কোরবানির পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ফেনী, উদ্বৃত্ত যাবে জেলার বাইরে

১৯ মে ২০২৬, ০১:৩৪ PM
একটি পশুর হাট

একটি পশুর হাট © টিডিসি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ফেনীর খামারগুলোতে এখন যেন উৎসবের আমেজ। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। কোরবানির পশুর পরিচর্যা, খাবার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাড়তি যত্নে প্রস্তুত করা হয়েছে হাজারো গবাদিপশু। এবার ফেনীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে মোট ৯০ হাজার ৪৫২টি পশু। জেলার চাহিদার তুলনায় রয়েছে অতিরিক্ত ৭ হাজার ৯২৭টি পশু, যা স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাইরের জেলাতেও সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে ফেনীতে ৫ হাজার ৪০৭ জন গো-খামারি পশু লালন-পালনের সঙ্গে জড়িত। ঈদকে ঘিরে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীও খুচরা বিক্রির উদ্দেশ্যে পশু সংগ্রহ করেছেন। গত পাঁচ বছরে জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার। 

খামারিরা বলছেন, আধুনিক পদ্ধতিতে পশু পালন ও খামার সম্প্রসারণের কারণে স্থানীয়ভাবেই চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে। ফলে ফেনী ধীরে ধীরে কোরবানির পশু উৎপাদনে একটি সম্ভাবনাময় জেলায় পরিণত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ফেনীতে ৭২ হাজার কোরবানি পশুর চাহিদার বিপরীতে ৮০ হাজার ৮৬৫টি, ২০২৩ সালে চাহিদা ৮৫ হাজার বিপরীতে ৮৮ হাজার ২৩টি, ২০২৪ সালে ৮৭ হাজার ২০০টি কোরবানি পশুর চাহিদার বিপরীতে ৯০ হাজার ২৫০টি এবং ২০২৫ সালে কোরবানিতে ৮২ হাজার ৩৩৬টি পশুর চাহিদার বিপরীতে ৮৭ হাজার ২২৭টি গবাদিপশু ছিল।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবার কোরবানির জন্য ফেনীর ছয়টি উপজেলায় গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে ৮২ হাজার ৫২৫টি। এর মধ্যে ৯০ হাজার ৪৫২টি পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় ৭ হাজার ৯২৭টি বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় গরু রয়েছে ৭১ হাজার ৫৬৯টি, ছাগল ১৩ হাজার ২২৯টি, মহিষ ১ হাজার ৭৩৫টি ও ভেড়া ৩ হাজার ৯১৯টি। ছাগলনাইয়া পশুর সংখ্যা ২৪ হাজার ৩৬০টি। ফেনী সদর উপজেলায় গবাদিপশু রয়েছে ২২ হাজার ৪১৫টি। এ ছাড়া সোনাগাজী উপজেলায় ১৮ হাজার ৩৭৫টি, দাগনভূঞা উপজেলায় ৮ হাজার ৮৭৫টি। পরশুরাম উপজেলায় ৮ হাজার ৩৭৮টি ও ফুলগাজী উপজেলায় ৮ হাজার ৪৯টি পশু প্রস্তুত রয়েছে।

ফেনী শহরের পাঠানবাড়ি এলাকার হাসিনা এগ্রোর সত্ত্বাধিকারী মো. আরাফাত খান জানান, এ বছর কোরবানির পশু লালন-পালনে খামারিদের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে গবাদিপশুর খাদ্য, ভুসি, খৈল, খড় ও ওষুধের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি ছোট গরুর পেছনে অতিরিক্ত প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং বড় গরুর ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি খরচ হয়েছে। তবে বাড়তি ব্যয়ের পরও ভালো দামে পশু বিক্রির মাধ্যমে লাভের আশা করছেন খামারিরা।

ফেনী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ফেনীতে খামারে আগ্রহীর সংখ্যা বাড়ছে। এখানে বিনিয়োগ লাভজনক ও নিরাপদ হওয়ায় অনেক নতুন উদ্যোক্তা গবাদিপশুর খামার গড়ে তুলছেন। এ ছাড়া অন্য জেলার থেকে এখানে দুধের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালন বেশি লাভজনক।

ফেনী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, জেলার ৫ হাজার ৪০৭টি খামারে চলছে পরিচর্যা ও বিক্রির প্রস্তুতি। খামারিরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গবাদিপশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার ভালো লাভ করার ব্যাপারে আশাবাদী তারা। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে ৩৭টি মেডিকেল টিম খামার ও পশুর হাটের তদারকি করবে।

তিনি আরও বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা ওষুধ খাইয়ে গরু মোটাতাজা করে থাকে। এ ব্যাপারে খামারিদের সতর্ক করা হয়েছে।

সুন্দরবনে গুলিতে জেলে নিহত, পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস বন প্…
  • ১৯ মে ২০২৬
শিক্ষার্থীদের দিয়ে এসএসসির খাতা দেখিয়ে ফেঁসে যাচ্ছেন শিক্ষক
  • ১৯ মে ২০২৬
উইপোকার পেটে বিদ্যালয়ে থাকা এসএসসির মূল সনদ
  • ১৯ মে ২০২৬
দল ঘোষণা করল ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ডিআর কঙ্গো
  • ১৯ মে ২০২৬
জনপ্রতি লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ দিলেন এমপি…
  • ১৯ মে ২০২৬
জাবিপ্রবির বিজয়-২৪ হলে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন চুরি, সন্দেহভ…
  • ১৯ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081