সন্তানের স্ক্রিন টাইম কমানোর সহজ ৫ কৌশল

১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৫২ PM
প্রতীকি ছবি

প্রতীকি ছবি © এআই সম্পাদিত ছবি

স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শিশু-কিশোরদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তবে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেক অভিভাবকই হঠাৎ করে সন্তানদের হাত থেকে ফোন কেড়ে নেওয়ার কথা ভাবেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কার্যকর সমাধান নয়। বরং ধীরে ধীরে অভ্যাস পরিবর্তন, খোলামেলা আলোচনা এবং ইতিবাচক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সন্তানদের অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে শিশু মনোবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এ বিষয়ে পাঁচটি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথমেই ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন শিশু মনোবিজ্ঞানী ড. জেন গিলমোর। তার মতে, দীর্ঘদিনের অভ্যাস একদিনে বদলানো সম্ভব নয়। তাই স্ক্রিন টাইম নিয়ে উত্তপ্ত তর্কের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত না নিয়ে শান্ত পরিবেশে সন্তানদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, ‘বাড়ির একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফোন বা ট্যাবলেট রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। চার্জারও সেই জায়গায় রাখলে ব্যবহার শেষে ডিভাইসটি সেখানে রেখে দেওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে।’

শিশু মনোবিজ্ঞানী ড. মেরিহ্যান বেকার বলেন, ‘স্ক্রিন টাইমের নিয়ম সন্তানদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে তাদের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে টিনএজারদের ক্ষেত্রে বন্ধুদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আলোচনা করলে তারা নিয়ম মানতে বেশি আগ্রহী হয়।’

অভিভাবকত্ব বিষয়ক কোচ অলিভিয়া এডওয়ার্ডস বলেন, ‘সন্তানদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে তাদের স্ক্রিন ব্যবহারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সহজ হয়। এজন্য সন্তান অনলাইনে কী ধরনের ভিডিও বা কনটেন্ট দেখছে, সে বিষয়ে আগ্রহ দেখানোও গুরুত্বপূর্ণ।’

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, স্ক্রিন টাইমকে শেখার সুযোগ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে কাজ করে, কীভাবে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে চায় বা কোন তথ্য সত্য-মিথ্যা তা যাচাই করার কৌশল এসব বিষয় নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে আলোচনা করলে তাদের ডিজিটাল সচেতনতা বাড়ে।

ড. জেন গিলমোর বলেন, ‘অভিভাবকরা সন্তানদের সঙ্গে বসে কোনো কনটেন্ট দেখে প্রশ্ন করতে পারেন, তোমার কি মনে হয় এটা সত্যি? কীভাবে নিশ্চিত হবে?’

বিশেষজ্ঞদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো, অভিভাবকদের নিজেদেরও ফোন ব্যবহারের অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ শিশুরা বড়দের আচরণ থেকেই বেশি শেখে। তাই সন্তানদের সামনে সারাক্ষণ ফোনে ব্যস্ত না থেকে নিজেরাও স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

আরও পড়ুন : ইস্টার্ন ব্যাংকে ট্রেইনি রিলেশনশিপ অফিসার নিয়োগ

ড. মেরিহ্যান বেকার বলেন, ‘সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলাভাবে নিজের ফোন ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা করা যেতে পারে। এতে তারা বুঝতে পারে, এটি শুধু তাদের নয়, সবার জন্যই একটি চ্যালেঞ্জ।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সব সময় ব্যস্ত রাখতে হবে এমন ধারণাও ঠিক নয়। মাঝে মাঝে কিছু না করে বসে থাকা, কল্পনা করা বা নিজের মতো সময় কাটানো তাদের সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

সবশেষে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এসেক্সের ডিজিটাল কমিউনিকেশন বিষয়ের রিডার ড. টনি স্যাম্পসনঅভিভাবকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে অতিরিক্ত ভয় বা গুজবে বিশ্বাস করার প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, ‘শিশু ও কিশোরদের মস্তিষ্কে নিউরোপ্লাস্টিসিটি বা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বেশি থাকে। তাই সঠিক দিকনির্দেশনা ও ইতিবাচক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তারা সহজেই স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে। প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এটি সৃজনশীলতা, শেখা এবং নতুন কিছু আবিষ্কারের সুযোগও বাড়িয়ে দেয়।’ তথ্যসূত্র : বিবিসি।

বাঁচানো গেল না জবি ছাত্রদল নেতা নিক্সনের স্ত্রীকে, বাঁচেনি …
  • ১৭ জুলাই ২০২৬
ছুরিকাঘাতে আহত এইচএসসি পরীক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস…
  • ১৭ জুলাই ২০২৬
ক্যাম্পাসে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার যবিপ্রবি ছাত্রী
  • ১৭ জুলাই ২০২৬
সাতকানিয়ায় বন্যা পরবর্তী বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ বিতরণ করল…
  • ১৭ জুলাই ২০২৬
ব্যবসায়ীর বাড়িতে দেড় ঘণ্টার ডাকাতি, ১০ লাখ টাকা ও ৩০ ভরি স্…
  • ১৭ জুলাই ২০২৬
হবিগঞ্জে ঘাস কাটতে গিয়ে সাপের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু
  • ১৭ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence