ইন্টারনেট ব্যবহারে আদবকেতা: পর্ব-৩
প্রতীকী ছবি © টিডিসি
রাজনীতি এখন আর শুধু মাঠ-ঘাট বা সভা-সমাবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারে রাজনীতির অন্যতম বড় মঞ্চ হয়ে উঠেছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। ফেসবুক, এক্স, ইউটিউব কিংবা অনলাইন নিউজপোর্টালের মন্তব্য বিভাগ—সবখানেই রাজনৈতিক ভিন্নতা প্রকাশ এখন স্বাভাবিক বিষয়। তবে রাজনৈতিক ভিন্নমত প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রায়ই শিষ্টাচার হারিয়ে যায়।
মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অনুষঙ্গ হলেও অনলাইনে তা পরিণত হচ্ছে বিদ্বেষ, অপমান, গুজব, মিথ্যা প্রচারণা ও ঘৃণার ভাষায়। এর ফলে সামাজিক সম্প্রীতি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি দুর্বল হয়ে পড়ছে গণতান্ত্রিক ভিত্তিও। এজন্য বিশেষজ্ঞরা অনলাইনে রাজনৈতিক শিষ্টাচার রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভিন্নতা অনিবার্য। মতাদর্শ, দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থানের পার্থক্য রাজনীতিকে বহুমাত্রিক করে তোলে। তবে সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন এই ভিন্নতা প্রকাশ পায় শিষ্টাচারবিবর্জিত রূপে। অনলাইন পরিসরে রাজনৈতিক বিতর্ক প্রায়ই রূপ নেয় ঘৃণা ও প্রতিহিংসার হাতিয়ারে। এতে যেমন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয়, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রজুড়েও তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। দেশজুড়ে তৈরি হয় অনৈক্য ও বিভাজন।
বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য ও আলোচনায়ও শিষ্টাচারের অভাব লক্ষ্য করা যায়। যুক্তিনির্ভর বিতর্ক এড়িয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ, প্রতিহিংসা, অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো হয়ে ওঠে রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক অস্বাস্থ্যকর অংশ। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সমর্থক ও কর্মীদের ওপরও।
রাজনৈতিক শিষ্টাচার মূলত তিনটি স্তরে প্রতিফলিত হয়। প্রথমত, ভাষায় শালীনতা থাকবে—অশ্রাব্য শব্দ, গালাগালি বা ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলতে হবে। দ্বিতীয়ত, আচরণে সংযম থাকতে হবে—ভিন্ন মত হলেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ও পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে হবে। তৃতীয়ত, যুক্তিনির্ভরতা থাকতে হবে—সমালোচনা হতে হবে ব্যক্তিকে নয়, তার বক্তব্য ও কর্মপদ্ধতিকে কেন্দ্র করে, এবং তা তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে উপস্থাপন করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকলেই প্রতিপক্ষকে গালাগালি করতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। আমি যদি রাষ্ট্রক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামি, তবে প্রতিযোগিতা হবে কর্মসূচির ভিত্তিতে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের কাছে বোঝাতে হবে কেন আমার কর্মসূচি প্রতিপক্ষের তুলনায় উত্তম। কিন্তু বর্তমানে ব্যক্তিগত আক্রমণ, গালাগালি, চরিত্রহনন বেশি দেখা যাচ্ছে। এগুলো আগে ছিল, তবে এখন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপকতায় তা আরও বেড়েছে। ফলে পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে পড়েছে।’
রাজনৈতিক শিষ্টাচার কী?
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক শিষ্টাচার মানে হলো ভিন্ন মত প্রকাশের সময় ভদ্রতা, সংযম ও যুক্তিনিষ্ঠ ভাষা ব্যবহার করা। প্রতিপক্ষকে প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখা, শত্রু হিসেবে নয়। শিষ্টাচারের অর্থ হলো ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে নীতি, ধারণা ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে যুক্তি উপস্থাপন করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মামুন আল মোস্তফা বলেন, রাজনৈতিক শিষ্টাচারই গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম ভিত্তি। তাঁর মতে, প্রকৃত গণতন্ত্রে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কে থাকে পারস্পরিক সম্মান ও সহানুভূতি। মতভেদ থাকবে, কিন্তু তা যেন ব্যক্তিগত আক্রমণে না গড়ায়; বিতর্ক হোক নীতি, আদর্শ ও যুক্তির ভিত্তিতে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র তখনই পরিপক্ব হয় যখন ক্ষমতা হস্তান্তর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়—পরাজিত পক্ষ বিজয়ীকে অভিনন্দন জানায় এবং সহযোগিতা করে। অধ্যাপক মোস্তফার ভাষায়, রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধই একটি শক্তিশালী ও পরিণত গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রকৃত পরিচায়ক।
রাজনৈতিক শিষ্টাচার হলো এমন এক সংস্কৃতি, যেখানে ভিন্ন মত প্রকাশ করা হয় সংযত ভাষায়, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এবং প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়ে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনৈতিক শিষ্টাচার মূলত তিনটি স্তরে প্রতিফলিত হয়। প্রথমত, ভাষায় শালীনতা থাকবে—অশ্রাব্য শব্দ, গালাগালি বা ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলতে হবে। দ্বিতীয়ত, আচরণে সংযম থাকতে হবে—ভিন্ন মত হলেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ও পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে হবে। তৃতীয়ত, যুক্তিনির্ভরতা থাকতে হবে—সমালোচনা হতে হবে ব্যক্তিকে নয়, তার বক্তব্য ও কর্মপদ্ধতিকে কেন্দ্র করে, এবং তা তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে উপস্থাপন করতে হবে।
রাজনীতিবিদদের শিষ্টাচারের গুরুত্বপূর্ণ কেন?
রাজনীতিবিদরা দেশের নেতৃত্ব দেন, নীতি নির্ধারণ করেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন। যাদের হাতে দেশের চাকা ঘুরে, তাদের আচরণ কেবল ব্যক্তিগত নয়, পুরো দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে। যদি রাজনীতিবিদদের মধ্যে শিষ্টাচারের অভাব থাকে, তবে তা কেবল ব্যক্তিগত কলঙ্ক নয় বরং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পুরো সমাজে।
মোটামুটি মানুষের রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে যা প্রত্যাশা, তা হলো দেশপ্রেম, সততা, দায়িত্বশীলতা, সহনশীলতা ও নৈতিকতার মানদণ্ড। এই সব গুণই রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ। একজন রাজনীতিবিদ যদি নিজের ভাষা ও আচরণে সংযম ও ভদ্রতা বজায় রাখেন, তবে তা তৃণমূল কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ জনগণের আচরণেও প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, নেতিবাচক বা উসকানিমূলক বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায়, বিভাজন ও সংঘাতের জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা যেহেতু নেতৃত্ব দেন, নীতি নির্ধারণ করেন এবং সরকার পরিচালনা করেন, তাই দৃষ্টান্ত স্থাপন তাদেরই দায়িত্ব। যদি একজন ক্ষমতাবান রাজনীতিবিদ উসকানিমূলক বা বিদ্বেষমূলক ভাষা ব্যবহার করেন, তাহলে তার কর্মী ও সমর্থকরা আরও উৎসাহ পাবে অনৈতিক আচরণে, গালাগালি ও সহিংসতায় অংশগ্রহণে। ফলে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
শিষ্টাচার শুধুমাত্র ভাষার সীমাবদ্ধতায় সীমাবদ্ধ নয়। এটি নীতি, কর্মপদ্ধতি ও রাজনৈতিক আচরণের প্রতিফলন। নির্বাচনী প্রচারণায় শালীন ভাষা, বিতর্কে যুক্তি নির্ভর আক্রমণ, ক্ষমতা হস্তান্তরে সৌজন্য ইত্যাদি সবই শিষ্টাচারের অংশ। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যদি ব্যক্তিগত আক্রমণ, প্রতিহিংসা বা ঘৃণার ভাষায় ঘেরা থাকে, তবে তা গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতিকে হুমকির মুখে ফেলে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক নির্বাচনী ও রাজনৈতিক আন্দোলনের উদাহরণ দেখলে বোঝা যায়, রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অভাব তৃণমূল পর্যায়ে কীভাবে উত্তেজনা এবং সংঘাত সৃষ্টি করে। নেতৃবৃন্দের বক্তব্য যদি শান্তিপূর্ণ ও নৈতিক হয়, তবে কর্মী ও সমর্থকরা সেটাকে অনুসরণ করে। আর যদি নেতারা হিংসা ও গালাগালি ছড়ান, তবে তা সমাজে বিভাজন এবং সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনীতি মানুষের মধ্যে বিভাজন নয়, বরং ঐক্য প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হওয়া উচিত। আমরা এমন নেতৃত্ব কামনা করি, যারা মতবিরোধ থাকলেও প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান দেখাতে জানেন। যারা অহংকারে নয়, বিনয়ে ভরা আচরণে জাতিকে সামনে এগিয়ে নিতে সক্ষম। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রতিহিংসা নয়, বরং সহমর্মিতা ও সংহতি প্রকাশ করা প্রয়োজন।
দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং সারির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা এই মৌলিক নীতি প্রায়ই ভুলে যান। ব্যক্তিগত মতবিরোধ বা দলীয় স্বার্থের কারণে তারা সংযম ও শিষ্টাচার বিসর্জন দেন। এর ফলে সমাজে বিভাজন বৃদ্ধি পায়, রাজনৈতিক পরিবেশ বিষাক্ত হয় এবং সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

রাজনীতিকরা শিষ্টাচারবর্জিত সমাজে এর কী প্রভাব পড়ে জানতে চাইলে মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাজনীতিকরা শিষ্টাচারবর্জিত সমাজটা নষ্ট হয়ে যায়৷ আমরা তো এ-ও দেখি, বিশেষ করে ফেসবুকে কেউ শিষ্টাচারবর্জিত কথাবার্তা বললে তার পক্ষে-বিপক্ষে লোক দাঁড়িয়ে যায়৷ যিনি শিষ্টাচারবর্জিত কথাবার্তা বলেন, তার পক্ষেও অনেকে দাঁড়িয়ে যান৷ সাফাই গেয়ে বলেন, তিনি তো ওই সময় এই কথা বলেছিলেন৷ শিষ্টাচারবর্জিত আচরণ ঠেকানোর জন্য কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক তৎপরতা আমরা দেখি না৷ বরং আমরা দেখি, একটা সংগঠনে একজন যত বেশি উগ্র কথা বলতে পারেন, বেয়াদবি করতে পারেন, যত বেশি আক্রমণাত্মক হতে পারেন, তখন তার প্রমোশন হয়।’
রাজনৈতিক ভিন্নতার মধ্যেও শিষ্টাচারে ঐক্য জরুরি
রাজনীতিবিদ, কর্মী-সমর্থকসব সব শ্রেণির মানুষের মধ্যেই অনলাইনে রাজনৈতিক শিষ্টাচার জরুরি। এখানে ভিন্ন মত থাকবে, বিতর্ক থাকবে কিন্তু সেটি হতে হবে তথ্যভিত্তিক ও শালীন। রাজনৈতিক শিষ্টাচার মানে প্রতিপক্ষকে সম্মান করা, গুজব এড়িয়ে চলা এবং সমাজের কল্যাণে যুক্তি তুলে ধরা।
আরও পড়ুন: অনলাইনে যে ভদ্রতাটুকু না জানলেই নয়
অনলাইনে রাজনৈতিক ভিন্নতার মধ্যেও শিষ্টাচারে ঐক্য বজায় রাখা শুধু সভ্যতার দাবি নয়, এটি একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশেরও পূর্বশর্ত। অনলাইনে রাজনৈতিক ভিন্নতার মধ্যেও শিষ্টাচারে ঐক্য বজায় রাখা সময়ের দাবি, একইসঙ্গে এটি একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য শর্ত। রাজনৈতিক শিষ্টাচারের গুরুত্ব কয়েকটি নির্দিষ্ট দিক থেকে বিশ্লেষণ করা হলো।
১. গণতন্ত্র, সহনশীলতা ও ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তোলা
গণতন্ত্র টিকে থাকে মতবৈচিত্র্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর। ভিন্ন মতকে স্বীকৃতি না দিলে গণতন্ত্র একপাক্ষিক হয়ে পড়ে, আর তাতেই জন্ম নেয় বিভাজনের রাজনীতি। অনলাইনে প্রায়ই দেখা যায়, একটি দল অন্য দলের নেতাকর্মীকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে—গুজব ছড়ানো, কুৎসা রটানো, কিংবা অশালীন ভাষা ব্যবহার যেন রীতিতে পরিণত হয়েছে। এসব আচরণ গণতন্ত্রের আসল শক্তি—খোলামেলা বিতর্ক ও যুক্তিনির্ভর আলোচনাকে দুর্বল করে দেয়।
রাজনৈতিক শিষ্টাচার মানা হলে নেতাকর্মীরা সংযমী হন, প্রতিপক্ষকেও সহনশীল দৃষ্টিতে দেখেন। এতে ঘৃণা ও সহিংসতা কমে আসে, সমাজে সম্প্রীতি বাড়ে, আর গুজব-বিদ্বেষের জায়গা নেয় তথ্যভিত্তিক বিতর্ক। শিষ্টাচারপূর্ণ রাজনীতি গণতন্ত্রকে টেকসই করে, বিভাজন কমিয়ে আনে এবং একটি ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলে।
২. সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা
অনলাইনে রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা প্রায়ই বাস্তব জীবনের সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়। বন্ধু-পরিজন, আত্মীয় কিংবা সহকর্মী রাজনৈতিক কারণে দূরে সরে যান। শিষ্টাচার রক্ষা করলে রাজনৈতিক ভিন্নতা সম্পর্কের অন্তরায় হয় না; বরং তা হতে পারে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার একটি নতুন সেতু।
৩. তথ্যভিত্তিক আলোচনা উৎসাহিত করা
গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার অন্যতম শর্ত হলো তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি নির্ভর আলোচনা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, অনলাইনে রাজনৈতিক বিতর্ক প্রায়ই তথ্যহীন গালাগালিতে গড়ায়। অথচ তথ্যনির্ভর আলোচনা সাধারণ নাগরিককে সচেতন করে, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেয়। নেতারাও এতে জবাবদিহি করতে বাধ্য হন।
আরও পড়ুন: ধর্মের পবিত্রতা থাকুক ডিজিটাল জীবনের বিশ্বাসেও, কথায় আসুক সতর্কতা
৪. ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি
নতুন প্রজন্ম রাজনীতি শেখে অনলাইন ও বাস্তব দুই ক্ষেত্রেই। যদি তারা প্রতিনিয়ত রাজনীতিবিদ ও কর্মীদের ব্যক্তিগত আক্রমণ, কটূক্তি ও প্রতিহিংসামূলক আচরণ দেখতে পায়, তবে তারা রাজনীতিকে ঘৃণা করবে। বিপরীতে, শিষ্টাচারপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনা ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করে। এটি ভবিষ্যতের জন্য সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলে।
৫. আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি বাড়ানো
বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল যুগে। অনলাইনে যা বলা হচ্ছে, তা শুধু দেশের মানুষই নয়, বিদেশের মানুষও দেখতে পাচ্ছে। রাজনৈতিক নেতাদের অশালীন বা উসকানিমূলক বক্তব্য দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অন্যদিকে, শালীনতা ও শিষ্টাচার বজায় রেখে অনলাইন রাজনীতি দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে পারে।
৬. রাজনীতির মানোন্নয়ন
রাজনীতির মান যত উন্নত হবে, ততই রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। বর্তমানে অনলাইনে প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে দেখার প্রবণতা রাজনৈতিক আলোচনার মান কমাচ্ছে। অথচ ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা রাজনীতিকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলতে পারে।
সর্বোপরি, রাজনীতি মানুষকে বিভক্ত করার নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যম হওয়া উচিত। আমরা এমন নেতৃত্ব চাই, যারা ভিন্ন মত থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষকে সম্মান করতে জানেন; অহংকার নয়, বিনয়ে জাতিকে এগিয়ে নিতে সক্ষম; প্রতিহিংসা নয়, সহমর্মিতা প্রকাশ করতে পারেন। অনলাইনে রাজনৈতিক শিষ্টাচার রক্ষা করা শুধু সভ্যতার দাবি নয়—এটি গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা, সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি উপহার দেওয়ার পূর্বশর্ত।