চার বছরে ৫৪০ শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছেন চবির সাবেক ভিসি

২৪ মার্চ ২০২৪, ১০:০৪ AM , আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৫, ১২:২৯ PM
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার © ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার তার চার বছরের মেয়াদে অন্তত ৫ শত শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। আর এসব নিয়োগে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব নিয়োগে মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছেন নিজ কন্যা ও ভাতিজা। গত মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) ছিল চবি ভিসি অধ্যাপক শিরীন আখতারের শেষ কর্মদিবস। এদিনও নিয়োগ কার্যক্রম থেকে বাদ যায়নি। শেষদিনে ৩৭ জনকে নিয়োগ দিয়ে উপাচার্যের চেয়ার থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশন (ইউজিসি) কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় বিধিমালা— কোনো কিছুরই ধার ধারেননি তিনি। ২০২৩ সালের ৩ নভেম্বর অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের উপাচার্য হিসেবে ৪ বছর মেয়াদ পূর্ণ হয়। এসব নিয়োগ ও অনিয়মের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির তীব্র আন্দোলনেও নিয়োগ থেকে বিরত থাকেননি তিনি।

দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে- উচ্চমান সহকারী, নিম্নমান সহকারী, ঊর্ধ্বতন সহকারী, নিরাপত্তা প্রহরী, অফিস পিয়ন, বুক বাইন্ডার, কম্পিউটার ল্যাব সহকারী, ভোজনালয় সহকারী, পেশ ইমাম, ঝাড়ুদার এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ৬ মাসের জন্য এসব নিয়োগ দিয়ে যান তিনি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী নিয়োগের জন্য অনুসরণ করতে হয় বেশ কিছু নিয়ম। এর মধ্যে শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, প্রার্থীদের আবেদন যাচাই, মৌখিক অথবা ব্যবহারিক পরীক্ষা, উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশের পর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট যাচাই-বাছাই শেষে নিয়োগের অনুমোদন দেয়। অথচ অধ্যাপক শিরীণ আখতার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দায়িত্বের শেষদিন কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই দিয়েছেন কয়েক ডজন নিয়োগ। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে বিধি বহির্ভূতভাবে শতাধিক নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। এসব নিয়োগে রয়েছে বড় আকারের দেনদরবার। চট্টগ্রামের স্থানীয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতারা এসব নিয়োগে প্রাধান্য পেয়েছেন। পাশাপাশি তার গুণগান গাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক নেতাদেরও দিয়েছেন প্রাধান্য।

এর আগে ২০২২ সালের ৫ মার্চ চবির ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিন্ডিকেট। সেসময় শিক্ষক নিয়োগে লবিংয়ের ৫টি ফোনালাপ ফাঁস হয়। যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারীকে বলতে শোনা যায়- শিক্ষক পদে ১৬ লাখ, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী পদে ১২ লাখ এবং চতুর্থ কর্মচারী পদে ৮ লাখ টাকা লাগবে নিয়োগ পেতে।

এছাড়া চট্টগ্রামের হলে ১৬ লাখ এবং চট্টগ্রামের বাইরের হলে ২০ লাখ টাকা লাগে শিক্ষক হতে। এমন চাঞ্চল্যকর অডিও ফাঁস হওয়ার পরে ফার্সি বিভাগের নিয়োগটি বাতিল হলেও এরপরও থেমে ছিলো না নিয়োগ-বাণিজ্য। ২০২২ সালের ৬ আগস্ট আরও দুটি ফোনালাপ ফাঁস হয়, এতে দেখা যায় নিম্নমান সহকারী পদের কর্মচারী মানিক চন্দ্র দাস নিজেকে সেকশন অফিসার পরিচয় দিয়ে তিন চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা আদায় করেছেন।

এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। যদিও ২০১৮ সাল থেকে দৈনিক মজুরি কিংবা অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ বন্ধ রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশনা দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

২০১৯ সালের ৪ নভেম্বরে অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। শিরীণ আখতারের সময়ে সিন্ডিকেটের অনুমোদনে ১৩০ জন শিক্ষক এবং ২৩৮ জন কর্মচারী নিয়োগে পেয়েছেন। অপরদিকে কোনোপ্রকার বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ১১৫ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ৫৭ জন। সর্বমোট ৫৪০ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে গেছেন অধ্যাপক শিরীণ আখতার।

এ বিষয়ে জানতে অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার থেকে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কেএম নূর আহমদকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তার থেকেও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ড. নঈম উদ্দিন হাসান আওরঙ্গজেব চৌধুরী বলেন, ‘তিনি হয়তো উনার ক্ষমতাবলে এটা করতে পারেন। কিন্তু এটা সিন্ডিকেট অনুমোদন করে না। এই নিয়োগে একটা প্রক্রিয়া থাকা জরুরি। কারণ, এখান থেকে প্রশাসনের অনেক ওপরে যাওয়ার সুযোগ আছে। সুতরাং এই নিয়োগে স্বচ্ছতা থাকা দরকার।’

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ১৯ মার্চ ১৯তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পূর্ণকালীন সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের। নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ হবে। এখন থেকে যারা যোগ্য এবং মেধাবী তারাই নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবেন।

প্রাথমিক শিক্ষার উপকরণে কর মওকুফ প্রয়োজন: রাশেদা কে চৌধুরী 
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এবার ডাকসুর প্রবেশপথের মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আজমের ছবি লাগাল…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০ বছর আগে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া কুবি ছাত্রদল আহ্বায়কের রুম দখল…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অফিসার নিয়োগ দেবে আগোরা লিমিটেড, আবেদন ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মারধরের অভিযোগ অস্বীকার রাবি ছাত্রদলের, শিক্ষার্থীকে ‘গুপ্ত…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চার বিষয়ের ৫৪ হাজার শিক্ষককে ট্রেনিং দিতে ‘মাস্টার ট্রেইনার…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9