৪ তারিখের আন্দোলন কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা

০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৬ AM
অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী

অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী © সংগৃহীত

৪ নভেম্বর ঢাকায় বড় পরিসরে অবস্থান ও উন্মুক্ত কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তবে তাদের দাবি আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ওই দিন ঢাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী জমায়েত না করে ইনডোরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ও দাবির বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন তারা। সোমবার (২ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভে এসে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী।

তিনি বলেন, আপনারা ইতিমধ্যে ৪ নভেম্বরের কর্মসূচির সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য অপেক্ষা করছেন। সারা দেশের প্রত্যেকটি জেলা ও উপজেলায় আপনারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। আজ সারা দিন জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আপনাদের কথাবার্তা হয়েছে। দেশের কোথায় কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, সে তথ্যও আমরা সংগ্রহ করেছি। রাত ১০টা থেকে ১০টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং আমাদের পাঁচটি সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে বৈঠক করেছি। সেখানে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেসব সিদ্ধান্ত জানাতেই আজ লাইভে এসেছি।

‘প্রথমেই বলতে চাই, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অধিকার আদায় এবং বৈষম্য থেকে মুক্তির লক্ষ্যেই আমরা আন্দোলন করে আসছি। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট এবং শতভাগ উৎসব ভাতা বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে আমাদের প্রতিটি কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল পেশাগত দাবি আদায়। এসব আন্দোলনের সঙ্গে বিন্দুমাত্র রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

আপনারা জানেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমাকে এনএসআই কার্যালয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। সে সময় আমার সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির আরও দুজন নেতাও ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও আমাকে ও অন্য নেতৃবৃন্দকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিভিন্ন সময়ে আমাদের রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমাদের বিএনপি বা জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগও করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে এমন কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা প্রতিবেদনও আমাদের পক্ষে ছিল। আমরা বরাবরই শুধু পেশাগত দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছি। বাংলাদেশের শিক্ষক-কর্মচারীরা বিষয়টি জানেন।’

অধ্যক্ষ আজিজী বলেন, আপনারা দেখেছেন, গত শনিবার সারা দেশে শতাধিক স্থানে জোটের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আপনারা নিজেরাও এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। ওই কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের তিন দফা দাবি সরকারের কাছে পৌঁছে গেছে। এরপর রবিবার সকালে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা শিগগিরই নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন। এ বক্তব্যের সময় ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। পরে রবিবার সন্ধ্যার দিকে সরকারের পক্ষ থেকে স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিটি পাওয়ার পর অনেকে এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। আমরা যাচাই করেই বিষয়টি নিয়ে লাইভে কথা বলেছি এবং তথ্যটি শেয়ার করেছি।

‘আমাদের তিন দফা দাবির মধ্যে প্রথমটি হলো বদলি, দ্বিতীয়টি নবম পে-স্কেল এবং তৃতীয়টি শতভাগ উৎসব ভাতা। বদলির ক্ষেত্রে সরকারের কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই। এখানে শুধু সরকারের সদিচ্ছা ও একটি আদেশই যথেষ্ট। সরকার চাইলে যেকোনো সময় এ দাবি বাস্তবায়ন করতে পারে। দ্বিতীয় দাবি নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন। এটি ছোটখাটো কোনো বিষয় নয়। শুধু স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্যই তিন হাজার কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন। এর বাইরে মাদ্রাসায় প্রায় দুই লাখ শিক্ষক রয়েছেন। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্যও অর্থের প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে এ খাতে আরও কয়েক হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। তবে আমাদের বড় দাবি নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার এক ধাপ এগিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়টি নাকচ করার সুযোগ নেই, কারণ সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করছি, অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা করে অল্প সময়ের মধ্যেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।’

লাইভে তিনি বলেন, আজ আমরা একটি মাধ্যমের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। ওই মাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, এক মাসের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, ডিসেম্বরের বেতনের সঙ্গে শিক্ষকরা নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তবে এটি তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়; তাই বিষয়টি আমি অনানুষ্ঠানিকভাবে জানাচ্ছি। সরকার আমাদের দাবির বিষয়ে এক ধাপ এগিয়ে এসেছে। আমরা যেহেতু দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করি, তাই সরকারের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। সরকারেরও আমাদের সঙ্গে কোনো শত্রুতা থাকার কথা নয়। দাবি আদায়ের জন্য মাঠে নামলে অনেক সময় সরকার বলপ্রয়োগ করে বা ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য শুধু পেশাগত অধিকার আদায়।

‘সরকার যখন আমাদের দাবির বিষয়ে এক ধাপ এগিয়ে এসেছে, তখন শিক্ষক সংগঠন হিসেবে আমাদেরও এক বা দুই ধাপ এগিয়ে যাওয়া উচিত। আপনারা জানেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যাপক আন্দোলন চলছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে একটি বড় ধরনের অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আমরা শুনেছি, প্রায় ৫৫০টি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানায় লাখ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, আমরা সরকারের প্রতিপক্ষ নই। সরকার বেকায়দায় পড়ুক কিংবা চাপে পড়ুক এমন কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা কখনো আন্দোলন করি না। আপনারা জানেন, বর্তমানে রাজনৈতিক আন্দোলন চলছে। এর পাশাপাশি গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। অনেক শ্রমিক কারখানার বাইরে রয়েছেন। আগামীকাল তারা আবার আন্দোলনে নামবেন কি না, সেটিও অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে চাপ তৈরি হোক, তা আমরা চাই না। আমাদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ৪ নভেম্বরের কর্মসূচিতে ঢাকায় অন্তত ৩০০ থেকে ৫০০ শিক্ষক আসতে পারেন। সারাদেশের নেতৃবৃন্দের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এই সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ হাজারেও পৌঁছাতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এতসংখ্যক শিক্ষককে ঢাকায় এনে কর্মসূচি পালন করলে সরকার আরও চাপে পড়তে পারে। সরকার যখন আমাদের পে স্কেলের বিষয়ে একটি কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে, তখন আমরা এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই না, যাতে সরকার আমাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে।

শেষে তিনি বলেন, বাস্তবে আমরা সরকারের প্রতিপক্ষ নই; আমরা সরকারের বেতনভোগী পেশাজীবী। আমরা সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী। সরকার ভালো থাকলে আমরাও ভালো থাকব। দেশে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব আমাদের ওপরও পড়বে। তাই আমাদের কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করা সমীচীন হবে না বলে আমরা মনে করছি। আমরা সরকারকে এটিও বোঝাতে চাই, শিক্ষকরা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করলেই এর সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খোঁজার কোনো কারণ নেই। আমরা আমাদের পেশাগত দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যেই আন্দোলন করছি। এর বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা আজ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের আন্দোলন ও দাবি আদায়ের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তবে ৪ নভেম্বরের কর্মসূচিতে আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী এতসংখ্যক শিক্ষককে ঢাকায় এনে উন্মুক্ত স্থানে কর্মসূচি পালন করা হবে না। আমরা কর্মসূচিটি বাইরে থেকে ইনডোরে নিয়ে যাচ্ছি।

ফের গ্যাসের দাম বৃদ্ধি জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত দাবি করে ব…
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
৪ তারিখের আন্দোলন কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষ…
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
২৫ হাজার বোলার থেকে উঠে এলেন সেরা ২১, পুরস্কৃত করল বিসিবি
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল, জামায়াত নেতার পদ স্থগিত
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
ক্রিকেটারদের জন্য নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে বিসিবি, ইঙ্গিত দিলেন ত…
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রাজি…
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950