নাজমুল হোসেন © সংগৃহীত
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার পর এবার মধুখালীতেও এক ছাত্রদল নেতার ছাত্রলীগের পদ পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাজমুল হোসেনকে করা হয়েছে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। এ নিয়ে সংগঠনের ভেতরে বাইরে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১২ জুন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান ও ফাহিম আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে রবিন মোল্যা ও ইনজামামুল আলম অনিককে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। নাজমুল হোসেনকে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
তবে মধুখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওমর ফারুক বলেন, ২০১৮ সালের উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটিতে নাজমুল হোসেনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়ে। এখনো সেই কমিটি আছে।
আরো পড়ুন দুকূলই হারালেন ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ নেতা রায়হান রনি
এদিকে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হওয়া নাজমুল হোসেনকে ২০১৮ সালে যে প্যাডে রায়পুর ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক করে ছাত্রদলের কমিটির ঘোষণা করা হয়, তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিত সভাপতি রবিন মোল্যার দাবি, নাজমুল দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছেন। সে হিসেবেই তাকে পদ দেয়া হয়েছে। নাজমুল ছাত্রদল করতেন, বিষয়টি আমাদেরকেও অনেকেই জানিয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান বলেন, রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেই নাজমুল হোসেনকে ছাত্রলীগের পদ দেয়া হয়েছে। নাজমুল দীর্ঘদিন যাবত ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকার সুপারিশেই তাকে পদ দেয়া হয়েছে।
নাজমুল হোসেনের ছাত্রদল কারার অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এছাড়া এ বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম করা হয়েছে। তাদের তদন্ত শেষে রিপোর্ট জমা দেয়ার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর সাত্তার শেখ বলেন, নাজমুল হোসেনের বাড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে। ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যয়নপত্র পেয়েই নাজমুলকে ছাত্রলীগের পদ দিতে আমি সুপারিশ করেছি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন নাজমুল হোসেন বলেন, আমার পরিবার দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পারিবারিক কারণেই ছোটবেলা থেকেই আমিও ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছি। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে।
এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বকু বলেন, নাজমুল হোসেন ছাত্রদলের রাজনীতি করত, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে নাজমুল দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রলীগের মিছিল মিটিংয়ে তাকে দেখেছি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ছাত্রদল নেতা রায়হান রনির ছাত্রলীগে পদ পাওয়া নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়। এর মধ্যে গত ১৯ জুন তাকে ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। আর একই দিন ছাত্রদল তাকে বহিষ্কার করে।