খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রোম: গবেষণার স্বপ্নে নুরের বিশ্বমঞ্চে যাত্রা

২৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৪ PM , আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৫ PM
নিয়ামত হোসেন নুর ও খুবির লোগো

নিয়ামত হোসেন নুর ও খুবির লোগো © টিডিসি

শৈশবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আগ্রহ থাকলেও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনে পড়তে এসে গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় নিয়ামত হোসেন নুর। সেই গবেষণার পথ ধরে এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের তরুণ-নেতৃত্বাধীন ফরেস্ট রেস্টোরেশন গবেষণার প্রতিনিধিত্ব করতে ইতালির রোমে যাচ্ছেন খুবির সাবেক (২০১৫-১৬ সেশন) এই শিক্ষার্থী।

বর্তমানে ম্যানগ্রোভ ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কের (এমআইএন) টিম লিডার ও ডেজিগনেটেড টিম রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে নিয়ামত হোসেন অংশ নিচ্ছেন ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম ট্রান্সফরমেটিভ রিসার্চ চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এ। তাদের দল ‘ইয়ুথ-লেড রিসার্চ ফর ফরেস্ট রেস্টোরেশন’ প্রাইজ ক্যাটাগরিতে ফাইনালিস্ট নির্বাচিত হয়েছে। আগামী ৮ থেকে ১৬ অক্টোবর ইতালির রোমে ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন অব দ্য ইউনাইটেড নেশনসের (এফএও) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্টে দলের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন তিনি।

তবে এটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ফাইনালিস্ট হওয়ার গল্প নয়; বরং এটি অনিশ্চিত একটি শুরু থেকে নিজের আগ্রহের জায়গা খুঁজে নেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে চিন্তার ধরন বদলে ফেলা এবং স্থানীয় একটি পরিবেশগত সমস্যাকে বৈশ্বিক আলোচনায় নিয়ে যাওয়ার গল্প।

ফরেস্ট্রি ছিল না পরিকল্পনার অংশ
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় নিয়ামত হোসেনের ফরেস্ট্রি পূর্বপরিকল্পিত ক্যারিয়ার ছিল না। মেধাক্রমের ভিত্তিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়ার পর নতুন বিষয় ও ক্যারিয়ার নিয়ে স্বাভাবিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণার সঙ্গে হাতে-কলমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তার সেই ধারণা বদলে দেয়। তিনি বুঝতে পারেন, তার আগ্রহ কোনো নির্দিষ্ট চাকরির পদ বা প্রচলিত ক্যারিয়ার পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমস্যা নিয়ে কাজ করা, নতুন কিছু উদ্ভাবন করা এবং গবেষণার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার মধ্যেই তার আগ্রহ। ফলে ফরেস্ট্রি তার কাছে শুধু একটি একাডেমিক বিষয় না থেকে বাস্তব পরিবেশগত সমস্যা মোকাবিলার একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে।

এই পরিবর্তনের বড় বাঁক আসে থিসিসের সময়। একটি সমস্যা সম্পর্কে শুধু জানা নয় প্রশ্ন করা, প্রমাণ খোঁজা, অনুমান যাচাই করা এবং বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য সমাধান ভাবার প্রক্রিয়ার সঙ্গে তখন পরিচিত হন নিয়ামত হোসেন। সেখান থেকেই তার গবেষণার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। প্রশ্নটি আর শুধু ‘কী নিয়ে গবেষণা করব?’-এ সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘এই গবেষণা বাস্তবে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে?’ নিজেকে তিনি এখনো চূড়ান্তভাবে ‘রিসার্চার’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে চান না; বরং নিজেকে একজন ‘এনথুজিয়াস্ট’ ও ‘কন্টিনিউয়াস লার্নার’ হিসেবে দেখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

শিক্ষকের প্রভাব
এই যাত্রায় তার গবেষণা-সুপারভাইজারের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তার সঙ্গে হাতে-কলমে কাজ করতে গিয়ে গবেষণাকে তিনি নতুনভাবে দেখতে শেখেন। গবেষণা শুধু একাডেমিক আউটপুট তৈরির বিষয় নয়; বরং একটি সমস্যাকে নতুনভাবে দেখা, প্রশ্ন করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সমাধানের পথ খোঁজাও এর অংশ এই দৃষ্টিভঙ্গি তিনি সেখান থেকেই পান।

আরও পড়ুন: ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে সমন্বয়হীনতা, তিতুমীর কলেজে এসে ভোগান্তিতে ডিসিইউ শিক্ষার্থীরা

নিয়ামত হোসেনের মতে, একজন তরুণ গবেষকের জন্য মেন্টরশিপ বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। একজন শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনা সম্পর্কে নিশ্চিত না হলেও সঠিক সময়ে একজন শিক্ষক তাকে প্রশ্ন করতে, অনুসন্ধান করতে এবং নিজের চিন্তাকে গভীরভাবে দেখতে শেখালে সেই শিক্ষাই ভবিষ্যতের পথচলার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় সমস্যা থেকে আন্তর্জাতিক গবেষণার মঞ্চে
বর্তমানে নিয়ামত হোসেনের গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের কোস্টাল শেল্টার বেল্ট ও ম্যানগ্রোভ রেস্টোরেশনের পথে থাকা সমস্যাগুলো। ম্যানগ্রোভ ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কের দল এই বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে একটি সমাধান তৈরির চেষ্টা করছে। গবেষণার ধারণা ও প্রস্তাবিত সমাধান উন্নয়নে তিনি প্রাইমারি লিড হিসেবে কাজ করেছেন। ধারণা তৈরি, প্রস্তাবনা প্রস্তুত এবং সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরার ক্ষেত্রেও ছিল তার নেতৃত্ব।

এই গবেষণার বৈশিষ্ট্য হলো, এটি শুধু একটি পরিবেশগত সমস্যা চিহ্নিত করছে না। ডেটা, প্রযুক্তি ও ডিসিশন-মেকিংকে যুক্ত করে একটি বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর ফরেস্ট্রি ব্যাকগ্রাউন্ড তাঁকে দিয়েছে ইকোলজিক্যাল ও রেস্টোরেশন পার্সপেক্টিভ; আর গবেষণার হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা সেই জ্ঞানকে একটি কাঠামোবদ্ধ গবেষণা প্রস্তাবে রূপ দিতে সাহায্য করেছে।

যে প্রতিযোগিতা খুলে দিল বিশ্বমঞ্চের দরজা
ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম ট্রান্সফরমেটিভ রিসার্চ চ্যালেঞ্জ ২০২৬ এফএওর ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের অধীনে পরিচালিত একটি উদ্যোগ। ‘ইয়ুথ-লেড রিসার্চ ফর ফরেস্ট রেস্টোরেশন’ ক্যাটাগরিতে তার দল ফাইনালিস্ট হয়েছে। প্রতিযোগিতাটির লক্ষ্য শুধু ভালো গবেষণা-আইডিয়া খুঁজে বের করা নয়; বরং প্রাথমিক প্রুফ অব কনসেপ্ট থাকা অ্যাপ্লাইড রিসার্চকে আরও এভিডেন্স-বেজড, পরিশীলিত এবং বাস্তব প্রয়োগ বা পাইলটিংয়ের জন্য প্রস্তুত করা। অর্থাৎ গবেষণা যেন শুধু গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং বাস্তব সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে এই ‘রিসার্চ-টু-ইমপ্যাক্ট’ ধারণাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক আবেদন ও প্রুফ অব কনসেপ্টের পর মেন্টরশিপ, মাস্টারক্লাস ও এক্সপার্ট ফিডব্যাকের মাধ্যমে তাঁদের গবেষণাকে আরও পরিশীলিত করার সুযোগ তৈরি হয়।

আরও পড়ুন: স্বতন্ত্র তিতুমীরের দাবিতে ফের ক্যাম্পাস শাটডাউনের ঘোষণা শিক্ষার্থীদের একাংশের

ফাইনালিস্ট হওয়ার খবর তার জন্য আনন্দের হলেও এর সঙ্গে এসেছে দায়িত্ববোধ। কারণ তিনি দলের টিম লিডার ও ডেজিগনেটেড টিম রিপ্রেজেন্টেটিভ। তাই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে শুধু নিজের নয়, দলের গবেষণা ও বাংলাদেশের একটি বাস্তব সমস্যাকে তুলে ধরার দায়িত্বও তার।

ভালো আইডিয়া আর কার্যকর সমাধান এক নয়
এই প্রতিযোগিতা থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষাগুলোর একটি হলো ভালো একটি গবেষণা-আইডিয়া আর একটি ইমপ্যাক্টফুল সমাধান এক বিষয় নয়। একটি আইডিয়াকে বাস্তব প্রভাবের দিকে নিতে হলে এভিডেন্স, ফিজিবিলিটি, স্কেলেবিলিটি, স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট ও ইমপ্লিমেন্টেশন পাথওয়ে নিয়ে ভাবতে হয়। নিয়ামত হোসেনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল একটি বিস্তৃত পরিবেশগত সমস্যাকে পরিষ্কার, বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং বাস্তবে ব্যবহারযোগ্য গবেষণা-সমাধানে রূপ দেওয়া। একই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক বৈধতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়েছে।

রোমে ১০ দিন: গবেষণা নিয়ে বিশ্বসংলাপে
আগামী ৮ থেকে ১৬ অক্টোবর রোমে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্ট। এফএও সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে পলিসি ও সায়েন্টিফিক ডিসকাশন, ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড, এডুকেশনাল অ্যাক্টিভিটি, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কশপ, এক্সিবিশন, সাইড ইভেন্ট ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম থাকবে। তবে নিয়ামত হোসেনের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেদের গবেষণা আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরা এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক ও প্র্যাকটিশনারদের কাছ থেকে শেখা। বিশেষ করে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও নীতিনির্ধারণ কীভাবে পরিবেশ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হয়, তা বোঝার প্রতি তার আগ্রহ রয়েছে।

অন্য দেশের কোনো মডেলকে সরাসরি অনুসরণ করার বদলে নিয়ামত হোসেন দেখতে চান, সেসব দেশের কোন নীতি বা পদ্ধতি বাংলাদেশের পরিবেশগত, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব। কারণ বাংলাদেশের ফরেস্ট রেস্টোরেশনের সঙ্গে জনসংখ্যার চাপ, ভূমি ব্যবহারের প্রতিযোগিতা, স্থানীয় জীবিকা ও জলবায়ু ঝুঁকি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। অর্থাৎ তার দর্শন শেখা হবে, কিন্তু অনুকরণ নয়। জ্ঞান নেওয়া হবে, তবে তা বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়: যাত্রার ভিত্তি
আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেও নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষভাবে স্মরণ করেন তিনি। নিয়ামত হোসেনের ভাষায়, এই যাত্রার ভিত্তি তৈরি হয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়েই। রোমে তিনি শুধু নিজের হয়ে যাচ্ছেন না; দলের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও গবেষণাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরবেন।

আরও পড়ুন: ভুল সিদ্ধান্তে থমকে যেতে পারে ক্যারিয়ার, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে যেসব সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ

নিয়ামত হোসেনের মতে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি শিক্ষার্থীদের অন্যতম বড় শক্তি হলো এর ভৌগোলিক অবস্থান। খুলনা ও বৃহত্তর উপকূলীয় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেম, জীববৈচিত্র্য, জীবিকা ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার বাস্তব সমস্যার কাছাকাছি। তাই স্থানীয় সমস্যাগুলোকে বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণার প্রশ্নে রূপ দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করাই হতে পারে শিক্ষার্থীদের বড় সুযোগ।

বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য চার পরামর্শ
আন্তর্জাতিক সুযোগের জন্য প্রস্তুতি নিতে বর্তমান শিক্ষার্থীদের চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন নিয়ামত হোসেন।
প্রথমত, রিসার্চ স্কিল প্রবলেম আইডেন্টিফিকেশন, মেথডোলজি, ডেটা অ্যানালাইসিস ও সায়েন্টিফিক রাইটিং। দ্বিতীয়ত, কমিউনিকেশন স্কিল বিশেষ করে ইংরেজি প্রেজেন্টেশন ও গবেষণা প্রস্তাব লেখার দক্ষতা। তৃতীয়ত, টেকনোলজি ও অ্যানালিটিক্যাল স্কিল জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, স্ট্যাটিস্টিকস ও ডেটা অ্যানালাইসিসের মতো দক্ষতা এবং চতুর্থত, অপরচুনিটি-সিকিং মাইন্ডসেট। নিজের স্থানীয় সমস্যা নিয়ে কাজ করা, প্রশ্ন করতে শেখা এবং আন্তর্জাতিক সুযোগের জন্য সক্রিয়ভাবে আবেদন করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

যে সময় মনে হয়েছিল পথটা ভুল
সাফল্যের গল্পে শেষের অর্জনটি সহজেই চোখে পড়ে, কিন্তু তার আগে থাকা অনিশ্চয়তা অনেক সময় আড়ালে থাকে। নিয়ামত হোসেনের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আগ্রহ থেকে ফরেস্ট্রি ডিসিপ্লিনে এসে তৈরি হয়েছিল পরিচয় ও ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা। তখন তাঁর মনে প্রশ্ন জাগত ‘আমি কি সঠিক পথে আছি?’

গবেষণার সঙ্গে হাতে-কলমে যুক্ত হওয়ার পর সেই প্রশ্নের উত্তর ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়। নিয়ামত হোসেন বুঝতে পারেন, তার আসল আগ্রহ কোনো নির্দিষ্ট চাকরির পরিচয়ে নয়; বরং সমস্যা, উদ্ভাবন ও গবেষণার মধ্যে। পরিবারের সমর্থন এবং শিক্ষকের দিকনির্দেশনাও এই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সামনে আরও বড় পথ
ডব্লিউএফএফ টিআরসি ২০২৬-এর ফাইনালিস্ট হওয়াকে তিনি ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন, তবে এটিকে চূড়ান্ত গন্তব্য মনে করছেন না; বরং তার গবেষণার দৃষ্টিভঙ্গিতেই এসেছে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। এখন তিনি শুধু গবেষণার আউটপুট নয়, গবেষণা কী ধরনের প্রমাণ তৈরি করবে, কারা সেই প্রমাণ ব্যবহার করবে এবং একটি সমাধান কীভাবে বাস্তবে পাইলট ও স্কেল করা সম্ভব সেসব নিয়েও ভাবেন।

আরও পড়ুন: টি-শার্ট নাড়িয়ে সাহায্যের আবেদন, নাটকীয়ভাবে কিশোরকে উদ্ধার করল নেপাল আর্মি

রোম থেকে তিনি শুধু একটি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে চান না। বিভিন্ন দেশের গবেষক ও প্র্যাকটিশনাররা কীভাবে রেস্টোরেশন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন, বিজ্ঞান কীভাবে নীতি ও বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এবং সেসব অভিজ্ঞতার কোন শিক্ষা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কাজে লাগানো সম্ভব সে বিষয়ে আরও বিস্তৃত ধারণা অর্জন করতে চান।

নিয়ামত হোসেনের আকাঙ্ক্ষা, বাংলাদেশের স্থানীয় ফরেস্ট রেস্টোরেশন চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাদের গবেষণা যেন কেবল একটি প্রকল্প হয়ে না থাকে; বরং ভবিষ্যতে বাস্তব রেস্টোরেশন ডিসিশন-মেকিংয়ে অবদান রাখতে পারে এমন একটি কার্যকর সমাধানে পরিণত হয়। একসময় যে শিক্ষার্থী জানতেন না ফরেস্ট্রি তার ভবিষ্যৎ কি না, আজ সেই তিনিই বাংলাদেশের একটি স্থানীয় পরিবেশগত সমস্যাকে আন্তর্জাতিক গবেষণার মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার পথে। রোমের যাত্রা তাই তাঁর কাছে শেষ নয়; বরং পরবর্তী ধাপে যাওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম। আর সেই যাত্রার সারকথা হয়তো একটিই একটি গবেষণা শুধু সমস্যাকে বুঝবে না; বরং সেই সমস্যা কীভাবে বাস্তব পৃথিবীকে বদলাতে পারে, তার উত্তরও খুঁজবে।

অন্ধকার হলেই ভূতের ভয় কি শুধু মনেই, আতঙ্কে শরীরে কী কী পরিব…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ভয় পেলেই কি ফোবিয়া? বুঝবেন যেভাবে
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ব্যাংক-জিমেইলসহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি করতে পারে নত…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের মুকুট জিতলেন অভিনেত্রী সামিরা খান …
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেবে সোনালী ব্যাংক, আবেদন আহবান
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৬, বাড়িতে মিলল আরও ৩ মরদ…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950