রাবি শিক্ষার্থী আল-আমিন © ফাইল ছবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের ছররা গুলিতে আহত আল-আমিনের চিকিৎসার খরচ দিয়েছে ‘সুহানা অ্যান্ড আনিস আহমেদ ফাউন্ডেশন’। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি আল-আমিনের চোখের অস্ত্রোপচারের জন্য ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ রুপি জমা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আল-আমিনের চিকিৎসায় অর্থ সংকটের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন দেখে ওই ফাউন্ডেশন আল-আমিনের চোখের অস্ত্রোপচার করার যাবতীয় খরচ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আল-আমিন বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখে ওই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা আমার চোখের অস্ত্রোপচারের যাবতীয় খরচ বহন করবে বলেছিল। এ জন্য আমার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসগুলো মেইলে দেখাতে হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে ২০ জুন চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ের সেই হাসপাতালের অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ রুপি ডিপোজিট করেছে তারা।
আরো পড়ুন: পদ আইসিটি, নিয়োগে প্রাধান্য পেয়েছে সিএসই
আল-আমিন আরো বলেন, এখন আর আমার বাবার বসতভিটা বিক্রি করতে হবে না। পরিবারের সবাই খুশি। এবার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভারতে যেতে হবে। কিন্তু আমার বাবা বেশ কয়েক দিন ধরে অসুস্থ। সার্জারি করার পর ১০ থেকে ১৫ দিন ভারতেই থাকতে হবে। যার ফলে চাইলেও যেতে পারছি না। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদুল আজহার দুই-তিন দিন পরে যেতে পারি
উল্লেখ্য, আল-আমিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি সাতক্ষীরা সদর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুস সেলিমের ছেলে।
গত ১১ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাসচালকের বাগবিতণ্ডার জেরে স্থানীয় বিনোদপুর বাজারে সংঘর্ষ বাধে। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। হামলা ও সংঘর্ষে আহত হন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনজনকে ভিট্রিয়ল রেটিনাল ইনজুরির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় পাঠানো হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা।
ইতিমধ্যে ভারতের চেন্নাইয়ে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে চিকিৎসার পরও চোখে দেখতে পারছেন না মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আলিমুল ইসলাম। ঝাপসা দেখছেন ফারসি বিভাগের শিক্ষার্থী মিসবাহুল ইসলাম। আরেক শিক্ষার্থী আল-আমিন অর্থাভাবে চিকিৎসা নিতে ভারতের চেন্নাইয়ে যেতে পারছিলেন না।
পরে তাঁর বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বন্ধুদের সহায়তায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে গত ২৫ মে ভারতে চিকিৎসা নিতে যান। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা না থাকায় চিকিৎসা ছাড়াই বাড়িতে ফিরে আসেন আল-আমিন ও তাঁর বাবা।