গুম-খুনে জড়িত কর্মকর্তাদের বিচার করলে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ফিরবে: এস এম ফরহাদ

১১ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৫০ AM
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ

ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদ বলেছেন, সেনাবাহিনীকে সত্যিকারের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হলে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিচার করতে হবে। এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ইগো বা মর্যাদার প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্র, গণতন্ত্র এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ টাইমলাইনে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব মন্তব্য করেন। 

ফেসবুকে স্ট্যাটাসে এস এম ফরহাদ লেখেন, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দুঃশাসনে গুম, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছিল। গুম কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় ১৮শ গুমের অভিযোগ জমা পড়েছে। এর শিকার হয়েছেন সাধারণ নাগরিক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, নারী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির, জামায়াত, বিএনপিসহ আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এমনকি শিশুরাও এই নৃশংসতার থেকে বাদ যায়নি।

তিনি বলেন, এসব গুম, নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে কেবল স্বৈরাচার হাসিনা ও তার আওয়ামী ফ্যাসিবাদই দায়ী নয়; এর সাথে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উচ্চপদস্থ অনেক সদস্যরাও জড়িত। গুমের পর আয়নাঘরে চালানো অমানবিক নির্যাতন সভ্য সমাজে ঘৃণিত ও নিন্দনীয়। রাজনৈতিক ভিন্নমত ও পরিচয়ের কারণে অসংখ্য নাগরিক, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে গুম করা হয়েছে, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করে ‘জঙ্গি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব সাজানো মামলা ভিক্টিমদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করেছে, বহু পরিবারকে নিঃস্ব করেছে এবং সমাজে ভয়ের এক বিভীষিকাময় সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করেছে।

আরও পড়ুন: গুম-খুনের মাস্টারমাইন্ড হাসিনা ও অভিযুক্ত জেনারেলদের অবশ্যই বিচার করতে হবে: সাদিক কায়েম

বিভিন্ন বাহিনীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের ব্যাপারে ফরহাদ বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের গুম ও নির্যাতনের এই ধারাবাহিকতা একভাবে বর্বর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের চিত্র তুলে ধরে। এসব ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের পরিকল্পিত অপব্যবহার এবং মানবাধিকারের নগ্ন লঙ্ঘন। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানকেই দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর প্রভাব সেনাবাহিনীতেও পড়েছিল। যারা র‍্যাব বা ডিজিএফআই কিংবা বিভিন্ন বিশেষ ফ্যাসিবাদী এজেন্ডায় দায়িত্বে ছিলেন, তাদের মধ্য থেকে অনেক কর্মকর্তা গুম, খুন, ক্রসফায়ারসহ নানা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। 

অপরাধে জড়িতদের বিচারের দাবিতে এস এম ফরহাদ বলেন, সেনাবাহিনী বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সেনাবাহিনীকে সত্যিকারের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হলে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিচার করতে হবে। এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ইগো বা মর্যাদার প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্র, গণতন্ত্র এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। ন্যায়বিচার ও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হলে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে না, বরং তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী এবং সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে। চিহ্নিত অপরাধীদের সেইফ এক্সিট তেরীর চেষ্টায় জড়িতদেরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

রাজধানীতে নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষকের আত্মহত্যা
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
ছাত্রদল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
শেরপুরে একই দিনে এক উপজেলা থেকে ৫ মরদেহ উদ্ধার
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
যৌতুকের ৫০ লাখ টাকা না দেওয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন, এসিল্যান্ড…
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের সঙ্গে ডিএনএর মিল পাওয়া গেলো নবজাত…
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
বাবার লাশ রেখে সম্পত্তির বিরোধে দুই ভাইয়ের মারামারি, আহত ৪
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬