প্রিলি ফেল থেকে ক্যাডারে ফার্স্ট

অফিসের দিনে ৫-৬ ঘণ্টা পড়তেন, ছুটির দিনে পুষিয়ে নিতেন ১৫-১৬ ঘণ্টা পড়ে

০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:০২ PM
গোলাম কিবরিয়ার

গোলাম কিবরিয়ার © টিডিসি ফটো

শুরুতে বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন। করোনা মহামারির কারণে থমকে গিয়েছিল স্বপ্নের পথচলা। সরকারি চাকরি করতে করতেই দিনের পর দিন সীমিত সময় নিয়ে চালিয়ে গেছেন প্রস্তুতি। শেষ পর্যন্ত ৪৭তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জন। এটি একজন চাকরিপ্রার্থীর ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও সঠিক পরিকল্পনার ফল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা গোলাম কিবরিয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। বাবা পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে বড় হয়েছেন। অযথা আড্ডা কিংবা সময় নষ্ট করার অভ্যাস কখনোই ছিল না।

চিটাগাং পুলিশ ইনস্টিটিউশন (বর্তমান সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ) থেকে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার অনেক বন্ধু অনার্সে পড়ার সময় থেকেই ব্যাংকসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিত। কিন্তু আমি একাডেমিক বিষয়টা ভালোভাবে শেখার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছি। অনেকদিন এমন হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে বই পড়েছি, নোট করেছি। তখন হয়তো বুঝিনি, কিন্তু আজ মনে হয় সেই সময়গুলোই আমার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ছিল।’

মাস্টার্স শেষ করার পর ৪১তম বিসিএসে অংশ নেন কিবরিয়া। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় প্রিলিমিনারিতেই বাদ পড়েন। এরপরই শুরু হয় করোনা মহামারি। দীর্ঘ সময়ের অনিশ্চয়তা যেন স্বপ্নের পথকে আরও কঠিন করে তোলে। তিনি বলেন, ‘প্রিলিমিনারিতে ব্যর্থ হওয়ার পর বুঝেছিলাম, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না; প্রস্তুতিটাও হতে হবে পরিকল্পিত। তাই নতুন করে নিজের দুর্বল জায়গাগুলো খুঁজতে শুরু করি।’

গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘৪৪তম বিসিএস থেকেই শুরু হয় প্রকৃত প্রস্তুতি। সিলেবাস বিশ্লেষণ করে প্রথমেই বুঝতে পারি, গণিতই আমার সবচেয়ে দুর্বল বিষয়। আমি সিদ্ধান্ত নিই, যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই, সেটিকেই সবচেয়ে বেশি সময় দেব। তাই প্রতিদিনের রুটিনে গণিতকে প্রথমেই রাখতাম। এভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।’

আরও পড়ুন: প্রধান শিক্ষকের ‘পরকীয়ায়’ তছনছ সহকারী শিক্ষকের সংসার, মেজাজ হারিয়ে পেটালেন প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে

এর মধ্যে সরকারি একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় অফিসে কাটলেও সন্ধ্যার পর নিয়মিত পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। আর ছুটির দিনগুলোতে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়ে আগের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করতেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই ইংরেজিতে পরীক্ষা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ৪৪তম ও ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষাও ইংরেজিতে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এটি তাকে অন্যদের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে রেখেছে।

৪৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ পান কিবরিয়া। কিন্তু সেখানেই থেমে যাননি। লক্ষ্য ছিল শিক্ষা ক্যাডার। সেই স্বপ্নই পূরণ হয় ৪৭তম বিসিএসে। শুধু শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশই নয়, সমাজবিজ্ঞান বিষয়েও প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।

গোলাম কিবরিয়া জানান, তার ভাইভা হয়েছিল ১০ জুন ২০২৫, উভয় ক্যাডারের ভাইভার প্রথম দিন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ভালো হওয়ায় তিনি আশাবাদী ছিলেন। ফল প্রকাশের দিন অফিস শেষে বাসায় ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারেন ফল প্রকাশ হয়েছে। নিজের নামের পাশে শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হওয়ার খবর দেখে যে অনুভূতি হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় বলেই জানান তিনি।

শিক্ষা ক্যাডারে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষা ক্যাডারে এসেছি শুধু চাকরি করার জন্য নয়। আমি চাই গবেষণার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধানে কাজ করতে। শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনার মধ্য দিয়েই দেশের উন্নয়ন সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।’

আরও পড়ুন: ৪৬তম ও ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা, ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডার ঢাবির রিমন

তার এই সাফল্যের গল্প বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে কয়েকটি ব্যক্তিগত অভ্যাস। কোনো কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলে সেটি শেষ না করা পর্যন্ত আমি থেমে যেতাম না। নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নোট করতাম এবং প্রতিনিয়ত সেগুলো হালনাগাদ করতাম। পাশাপাশি মেডিটেশনের অভ্যাস আমাকে মানসিকভাবে চাঙা ও মনোযোগী থাকতে সাহায্য করেছে।’

চাকরির পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চাকরি করার পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়া সহজ নয়। তবুও সঠিক পরিকল্পনা এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার করলে সফল হওয়া সম্ভব।’

নতুন বিসিএসপ্রত্যাশীদের তিনটি পরামর্শ দিয়েছেন গোলাম কিবরিয়া। প্রথমত, নিজের একাডেমিক বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে, কারণ এটি লিখিত ও ভাইভা উভয় ক্ষেত্রেই এগিয়ে রাখবে। দ্বিতীয়ত, অন্যকে অনুসরণ না করে নিজের পছন্দ ও লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেন তিনি। আর তৃতীয়ত, সময়ের সঠিক ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। কেননা প্রতিটি মিনিটের সঠিক ব্যবহারও একজনকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে দিতে পারে। তার বিশ্বাস, বিসিএস হোক কিংবা জীবনের যেকোনো প্রতিযোগিতা, সাফল্য আসে নিজের লক্ষ্যকে অটুট রেখে ধৈর্য, অধ্যবসায় ও নিয়মিত পরিশ্রমের মাধ্যমে।

ট্রল সইতে না পেরে ব্রাজিল সমর্থকের আত্মহত্যা!
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
নায়েমে অযোগ্যদের পদায়নের অভিযোগ, যোগ্যতা নির্ধারণের প্রস্তা…
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
বাকৃবির কৃষি অনুষদের ১২ শিক্ষার্থী পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
যে কারণে জামায়াতকে ধন্যবাদ দিলেন রুমিন ফারহানা
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ৫ম শ্রেণির ছাত্রের বিষপা…
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
ব্রাজিলের হার সইতে না পেরে কুড়িগ্রামে সমর্থকের হার্ট অ্যাটাক
  • ০৬ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence