জবির আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত © টিডিসি ছবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ছাত্রদলের পক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে আসেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জবি শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম, সাবেক সেক্রেটারি সুজন মোল্লা, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ইব্রাহিম কবীর মিঠু, জবির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন প্রমুখ।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত বলেন, আমি কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করছি। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আরও পড়ুন: বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় উপদেষ্টা মাহফুজের এমআরআই
জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে আবাসন বৃত্তির বরাদ্দ অনুমোদন, জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ মে (মঙ্গলবার) ইউজিসির সাথে এক সভায় আশানুরূপ ফল না পেয়ে শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের উদ্দেশে লংমার্চের ঘোষণা দেয়।
লংমার্চ চলাকালে শিক্ষার্থীদের মিছিল মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলে এবং লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এতে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী এবং কয়েকজন শিক্ষক আহত হন।
পরে শিক্ষার্থীরা কাকরাইল মসজিদের সামনের মোড়ে অবস্থান কর্মসূচিতে যান। রাতের দিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জবির শিক্ষক-প্রশাসকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে কিছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ সময় একজন শিক্ষার্থী একটি প্লাস্টিকের পানির বোতল ছুড়ে মারলে তা মাহফুজ আলমের মাথায় লাগে এবং তিনি স্থান ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
আরও পড়ুন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন ঘোষণা
রাতে টহলরত পুলিশ সদস্যদের সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিতে দেখা যায় বলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যদিও পরবর্তীতে কোনো সহিংসতা হয়নি। তবে শিক্ষার্থীরা এখনো কাকরাইলে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা দেখেছি কীভাবে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে শিক্ষার্থী ও জনগণ ন্যায়সংগত আন্দোলনে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছে। এর সাথে রয়েছে শিক্ষার্থী-জনতার মৌলিক অধিকারের প্রতি স্পষ্ট উপেক্ষা।’