মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসাইন খাঁন © সংগৃহীত
২০২৬ সালের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসাইন খাঁন। তুলনামূলকভাবে আলোচনার বাইরে থাকা এই ছাত্রনেতাকে ঘিরে ছাত্ররাজনীতির অঙ্গনে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন ও কৌতূহল—কে এই সাজ্জাদ হোসাইন?
সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি নানা অর্জনে সমৃদ্ধ সাজ্জাদ হোসাইন খাঁনের জীবন। তার জন্ম ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০০ সালে নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলায়। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের টঙ্গীতে বসবাস করছেন। ২০১৯ সালে টঙ্গীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা থেকে আলিম পাস করেন তিনি। একই বছর ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ৩০তম স্থান অর্জন করলেও আগ্রহ ও পছন্দের বিষয় হিসেবে আরবি সাহিত্যকে বেছে নেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন এবং কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সম্মানজনক ডিনস অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাজ্জাদ স্নাতক পর্যায়ে ৪-এর মধ্যে ৩.৯৯ সিজিপিএ অর্জন করে নিজ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
পড়াশোনার পাশাপাশি সংগঠনিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন সাজ্জাদ হোসাইন খাঁন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রকাশ্য কার্যক্রম শুরুর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় তিনি প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে তিনি গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন।
সাংগঠনিক পরিচয়ের বাইরে সাজ্জাদ হোসাইন খাঁনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিচয়—তিনি একজন লেখক ও অনুবাদক। একক ও যৌথভাবে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৫টি গ্রন্থের অনুবাদ করেছেন তিনি। তার আগ্রহের ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে ইলাহিয়্যাত, উসুল, মাকাসিদ, ইতিহাস, সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সাহিত্য। ইমাম হাসান আল-বান্না, ড. নুরুদ্দিন ইতির, সাইয়্যিদ কুতুব, ড. আবদুল কারিম যাইদান, ড. ইউসুফ আল-কারযাভীসহ বিশ্বখ্যাত আলিম ও গবেষকদের গ্রন্থ অনুবাদের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে অনুবাদ সাহিত্যে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সদস্য সম্মেলনে প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হন সাবেক সেক্রেটারি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান। পরে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে সাজ্জাদ হোসাইন খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।