দারিদ্র্য হার মানাতে পারেনি রুকাইয়াকে, জিপিএ-৫ পেয়েও উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা

০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২২ PM
পড়ার টেবিলে রুকাইয়া পারভীন

পড়ার টেবিলে রুকাইয়া পারভীন © সংগৃহীত

দারিদ্র্য আর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে মেধার স্বাক্ষর রেখেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার হেলাই গ্রামের শিক্ষার্থী রুকাইয়া পারভীন। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করে পরিবার ও এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছেন তিনি। তবে অসাধারণ এই সাফল্যের পরও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মেধাবী শিক্ষার্থীটি। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা তার স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রুকাইয়া পারভীন হেলাই গ্রামের রকিব মল্লিক ও লাভলী ইয়াসমিন দম্পতির কনিষ্ঠ কন্যা। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ ও অধ্যবসায়ের পরিচয় দিয়ে আসছেন তিনি। ২০২৪ সালে সলিমুন্নেছা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে। এরপর সরকারি মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন।

তবে রুকাইয়ার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবারের সীমাহীন সংগ্রাম। তার বাবা রকিব মল্লিক একজন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকচালক। প্রতিদিন ইজিবাইক চালিয়ে সামান্য যে আয় করেন, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। এর মধ্যে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগানোও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে মেয়ের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন কীভাবে পূরণ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।

রুকাইয়া পারভীন জানান, ছোটবেলা থেকেই ভালোভাবে পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি হয়ে একজন প্রকৌশলী হতে চান। সেই লক্ষ্য নিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

রুকাইয়া বলেন, ‘আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। বাবার একার পক্ষে আমার উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করা কঠিন। অনেক সময় মনে হয়, অর্থের অভাবে হয়তো আমার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যাবে। সমাজের বিত্তবান ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে আমি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে একদিন আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।’

রুকাইয়ার বাবা রকিব মল্লিক বলেন, ‘আমার মেয়ের পড়াশোনার প্রতি অনেক আগ্রহ। ছোটবেলা থেকেই ভালো ফলাফল করে আসছে। সে একজন প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। আমিও চাই, মেয়েকে ভালো একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে উচ্চশিক্ষিত করতে। কিন্তু আমি একজন সামান্য ইজিবাইকচালক। প্রতিদিন যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। মেয়ের উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা শিক্ষানুরাগী মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে মেয়েটি ভালো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে। আমি চাই, আর্থিক অভাবের কারণে আমার মেয়ের মেধা ও স্বপ্ন যেন ঝরে না যায়।’

রুকাইয়ার পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তার অসাধারণ ফলাফল ও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বিবেচনা করে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, শিক্ষানুরাগী এবং বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবেন। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে রুকাইয়া তার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রেখে ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হয়ে পরিবার ও এলাকার মুখ উজ্জ্বল করতে পারবে। মেধাবী রুকাইয়ার স্বপ্ন পূরণে সমাজের সহৃদয় মানুষদের সহযোগিতাই হতে পারে তার এগিয়ে যাওয়ার শক্তি।

‎জাবি ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগে ইতিহাস পরিবহনের ১২ বাস আটক
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এমবিবিএস-বিডিএসে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছ…
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
টানা ৩ দিন যেসব এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকবে
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
শিরোপা জয়ের পরও জরিমানা গুনল পাকিস্তান
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
১৮ প্রকৌশলী নিয়োগ দেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ডিপ্লোমা…
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
‘এমনটা আশা করিনি’, একমাত্র মেসির ভোট পেয়ে মাজা
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬