শেষ মুহূর্তে বাতিল স্পেসএক্সের স্টারশিপ উৎক্ষেপণ

১৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৬ PM
স্পেসএক্সের মেগা রকেট স্টারশিপ

স্পেসএক্সের মেগা রকেট স্টারশিপ © সংগৃহীত

উড্ডয়নের মাত্র এক সেকেন্ড আগে শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে স্পেসএক্সের মেগা রকেট স্টারশিপের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ। উৎক্ষেপণের ঠিক আগে কয়েকটি ইঞ্জিন চালু না হওয়ায় রকেটের স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরো প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) টেক্সাসের স্টারবেস উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রকেটটির ১৩তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন হওয়ার কথা ছিল। তবে উৎক্ষেপণ মঞ্চ থেকেই মিশনটি বাতিল করা হয়।

স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক জানান, পরবর্তী উৎক্ষেপণের আগে দুটি ইঞ্জিন পরিবর্তন করা হবে। তিনি বলেন, ‘একটি ভালো উড্ডয়নের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হতে দুটি ইঞ্জিন প্রতিস্থাপন করা হবে।’

মাস্ক আরও জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে আবারও উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হতে পারে।

৪০৭ ফুট (১২৪ মিটার) লম্বা স্টারশিপে মোট ৩৩টি র‌্যাপ্টর ইঞ্জিন রয়েছে। স্পেসএক্সের লাইভ সম্প্রচারে দেখা যায়, নির্ধারিত উৎক্ষেপণের তিন সেকেন্ড আগে ইঞ্জিনগুলো চালু হওয়া শুরু করে। তবে চারটি ইঞ্জিন চালু না হওয়ায় বাকি ২৯টি ইঞ্জিনও সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় এবং রকেটটি উৎক্ষেপণ মঞ্চেই থেকে যায়।

এটাই প্রথমবার, কোনো পূর্ণাঙ্গ স্টারশিপ রকেটের উৎক্ষেপণ একেবারে শেষ মুহূর্তে এভাবে বাতিল হলো। উৎক্ষেপণ বাতিলের পরপরই রকেট থেকে জ্বালানি নিরাপদে বের করে নেওয়ার কাজ শুরু করে স্পেসএক্সের প্রকৌশলীরা।

কোম্পটি জানায়, আবহাওয়াসহ সব পরিস্থিতিই উৎক্ষেপণের অনুকূলে ছিল। তবে পর্যাপ্ত সংখ্যক ইঞ্জিন চালু না হওয়ায় রকেটের স্বয়ংক্রিয় উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা নিরাপত্তার স্বার্থে মিশন বন্ধ করে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কম সংখ্যক ইঞ্জিন নিয়ে উৎক্ষেপণ করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। এর আগেও স্টারশিপের কয়েকটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন বিস্ফোরণের মাধ্যমে শেষ হয়েছে।

এই মিশনে স্টারশিপে স্পেসএক্সের নতুন ও উন্নত ২০টি স্টারলিংক ইন্টারনেট স্যাটেলাইট বহন করা হচ্ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এগুলো কক্ষপথে পৌঁছে স্টারশিপের হিট শিল্ডের ছবি সংগ্রহ এবং কক্ষপথে থাকা অন্যান্য স্টারলিংক স্যাটেলাইটের সঙ্গে যোগাযোগের পরীক্ষা চালানোর কথা ছিল।

আরও পড়ুন : নিজেই পোশাক পরিয়ে দেবে রোবট, এমন প্রযুক্তি উন্মোচন করলেন গবেষকরা

প্রায় এক ঘণ্টার এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে প্রথম ধাপের বুস্টার এবং স্টারশিপ দুটিই সমুদ্রে অবতরণের পরিকল্পনা ছিল। এগুলো পুনরুদ্ধারের কোনো পরিকল্পনা ছিল না।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এই রকেট ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটি আর্টেমিস কর্মসূচির আওতায় চাঁদে নভোচারী অবতরণ করাতে স্টারশিপকে লুনার ল্যান্ডার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর্টেমিস-৩ মিশনের আগে স্টারশিপ ও ব্লু অরিজিনের ব্লু মুন ল্যান্ডারকে প্রস্তুত করা হবে। এরপর আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে নভোচারী অবতরণের লক্ষ্য রয়েছে, যা ২০২৮ সালের আগে হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তথ্যসূত্র : এপি। 

কৃষকের কষ্টার্জিত ২ লাখ টাকা কেটে নষ্ট করল ইঁদুর-উইপোকা
  • ০৯ আগস্ট ২০২৬
৫০৩ কোটির বাজেট অনুমোদন: পরিকল্পনার শেষ নেই, বাস্তবায়ন কতটু…
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
আর্জেন্টিনার পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের …
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
ঢাবির গণরুম-গেস্টরুমের দুঃসহ ঘটনা ও স্মৃতি নিয়ে ম্যাগাজিনের…
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
যৌতুকের মামলায় বিসিএস ক্যাডার গ্রেপ্তার
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
বর্ষা-শরতে ‘চোখ ওঠা’র উৎপাত: বাঁচবেন কীভাবে, হলে প্রতিকার কী
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬