নাফ নদীতে জেলেদের নৌকা © সংগৃহীত
কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদী থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোটসহ তিনি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। এ সময় এক জেলে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে পালিয়ে আসেন।
সোমবার দুপুর ১টায় টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মন্ডলপাড়া-সংলগ্ন নাফ নদীতে মাছ শিকারকালে জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
অপহৃত জেলেরা হলেন টেকনাফ পৌরসভার দক্ষিণ জালিয়াপাড়া এলাকার আবু তাহেরের ছেলে মো: মনির আহমেদ (৪৫), একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. ইয়াছিন (১৮) ও জাফর আলমের ছেলে মো. জামাল হোসেন (৪০)
ইঞ্জিনচালিত বোট দুটি জালিয়াপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল নবীর ছেলে আবদুল মালেক ও একই এলাকার নুরুল আবছারের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে।
জেলে সূত্রে জানা যায়, মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে দুটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোট নিয়ে নাফ নদীতে যান চার জেলে। মাছ ধরার এক পর্যায়ে মিয়ানমার থেকে তাদের দিকে একটি স্পিডবোটযোগে অস্ত্রধারী আরাকান আর্মির সদস্যরা।
ফেরত আসা জেলে আবদুল মালেক জানান, তারা প্রথমে দূর থেকে স্পিডবোটটি দেখতে পেয়ে দ্রুত সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার বোটের ইঞ্জিন হঠাৎ বিকল হয়ে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা দুইটা বোটে চারজন ছিলাম। আরাকান আর্মির স্পিডবোট আসতে দেখে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করি। কিন্তু আমার বোটের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। তখন আমি পানিতে লাফ দিই। কটশিট ধরে অনেক কষ্টে সাঁতরে তীরে এসে লুকিয়ে থাকি। আমার সঙ্গে থাকা জামাল সাঁতার জানত না। আর অন্য বোটে থাকা দুজন জাল ফেলতে ব্যস্ত থাকায় দ্রুত পালাতে পারেনি। পরে অস্ত্রের মুখে তাদের ধরে নিয়ে যায়।’
তিনি আরও জানান, তার মালিকানাধীন একটি বোট এবং নুরুল আবছারের মালিকানাধীন আরেকটি বোটও আরাকান আর্মির সদস্যরা নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি।’
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নাফ নদীতে মাছ শিকারের সময় জেলেরা মিয়ানমারের জলসীমার কাছাকাছি চলে গেলে আরাকান আর্মির সদস্যরা দুটি নৌকাসহ চার জেলেকে ধরে নিয়ে যায়। তবে একজন পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই চলমান।