আমানুল্লাহ হক
প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি। টানা এই ১০ বছরে একদিনও স্কুল ফাঁকি দেয়নি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ফুলকুঁড়ি ইসলামিক একাডেমিকের শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ হক। অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্য। কী শীত, কী বর্ষা কিংবা অসুস্থতা- কোন কিছুকেই যেন তোয়াক্কা করেনি আমান।
সাপ্তাহিক ও সরকারি অন্যান্য ছুটি ছাড়া ১০ বছর তথা ৩ হাজার ৬৫০ দিনের প্রতিদিনই স্কুলে উপস্থিত হওয়ার রেকর্ড গড়ায় আমানুল্লাহকে সংবর্ধনা দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আমানের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মিত স্কুলে আসার এমন নজির এই স্কুলে তো বটে; অন্য কোন স্কুলে আছে বলে মনে হয় না। আমি প্রথম শ্রেণি থেকে তাকে নিয়মিত স্কুলে দেখেছি।’
আমানুল্লাহ বলেন, ‘স্কুল খুললেই বাড়িতে আর মন টিকে না। তাই প্রতিদিনই স্কুলের মাঠ, আর ক্লাসরুমেই।’ আমানের ভাষ্য, প্রতিদিন স্কুলে উপস্থিত থাকার ব্যাপারে তার মা-বাবা উৎসাহ জুগিয়েছেন। আমানুল্লাহ জানায়, ‘মা-বাবার ইচ্ছে আমি যেন ডাক্তার হই। আর আমার ইচ্ছে বড় হয়ে যোগ দেব প্রশাসন ক্যাডারে।’ চাপাই শহরের পুরাতন সিএন্ডবি ঘাট এলাকার মোজাম্মেল হক ও আয়েশা বেগমের সন্তান আমান।
জানা যায়, আমান শুধু নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত থাকে নয়; স্কুলে ভর্তির পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণিতেই প্রথম স্থান অধিকার করেছে। স্কুলের স্কাউট দলের সহকারী লিডার সে। বর্তমানে সে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।