চললে কোরবানি কবুল না হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
নিচে এ-সংক্রান্ত জরুরি ৪টি বিধান তুলে ধরা হলো:
একমাত্র আল্লাহর জন্য নিয়ত করা:
অংশীদারি কোরবানির মূল শর্ত হলো, শরিকদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্য হতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। যদি সাতজনের মধ্যে মাত্র একজনেরও উদ্দেশ্য কেবল মাংস খাওয়া হয় কিংবা কোনো অমুসলিম এতে শরিক হয়, তবে বাকিদের কারও কোরবানিই সহিহ্ হবে না।
অংশীদার মারা গেলে করণীয়:
কয়েকজন মিলে পশুর কেনার পর যদি কোনো একজন অংশীদার মারা যান, তবে তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক উত্তরাধিকারীদের (ওয়ারিশ) অনুমতি নিয়ে তাঁর পক্ষে কোরবানি করা যাবে। কিন্তু তারা যদি অনুমতি না দেন, তবে মৃত ব্যক্তির ভাগে কোরবানি হবে না এবং পুরো পশুর কোরবানিই বাতিল হয়ে যাবে।
পশু কেনার পর শরিক নেওয়া:
যৌথ কোরবানির ক্ষেত্রে পশু কেনার আগেই অংশীদার নির্দিষ্ট করে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। কোনো সামর্থ্যবান ব্যক্তি একা কোরবানি করবেন ভেবে পশু কেনার পরও চাইলে অন্য কাউকে শরিক করতে পারবেন। তবে পশু কেনার সময়ই ভাগের নিয়ত থাকাটা উত্তম। আর যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, এমন কোনো দরিদ্র ব্যক্তি কোরবানির উদ্দেশ্যে পশু কিনলে তা আল্লাহর জন্য উৎসর্গ হয়ে যায়। তাই তার জন্য পরে অন্য কাউকে শরিক হিসেবে নেওয়া আর জায়েজ থাকে না।
সঠিক পদ্ধতিতে মাংস বণ্টন:
যৌথ কোরবানির মাংস অনুমানের ওপর ভিত্তি করে ভাগ করা গুনাহের কাজ, তাই অবশ্যই সঠিকভাবে ওজন করে তা বণ্টন করতে হবে। অন্যথায় কারও অংশ কমবেশি হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। বিশেষ করে, ওই পশুতে যদি কোনো মানত বা অসিয়তের অংশ থাকে, তবে মাংস বণ্টনে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।