ডিনস অ্যাওয়ার্ডজয়ী প্রজ্ঞা এবার যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেলেন

১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৮ PM , আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৩ PM
প্রজ্ঞা সাহা

প্রজ্ঞা সাহা © টিডিসি ফটো

মানবিকের একটি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেও যুক্তরাষ্ট্রের আর-১ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটিতে পূর্ণ অর্থায়নে স্নাতকোত্তর করার সুযোগ পেয়েছেন প্রজ্ঞা সাহা। ফলিত ভাষাবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর করতে যাওয়া প্রজ্ঞার এই অর্জন আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে স্নাতকোত্তর শিক্ষণ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব, শতভাগ টিউশন ফি মওকুফ, স্বাস্থ্যবীমা এবং মর্যাদাপূর্ণ হ্যাজেলউড গ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপ পাওয়ায়। ২০২৬ সালের শরৎকালীন সেমিস্টারে শুরু হতে যাওয়া তার এই নতুন একাডেমিক যাত্রা মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যও তৈরি করেছে অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, আবেদন প্রক্রিয়া, গবেষণার আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে কথা বলেছেন—প্রজ্ঞা সাহা

বাংলাদেশের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে স্নাতকোত্তর করার সুযোগ এই অর্জনের খবর পাওয়ার মুহূর্তটি কেমন ছিল?

সত্যি বলতে খবরটি পাওয়ার মুহূর্তটি আমার জন্য একই সঙ্গে আনন্দের, স্বস্তির এবং আবেগের ছিল। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, আবেদন, অপেক্ষা এবং অনিশ্চয়তার পর একটা গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটিতে টিচিং এসিস্ট্যান্টশিপের সিলেকশন কয়েক ধাপে হয়। প্রতিটা ধাপে ইন্টারভিউ এর জন্য প্রস্তুতি নেয়া, নিজেকে তৈরি করা লম্বা এক জার্নি ছিল। আমি আমার পরিবার, শিক্ষক এবং মেন্টরদের কাছে কৃতজ্ঞ। 

আপনার পুরো শিক্ষাজীবনে অসাধারণ ফলাফল ছিল। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও অর্থায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার একাডেমিক ফলাফল কতটা ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন?

একাডেমিক ফলাফল অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার সুবাদে ডিনস অ্যাওয়ার্ড, প্রভোস্ট স্কলারশিপ, অনার্স স্কলারশিপসহ বেশ কিছু বৃত্তি পেয়েছি।

তবে শুধু ভালো সিজিপিএ থাকলেই যথেষ্ট নয়। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার সময় একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি তার গবেষণার আগ্রহ, শিক্ষকতা বা পেশাগত অভিজ্ঞতা, লেখার দক্ষতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে কেন কাজ করতে চায় এসব বিষয়ও গুরুত্ব পায়। আমার ক্ষেত্রে ভাষাবিজ্ঞানে আমার একাডেমিক ভিত্তি, গবেষণার অভিজ্ঞতা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং ফলিত ভাষাবিজ্ঞানের প্রতি দীর্ঘদিনের আগ্রহ সবকিছু একসঙ্গে কাজ করেছে।

টেক্সাস টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত ভাষাবিজ্ঞান বিষয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছেন? বিশেষ করে ‘দ্বিতীয় ভাষা অর্জন ও ভাষা শিক্ষাদান’ বিষয়ে আপনার আগ্রহের কারণ কী?

ভাষাবিজ্ঞান পড়তে গিয়ে ধীরে ধীরে আমার আগ্রহ ভাষার কাঠামো থেকে ভাষা কীভাবে শেখা ও শেখানো হয় এই প্রশ্নগুলোর দিকে চলে যায়। বিশেষ করে একজন বাংলা ভাষাভাষী হিসেবে ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে মাতৃভাষার প্রভাব, উচ্চারণ, ব্যাকরণ, শব্দগঠন এবং ভাষা প্রক্রিয়াকরণের বিষয়গুলো আমাকে সবসময়ই আগ্রহী করেছে।

আমি নিজেও ইংরেজি ভাষা শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। শিক্ষকতা করতে গিয়ে দেখেছি, একই পদ্ধতি সব শিক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে কার্যকর হয় না। একজন শিক্ষার্থী কীভাবে ভাষা শেখে, তার শেখার পেছনে কোন ধরনের জ্ঞানীয়, ভাষাতাত্ত্বিক ও পারিপার্শ্বিক বিষয় কাজ করে এসব প্রশ্ন আমাকে আরও গভীরভাবে ভাবিয়েছে। পাশাপাশি গবেষণালব্ধ ফলাফল কীভাবে বাস্তব শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ করা যায়, সেটিও জানতে আগ্রহী হয়েছি।

প্রজ্ঞা বলেন, এই আগ্রহ থেকেই দ্বিতীয় ভাষা অর্জন ও ভাষা শিক্ষাদান বিষয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার কাছে ফলিত ভাষাবিজ্ঞান এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে ভাষাতাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের ভাষা শেখা ও শেখানোর সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এই ক্ষেত্রটি আমাকে একই সঙ্গে গবেষণা করার এবং সেই গবেষণাকে বাস্তব শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ করার সুযোগ দেবে যেটি আমার কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়।

শতভাগ টিউশন ফি মওকুফ, স্বাস্থ্যবিমা এবং হ্যাজেলউড গ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপসহ পূর্ণ অর্থায়ন কীভাবে পেলেন? আবেদন প্রক্রিয়ায় কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

আমার অর্থায়ন মূলত স্নাতকোত্তর শিক্ষণ সহকারী হিসেবে কাজের সুযোগের মাধ্যমে এসেছে। এর সঙ্গে টিউশন ফি মওকুফ এবং স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও রয়েছে। পাশাপাশি আমি হ্যাজেলউড গ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপও পেয়েছি। এ ধরনের অর্থায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, একটি শক্তিশালী ও সুসংগত আবেদন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আবেদনের সময় শুধু ভালো ফলাফল দেখানোর চেষ্টা করিনি; বরং আমার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, গবেষণার আগ্রহ, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সবকিছুকে একটি ধারাবাহিক ভাবনার মধ্যে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। উদ্দেশ্য ছিল, আবেদনের প্রতিটি অংশের মধ্যে যেন আমার একাডেমিক আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি স্পষ্ট যোগসূত্র থাকে।

বিশেষ করে উদ্দেশ্যপত্র, জীবনবৃত্তান্ত, লেখার নমুনা, সুপারিশপত্রসহ আবেদনের অন্যান্য উপকরণ তৈরির সময় খেয়াল রেখেছি, প্রতিটি অংশ যেন একই একাডেমিক দিকনির্দেশনা প্রকাশ করে। এর পাশাপাশি আইইএলটিএসে ভালো স্কোর অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আরও পড়ুন: মায়ের অসমাপ্ত স্বপ্ন, নীলার ছয় বছরের লড়াই আর একটি থিসিস ডিফেন্সের গল্প

তবে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোথায় আবেদন করছি এবং কেন সেই নির্দিষ্ট প্রোগ্রামটি আমার জন্য উপযুক্ত, সেটি ভালোভাবে বোঝা। শুধু একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার লক্ষ্য না রেখে নিজের একাডেমিক আগ্রহ, গবেষণার লক্ষ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামটির কীভাবে সামঞ্জস্য রয়েছে, সেটি আবেদনপত্রে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কীভাবে ভাষা শিক্ষা ও বহুভাষিক লেখালেখিতে পরিবর্তন আনছে এ বিষয়ে আপনার আগ্রহের কারণ কী? ভবিষ্যতে এ নিয়ে কী ধরনের গবেষণা করতে চান?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমানে ভাষা শেখা, লেখালেখি এবং ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব দ্রুত পরিবর্তন আনছে। বিশেষ করে একাধিক ভাষায় লেখালেখি করা শিক্ষার্থীদের জন্য এআইভিত্তিক বিভিন্ন সরঞ্জাম একদিকে যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে তেমনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে আনছে। যেমন- এআই কি শুধু ব্যাকরণ সংশোধনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে, নাকি এটি একজন শিক্ষার্থীর লেখার ধরন, শব্দচয়ন, লেখার পরিমার্জন প্রক্রিয়া এবং সামগ্রিক ভাষা বিকাশেও প্রভাব ফেলছে এসব বিষয় আমাকে ভাবায়।

আমি ভবিষ্যতে এআইকে শুধু একটি প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম হিসেবে নয়, বরং ভাষা শেখার একটি নতুন পরিবেশ হিসেবে দেখতে চাই। বিশেষ করে বাংলা-ইংরেজি দ্বিভাষিক বা বহুভাষিক শিক্ষার্থীরা কীভাবে এআই ব্যবহার করে লেখালেখি করছে, এআইয়ের দেওয়া পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়া তারা কীভাবে গ্রহণ করছে এবং সেই প্রতিক্রিয়া তাদের নিজস্ব ভাষা বিকাশে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে এসব বিষয়ে গবেষণা করার আগ্রহ আছে।

একই সঙ্গে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাডেমিক সততা, শিক্ষার্থীর নিজস্বভাবে শেখার সক্ষমতা এবং এআইয়ের দেওয়া তথ্য ও পরামর্শকে সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়নের বিষয়গুলোও আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে আমি দেখতে চাই, কীভাবে এআইকে এমনভাবে ভাষা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, যাতে প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীর নিজস্ব চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা ও ভাষাগত দক্ষতারও বিকাশ ঘটে।

ভাষা শ্রেণিকক্ষে কার্যভিত্তিক গবেষণা, করপাস ভাষাবিজ্ঞান, চোখের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, দ্বিতীয় ভাষা প্রক্রিয়াকরণ ও বিভিন্ন মাধ্যমে লেখালেখি এসব গবেষণা ক্ষেত্রে আপনার আগ্রহ রয়েছে। এর মধ্যে কোন বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে সবচেয়ে বেশি কাজ করতে চান?

এসব গবেষণার ক্ষেত্র একে অপরের থেকে আলাদা হলেও আমার কাছে এগুলোর মধ্যে একটি গভীর সংযোগ রয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় ভাষা অর্জন, ভাষা প্রক্রিয়াকরণ এবং বহুভাষিক লেখালেখির বিষয়গুলো আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। বিশেষ করে বাংলা ও ইংরেজিভাষী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মাতৃভাষা কীভাবে দ্বিতীয় ভাষা প্রক্রিয়াকরণ, লেখালেখি এবং ব্যাকরণগত শব্দচয়নকে প্রভাবিত করে, সেটি নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করতে চাই।

করপাসভিত্তিক গবেষণা পদ্ধতি কিংবা চোখের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের মতো প্রমাণনির্ভর গবেষণাপদ্ধতি ব্যবহার করে ভাষা প্রক্রিয়াকরণ এবং শিক্ষার্থীদের আচরণ আরও নির্ভুলভাবে বোঝার সুযোগ রয়েছে। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী ভাষা কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করছে, কোথায় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে এবং কোন ধরনের ভাষাগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এসব বিষয় আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

তবে আমার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য শুধু তাত্ত্বিক গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা নয়। গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে ভাষা শ্রেণিকক্ষের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করতে চাই। অর্থাৎ গবেষণার ফলাফল যেন শিক্ষার্থীদের ভাষা শেখার অভিজ্ঞতাকে আরও কার্যকর করতে এবং শিক্ষকতার পদ্ধতিকে আরও উন্নত করতে বাস্তবে কাজে লাগে ভবিষ্যতে মূলত সেই দিকেই কাজ করতে চাই।

একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি আপনি সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষকতা, ভাষাতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং আইইএলটিএস প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে এসব অভিজ্ঞতা কতটা কাজে এসেছে?

এসব অভিজ্ঞতা আমার একাডেমিক প্রোফাইলকে আরও বহুমাত্রিক করেছে বলে মনে করি। প্রথম বর্ষ থেকেই আমি বিভাগের বিভিন্ন সহশিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালীন পাঠ্যক্রম উন্নয়নকারী, ভাষাতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষক ও শিশুদের জন্য লেখক হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন কাজ করেছি। এসব অভিজ্ঞতা শুধু পেশাগত দক্ষতাই বাড়ায়নি, বরং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণী চিন্তাভাবনা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাও তৈরি করতে সাহায্য করেছে।

গবেষণার ক্ষেত্রেও আমি নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করেছি। এখন পর্যন্ত দেশি ও আন্তর্জাতিক জার্নালে আমার চারটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এসব গবেষণার অভিজ্ঞতা আমাকে গবেষণার বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোন ধরনের গবেষণা করতে চাই, সে বিষয়ে আমার আগ্রহকে আরও স্পষ্ট করেছে।

স্নাতকোত্তর শেষ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আইইএলটিএস প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছি। শিক্ষকতা করতে গিয়ে ভাষা শেখানো ও শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও কাছ থেকে বোঝার সুযোগ পেয়েছি। অন্যদিকে আইইএলটিএস প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভাষা শিক্ষার বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে সাহায্য করেছে।

সব মিলিয়ে প্রতিটি অভিজ্ঞতাই আমার একাডেমিক ও পেশাগত যাত্রাকে সমৃদ্ধ করেছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনের ক্ষেত্রে শুধু একাডেমিক ফলাফল নয়, গবেষণা, শিক্ষকতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম সবকিছু মিলেই আমার প্রোফাইলকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করি।

মানবিক বিভাগের অনেক শিক্ষার্থীর ধারণা, এই বিভাগ থেকে পড়াশোনা করে বিদেশে ভালো উচ্চশিক্ষা বা গবেষণার সুযোগ পাওয়া কঠিন। আপনার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এ বিষয়ে কী বলবেন?

এটা আসলে একটি ভুল ধারণা। প্রতিবছর মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাচ্ছেন। আমার নিজের অভিজ্ঞতাও সেটিই প্রমাণ করে। তাই মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করলে বিদেশে ভালো সুযোগ পাওয়া কঠিন এমন ধারণার বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই।

ভাষাবিজ্ঞানের মতো একটি বিষয় স্বভাবতই আন্তঃবিষয়ক। এখানে ভাষার পাশাপাশি মনোবিজ্ঞান, শিক্ষা, জ্ঞানবিজ্ঞান, প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ ও যোগাযোগের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ফলে একজন শিক্ষার্থী চাইলে নিজের আগ্রহ ও দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন গবেষণাক্ষেত্রে নিজেকে তৈরি করতে পারেন।

আমার মনে হয়, মূল সমস্যা সুযোগের অভাব নয়; বরং অনেক শিক্ষার্থী সব সুযোগ সম্পর্কে জানেন না কিংবা নিজেদের সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন না। তাই প্রথমেই নিজের একাডেমিক আগ্রহের জায়গাটি স্পষ্ট করতে হবে। এরপর গবেষণার অভিজ্ঞতা তৈরি করা, ভালো লেখার নমুনা ও প্রয়োজনীয় একাডেমিক নথি প্রস্তুত করা এবং নিজের আগ্রহ ও লক্ষ্য অনুযায়ী উপযুক্ত প্রোগ্রাম খুঁজে আবেদন করা জরুরি।

আমার কাছে বিভাগ কখনোই উচ্চশিক্ষার পথে বাধা নয়। বরং একজন শিক্ষার্থী তার বিষয়কে কতটা গভীরভাবে বোঝে, নিজের আগ্রহকে কীভাবে কাজে লাগায় এবং সেই অনুযায়ী নিজেকে কতটা প্রস্তুত করে—সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মানবিকের শিক্ষার্থীদের নিজেদের সম্ভাবনার ওপর আস্থা রেখে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা ও শিক্ষকতার ক্ষেত্রে আপনার লক্ষ্য কী? দীর্ঘমেয়াদে নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চান?

আমার লক্ষ্য একজন ভালো শিক্ষার্থী ও গবেষক হিসেবে নিজেকে আরও উন্নত করা। ফলিত ভাষাবিজ্ঞানের বিভিন্ন তাত্ত্বিক কাঠামো ও গবেষণাপদ্ধতি সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে চাই। একই সঙ্গে নিজের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাকেও আরও সমৃদ্ধ করতে চাই। স্নাতকোত্তর শিক্ষণ সহকারী হিসেবে যে শিক্ষকতার সুযোগ পাচ্ছি, সেটিকে আমি শুধু অর্থায়নের একটি অংশ হিসেবে দেখছি না; বরং একজন শিক্ষক হিসেবে নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছি।

দীর্ঘমেয়াদে আমি নিজেকে একজন শিক্ষক-গবেষক হিসেবে দেখতে চাই। বিশেষ করে বাংলাদেশের ভাষা শিক্ষার প্রেক্ষাপট নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ করার ইচ্ছা আছে। বাংলাদেশের ভাষা শিক্ষা ও ভাষা শেখার বাস্তব সমস্যাগুলো নিয়ে গবেষণা করে সেগুলোকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে চাই।

বাংলাদেশের একটি ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ থেকে টেক্সাস টেক বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আপনার এই যাত্রায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল? আপনার মতো আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

বাংলাদেশে ভাষাবিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পূর্ণাঙ্গ বিভাগ হিসেবে খুব কম বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে। আবার ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকতার ক্ষেত্রে প্রায় সব জায়গাতেই ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পান। অথচ ইংরেজি বিভাগের অনেক কোর্সেই ভাষাবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হয়। এই বাস্তবতা আমার নিজের ক্ষেত্রেও একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করি। এরপর প্রায় দেড় বছর দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে চাকরির জন্য সাক্ষাৎকার দিয়েছি। অনেক সময় সাক্ষাৎকার ভালো হওয়ার পরও কোনো এক কারণে বারবার বাদ পড়েছি। একটা পর্যায়ে এই ধারাবাহিক প্রত্যাখ্যান স্বাভাবিকভাবেই হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরে নিজের জেলার টাইমস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিই।

আরও পড়ুন: জাবি থেকে ইউরোপের ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ, ইরাসমাস মুন্ডাসে লামইয়ার স্বপ্নযাত্রা

আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এতগুলো প্রত্যাখ্যানের হতাশা থেকে বের হয়ে আবার নতুন করে নিজের লক্ষ্য ঠিক করা। এর পাশাপাশি পূর্ণকালীন চাকরি করার সঙ্গে সঙ্গে উদ্দেশ্যপত্র ও লেখার নমুনা প্রস্তুত করা, সুপারিশপত্র সংগ্রহ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়াও বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।

তবে প্রত্যেকের পথ আলাদা এবং সাফল্যের জন্য নির্দিষ্ট কোনো একমাত্র সূত্র নেই। যারা আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য আমার পরামর্শ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই একাডেমিক ফলাফল ভালো রাখার পাশাপাশি গবেষণা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং নিজের বিভাগের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করা। একই সঙ্গে নিজের বিষয় ও আগ্রহের জায়গাটি ভালোভাবে বুঝতে হবে।

এরপর যে বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে চান, সেই ক্ষেত্রের বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক এবং অর্থায়নের সুযোগগুলো নিয়ে ভালোভাবে গবেষণা করতে হবে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের সামঞ্জস্য কতটা, সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। আমার মনে হয়, নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে যত বেশি পরিষ্কার থাকা যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া যাবে, আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার পথটিও তত বেশি সহজ হয়ে আসবে।

যশোরের অভয়নগরে মাদক বিক্রিতে বাধা, ছাত্রদল নেতা ছুরিকাহত
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অসহযোগিতার পরও ঢাবি শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবা…
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এসএসসির খাতা পুনঃমূল্যায়নের ফল প্রকাশের তারিখ জানাল বোর্ড
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দিল্লিতে মণিপুরী সংগীতশিল্পীকে পিটিয়ে হত্যা
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা ১…
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দামে পতন, আজ ভরি কত?
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9