আগে বায়োলজি শেষে গণিত দাগাবেন, ভালো শুরুতে মেজাজ হবে ফুরফুরে

সানইয়াত জাহান সোহাগ
সানইয়াত জাহান সোহাগ  © টিডিসি ফটো

প্রিয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বন্ধুরা শুভেচ্ছা নিও। আপনারা ইতোমধ্যে জেনে গেছেন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়ে গেছে। ‘ক’ ইউনিটের যারা পরীক্ষা দেবেন আপনারা অবগত আছেন ১০ জুন পরীক্ষা প্রত্যেকের বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। আবেদন করার শেষ সময় ১০ মে।

আজকে আপনাদের জন্য ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেয়ার করব। ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কে আপনারা অনেকে হয়ত একটু দুশ্চিন্তায় আছেন; কিভাবে হবে, কত মার্কস, লিখিত কত, এমসিকিউ কত, বোর্ড মার্কস কিভাবে কাউন্ট হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আসুন মার্কস ডিস্ট্রিবিউশনটা দেখা যাক আগে।

মোট ১২০ মার্কস। এমসিকিউ পার্ট থাকবে ৬০ মার্কস (৬০টা এমসিকিউ)। সময় ৪৫ মিনিট (প্রত্যেক এমসিকিউ ৪৫ সেকেন্ড)। লিখিত ৪০ মার্কস (৪৫ মিনিট)। ২০২০-২১ এর প্রশ্ন অনুযায়ী প্রত্যেকটা বিষয়ের ৪টা করে মোট ১৬টার উত্তর করতে হয়। বোর্ড মার্ক এসএসসি+এইচএসসি মিলিয়ে ২০ মার্কে ভাগ করা হয়।

যেহেতু ভর্তি পরীক্ষার এখনো ১ মাসের মত সময় বাকি আছে তাই প্রস্তুতি একদম তুখোড় করে নিতে হবে। কারণ এই পরীক্ষায় বাঘা বাঘা শিক্ষার্থীও পাশ করে উঠতে পারে না। পাশের হারের একটা পরিসংখ্যান দেখতে পারেন।

গত বছরের ভর্তি পরীক্ষায় ১০.৭৬% পাশ করেছিল, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ ১৩% এর মতো। লাখের কাছাকাছি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ১০.৭৬% পাশ করে। এখানে যে যত বেশি পরিশ্রমী, টেকনিক্যালি পরিশ্রম করবে সেই সফল হবে।

আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে প্রস্তুতির কিছু দিকনির্দেশনা ব্যাখ্যা করছি। যত পারেন প্রশ্ন ব্যাংক ঘাটুন, যতবার করা যায়, বুঝে বুঝে করবেন সমাধানগুলো। এতে বুঝে যাবেন আপনার দুর্বলতা কোথায়। সেগুলোতে জোর দিন, মানে ওই রিলেটেড টপিকসটায় গুরুত্ব দিন।

ভর্তি পরীক্ষায় প্রত্যেক এমসিকিউ প্রশ্নের জন্য সময় ৪৫ সেকেন্ড সময় থাকবে। সময় মেইনটেইন করাটা খুব জরুরি। তার জন্যে আমি একটা সিকুয়েন্স ফলো করতাম। আপনাদের ভালো লাগলে ফলো করতে পারেন।

আমি আগে বায়োলজি শেষ করতাম। যেটা কমন পড়বে না, সেটা নিয়ে ভাবতামও না, ওটা স্কিপ। সো এ পদ্ধতিতে ১৫টা বায়োলজি দেখতে সর্বোচ্চ ৩-৪ মিনিট লাগার কথা। এইযে শুরুতে সময় বাঁচিয়েছেন, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে গনিত দিয়ে শুরু করে, খারাপ না। তবে যদি প্রথমে সময় বেশি যায় আর এমসিকিউ খারাপ হয় তখন মানসিকভাবে ডিপ্রেশড হবেন। যেটা বাকি পরীক্ষা হ্যাম্পার করতে পারে।

আরও পড়ুন: ঢাবির ‘খ’ ইউনিটে পাস করলেই হবে না, মেধাক্রমও গুরুত্বপূর্ণ

তাই আগে আপনার সব থেকে স্ট্রং জোন যেটা যেটাতে সময় কম লাগবে ওইটা আগে দাগাবেন। ফলে ভালোভাবে শুরু হলে মেজাজ ফুরফুরে হবে। এতে করে পরীক্ষাও ভালো হবে।

বায়োলজির পর রসায়ন দাগাতে পারেন। ওখানেও খুব একটা সময় লাগে না। কারণ খুব বেশি ম্যাথ থাকে না রসায়নে। বেশির ভাগই বেসিক থিওরি। ওখানেও সময় বাঁচবে। তারপর দেখবেন পদার্থ আর গনিত প্রত্যেকটা এমসিকিউর জন্যে ১ মিনিটেরও বেশি সময় পাবেন। যেটা আপনার প্রয়োজন। এটা সময় বাঁচানোর কৌশল।

এখন পরীক্ষার জন্যে কীভাবে প্রস্তুতি নেয়া যায় সেটা শেয়ার করি

গনিত

আপনাদের তো সর্ট সিলেবাস। তাই যে কয়েকটা অধ্যায় দেয়া আছে তার বেসিক ক্লিয়ার রাখতে হবে। ঢাবির প্রশ্নই হয় বেসিকের দক্ষতার উপর। ম্যাট্রিক্সের কিছু সিলেকটিভ জায়গা থেকে প্রশ্ন হয়। প্রশ্ন ব্যাংক ৫ বার বুঝে শেষ করেন। সম্ভব না হলে ৩ বার করলেই বুঝে যাবেন কোন কোন যায়গা থেকে প্রশ্ন হয়। প্রশ্ন কিছু সিলেকটিভ টপিক্সের বাইরে যায় না বললেই চলে।

আর আপনাকে কিছু শর্টকাট পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। আপনারা এতদিনে বুঝেও গেছেন যে অনেক শর্টকাট টেকনিক মুখস্থ করতে হবে বুঝে বুঝে। রেগুলার গনিত চর্চা করতে হবে, না হলে ভুলে যাবেন। ব্যবকোলন আর সমাকোলন সূত্র যেন সব ঠোঁটস্থ থাকে; এই দুইটায় দক্ষতা আসবে। বেশি বেশি প্রাকটিস করবেন আর সিলেক্টেড কিছু শর্টকাট ট্রিকসের অনুসরণ করবেন। বেসিক ক্লিয়ার রাখার চেষ্টা করবেন। তাহলে প্রশ্ন দেখলেই মাথায় খেলে যাবে কিভাবে করবেন।

পদার্থ

মোট ১০টা অধ্যায়। সবগুলোতেই বেসিক ক্লিয়ার থাকা আবশ্যক। আবার বলছি প্রশ্ন ব্যাংকের কোনো বিকল্প নাই। ইভেন কমনও পড়ে যায় অনেক প্রশ্ন। সেগুলোতে আপনার সময় বেচে যাবে। এই ১০টা অধ্যায়ের বিগত বছরের প্রশ্ন দেখলেই বুঝবেন কোন কোন জায়গায় বারবার হিট করে। প্রশ্ন ব্যাংকের বিকল্প নাই আবার বললাম। যেগুলো রেগুলার আসে ওই টপিকগুলা একদম বেসিক। প্রশ্ন সলভসহ ক্লিয়ার রাখবেন। বাকি জিনিসপাতি দেখবেন কিন্তু হট টপিকস দেখলেই বুঝবেন সেটায় গুরুত্ব বেশি। আর যেটা পারবেন না; সময় নষ্ট করবেন না। স্কিপ করবেন। পরে সময় হলে দেখবেন।

রসায়ন

সব বেসিক লেভেল থেকে প্রশ্ন হবে। ভালো প্রস্তুতিতে রসায়নে ভালো মার্ক কম সময়ে উঠানো সম্ভব। জৈব যৌগের সিলেক্টেড কিছু জায়গা থেকেই প্রশ্ন হয়, নামীয় বিক্রিয়াগুলা দেখতে ভুলবেন না, ক্যানিজারো, অ্যালডল ঘনিভবন, উর্টজ বিক্রিয়া, যত নামীয় বিক্রিয়া দেখে যাবেন।

বেনজিন ভালোভাবে পড়বেন, কোনটার সাথে কোনটা দিলে কোন বিকারক (অ্যালডিহাইড, কিটোন, অ্যালকোহল, এসিড) উৎপন্ন হয়। এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ; মিস করা যাবে না। লিখিতের জন্যেও এই অধ্যায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ। রেগুলার পরীক্ষা দিয়ে যেকোনো ভলো প্রতিষ্ঠানে নিজেকে, আর নিজের প্রস্তুতি যাচাই করতে হবে।

জীববিজ্ঞান

সব টপিকস পড়া লাগে না, প্রশ্ন ব্যাংক দেখবেন শুধু বায়োলজির ২০ বছরের বুঝে যাবেন। আর পারলে ২০ বছরের প্রশ্ন অধ্যায় ভিত্তিকভাবে যেগুলা আছে মুখস্থের মত করবেন। অনেক কমন পড়বে। বই দাগিয়ে পড়তে হবে। কিভবে দাগাবেন? মনে করেন ১টা অধ্যায় পড়বেন, আগে ওই অধ্যায়ের বিগত বছরের আসা প্রশ্নগুলা দেখবেন। তারপর পড়া শুরু।

এরপর এক রং-এর কলম দিয়ে প্রথমে একবার অধ্যায়টা পড়ে দাগাবেন; রেস্ট নেবেন না। সাথে সাথে দাগানো লাইনগুলার দিকে নজর দিন; এই সময়ে অন্য বাকি সব স্কিপ। দেখবেন কিছু মুখস্থ আছে কিছু নাই। এইবার পড়তে হয়ত ২০ মিনিট লাগবে।

যেগুলো কঠিন পাবেন একেবারে মুখস্থ হয় না ওগুলোর নিচে আরো একটা অন্য রং-এর কালি দিয়ে দাগ দিন। পড়া শেষ করলেন। থামবেন না, এখন ডাবল দাগানো লাইনগুলা দেখবেন শুধু। দেখবেন কমে আসছে বই। এভাবে ৫-৬ মিনিটের মধ্যেই ১টা করে অধ্যায় পড়ার সক্ষমতা তৈরি হবে।

সবশেষে বলব পরীক্ষা দেন প্রচুর। তাহলে সময় মেইনটেইন করার দক্ষতা বাড়বে। মডেল টেস্ট দেন বেশি বেশি। দেখেন কোন কোন জায়গায় সমস্যা। জোড় দেন ওই জায়গাগুলোতে। ক্যালকুলেটর যেহেতু নাই, হাতে-কলমে হিসাব করার জন্যে প্রচুর প্রাকটিস করতে হবে। তাহলে খুব ইজিলি হাতে-কলমেই করতে পারবেন আশা করি।

এই কয়েকদিন একটু কষ্ট করুন। আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছে যাবেন ইনশাআল্লাহ। আর সবাই নিজ নিজ ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন, দোয়া করেন। কান্না করেন সৃষ্টিকর্তার কাছে। আপনার চাহিদা জানান তাকে। শুভকামনা আপনাদের জন্য। দেখা হবে ক্যাম্পাসে ইনশাআল্লাহ।

লেখক: শিক্ষার্থী, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


সর্বশেষ সংবাদ