ইউটিএলের বিবৃতি
ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের লোগো © সংগৃহীত
আসন্ন বেতন কাঠামোতে যদি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা, দায়িত্ব ও অবদানের যথাযথ প্রতিফলন না ঘটে, তবে তা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে দাবি করেছেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।
আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ইউটিএল-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক এবং সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এক যৌথ বিবৃতিতে জাতীয় বেতন কমিশনের চলমান কার্যক্রম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের পাশাপাশি গবেষণা ও জ্ঞান উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামো প্রণয়নে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ক্ষেত্রে কাঠামোগত বৈষম্য, পদমর্যাদার অবমূল্যায়ন এবং পেশাগত স্বাতন্ত্র্যের প্রতি অবহেলা পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
তারা বলেন, অতীতের বেতন কমিশনের সুপারিশে প্রশাসনিক ও অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে তুলনামূলক কাঠামোর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের স্বতন্ত্র অবস্থান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষক সমাজে হতাশা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মেধাবী তরুণদের শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে, যা দেশের উচ্চশিক্ষার মান ও ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। ইতোমধ্যে গঠিত কমিশনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য বেতন কাঠামোসহ যে সুপারিশমালা তৈরি করা হয়েছে, সেটা কমিশন আমলে নেওয়ায় একজন সম্মানিত কমিশন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগ-ই প্রমান করে বেতন কাঠামো নিয়ে কমিশনের কর্মকান্ড ব্যাপক সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
বিবৃতিতে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)-এর পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে তারা বলেন, নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য পৃথক, সম্মানজনক ও মর্যাদাসম্পন্ন কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গবেষণা প্রণোদনা, আবাসন সুবিধা এবং অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো বাস্তবসম্মত ও সম্মানজনকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। ইউটিএল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, জাতীয় বেতন কমিশনের কার্যক্রমে এখনো পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে পর্যাপ্ত ও কার্যকর পরামর্শের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া ছাড়া গ্রহণযোগ্য বেতন কাঠামো প্রণয়ন সম্ভব নয়। ইউটিএল অবিলম্বে সকল শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ শুরু করার জোর দাবি জানাচ্ছি।