নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের সিনিয়র কয়েকজন শিক্ষক বের হয়ে আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছিলেন। তবে বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি বিএনপির শীর্ষ হাইকমান্ড। দলের পক্ষ থেকে তাদের এক হয়ে যেতে বাবরার তাগাদা দিয়েছিল। এমনকি তাদের এক হয়ে যেতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও পরামর্শ দিয়েছিলেন। এক বছরের বেশি সময় পর অবশেষে বের হয়ে যাওয়া শিক্ষকরা সাদা দলে ফিরেছেন। সম্প্রতি সাদা দলের সাধারণ এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, মনোমালিন্যের জেরে আমাদের কিছু শিক্ষক সাদা দল থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। পরে তাদের আমরা অফিসিয়ালি জানতে চেয়েছিলোম, কেন সেটা করেছেন তারা। এখন দুঃখপ্রকাশ করেছেন তারা। এজন্য সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাদের সংগঠনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাদা দলের সর্বশেষ কমিটির হয়েছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। ২০২৫-২৬ সালের এই আহ্বায়ক কমিটিতে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানকে আহ্বায়ক আর রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে যুগ্ম আহ্বায়ক (দক্ষিণ) ও ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকারকে যুগ্ম আহ্বায়ক (উত্তর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে।
জানা গেছে, এই কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আলাদা কমিটি ঘোষণা করেছিল সাদা দলের একাংশ। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম তালুকদারকে এই কমিটির আহ্বায়ক আর উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল মুজাদ্দেদী আলফেছানীকে যুগ্ম আহ্বায়ক (উত্তর) ও তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ্ উল ইসলামকে যুগ্ম আহ্বায়ক (দক্ষিণ) করে কমিটি ঘোষণা করা হয়।
সেই সময় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছিল, ‘‘অযোগ্য নেতৃত্ব, সুবিধাবাদী সদস্য এবং বিশেষ সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক সমাজের কাছে সাদা দল গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। দলের নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছে এবং বারবার দলের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে সাদা দলের পুনর্গঠন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।’’
পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাদা দলের (মূল) সাধারণ সভায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এই ৩ শিক্ষকের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, ‘‘এখন থেকে এই তিনজন শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। তাদের সঙ্গে ঢাবি সাদা দলের হয়ে কোনো ধরনের সম্পর্ক না রাখার জন্য সভায় সকলকে পরামর্শ প্রদান করা হয়। দলের এ সিদ্ধান্তের উপেক্ষা করে তাদের সাথে কেউ যুক্ত হলে তাদের ব্যাপারেও পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’
তবে কমিটি গঠনের পর থেকে সাদা দলের বের হয়ে যাওয়া অংশটির তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। জানা গেছে, তাদের বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি বিএনপি। ফলে দলের পক্ষ থেকে তাদের এক হয়ে যেতে বাবরার তাগাদা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি মাস তিনেক আগে তাদের এক হয়ে যেতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন নেতার সঙ্গে দুই পক্ষ বসেছিলেন। সর্বশেষ গত জানুয়ারির শেষে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সবাই দুই পক্ষ এক হয়ে গেছে। এরপর সাদা দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তাদের যুক্ত করা হয়েছে।
জানতে চাইলে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হাত শক্তিশালী করতে আমরা সাদা দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের যেকোনো সংকটে আমরা বিএনপির সঙ্গে রয়েছি।