শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টরা © সংগৃহীত
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে রাজনৈতিক নেতাদের বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতারা। একই সঙ্গে আসন্ন ঈদুল ফিতরের পূর্বেই শতভাগ উৎসব ভাতা পরিশোধের আহ্বান জানান তারা।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এসব দাবি তুলে ধরেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে রাজনৈতিক নেতাদের বহাল রাখলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তারা দাবি করেন, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ও রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা সভাপতি থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় গতি আসবে। তাদের বক্তব্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে রাজনৈতিক নেতাদের বহাল রাখতে হবে। একজন এমপি যেন অন্তত তিনটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি থাকতে পারেন।
তথ্যমতে, এর আগে মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়। সুপারিশ অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না কোনো সংসদ সদস্য বা স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি। পাশাপাশি কমিটির প্রধান হতে হলে স্নাতক ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গঠিত কনসালটেশন কমিটির খসড়া প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির গঠন ও দায়িত্বের পরিধি—উভয় ক্ষেত্রেই সংস্কার প্রয়োজন। কমিটির সভাপতির ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে কোনো এলাকায় উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি না পাওয়া গেলে ব্যতিক্রম বিবেচনার সুযোগ রাখা যেতে পারে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি (সংসদ সদস্য বা স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি) কোনো অবস্থাতেই ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না। কমিটিতে প্রকৃত অভিভাবকদের এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদেরকে প্রাধান্য দিতে হবে।