জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ © সংগৃহীত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে জাকসু'র ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ও জিএস মাজহারুল ইসলামের যৌথ স্বাক্ষরে এই বিবৃতি দেওয়া হয়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শাবিপ্রবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্তে আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন স্থগিত করা শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী বলে জাকসু মনে করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচনে যেখানে ১৯৬ জন প্রার্থী অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং হাজারো শিক্ষার্থী উৎসবমুখর ভোটগ্রহণের অপেক্ষায় ছিলেন, সেখানে মাত্র তিনজন আবেদনকারীর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কর্তৃক চার সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক।
জাকসু মনে করে, ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশের সূতিকাগার এবং তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের হস্তক্ষেপে নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা এক ধরনের স্বৈরাচারী আচরণ। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত দাবি ও মতপ্রকাশের সুযোগ ক্ষুণ্ন হচ্ছে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অজুহাতে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার হরণকে অনভিপ্রেত উল্লেখ করে জাকসু জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরাই যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে সক্ষম।
জাকসু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে পুরোনো ফ্যাসিবাদী কায়দায় শিক্ষার্থীদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যারা আইনি ফাঁকফোকর কিংবা মব সৃষ্টি করে নির্বাচন বন্ধের চেষ্টা করছে, তারা শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকেই ভয় পাচ্ছে বলে মন্তব্য করা হয়।
বিবৃতিতে অবিলম্বে শাবিপ্রবি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ওপর থেকে সব ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা প্রত্যাহার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।